বিজ্ঞাপন

অভিবাসীরাই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন

July 17, 2018 | 7:56 pm

।। মুশফিক পিয়াল, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর ।।

বিজ্ঞাপন

ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ফ্রান্স। অথচ ফ্রান্সের জাতীয় দলটি সাজানো হয়েছিল অভিবাসীদের দিয়ে। চূড়ান্ত স্কোয়াডের ২৩ জনের মধ্যে ১৬ জনই ছিলেন অভিবাসী। বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্সের এ দলটিকে নিয়ে আসর শুরুর আগেও সমালোচনা করেছিল পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো। তৃতীয় হওয়া বেলজিয়ামের ১১ জন আর চতুর্থ হওয়া ইংল্যান্ডের ৬ জন ফুটবলার ছিলেন অভিবাসী।

ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী দলটির অভিবাসীরা দেশটির সাবেক উপনিবেশভুক্ত দেশগুলো থেকেই এসেছে। তখন কে জানত এই অভিবাসীরাই জিতে নেবে বিশ্বকাপ! ১৯৯৮ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা নিজেদের কাছে রাখতে পেরেছে ফরাসিরা। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ জয়ী দলটির মূল নায়ক ছিলেন জিনেদিন জিদান। তিনি নিজেও ছিলেন আলজেরিয়ান বংশোদ্ভূত। এনিয়ে বর্ণবৈষম্যের শিকার হতে হয়েছিল এক সময়কার বিশ্বসেরা এই তারকাকে। আলজেরিয়ায় যুদ্ধ শুরু হওয়ায় পর তার বাবা-মা পালিয়ে এসে আশ্রয় নেন ফ্রান্সে।

বিজ্ঞাপন

এবার বিশ্বকাপ জেতাতে মূল ভূমিকা রেখেছিলেন কাইলিয়ান এমবাপে। জন্ম প্যারিসে হলেও এমবাপের বাবা ছিলেন ক্যামেরুনের আর মা ছিলেন আলজেরিয়ার। তাই গণমাধ্যম বলছে, রাশিয়া বিশ্বকাপের উদীয়মান সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার পাওয়া এমবাপেও এক অভিবাসী। তবে, স্টিভ মানদানা আর স্যামুয়েল উমতিতি বাদে বাকি সকল খেলোয়াড়ের জন্ম কিন্তু ফ্রান্সেই। ফ্রান্সের হয়ে ২৮ ম্যাচ খেলা মানদানার জন্ম কঙ্গোতে। আর ১৫ ম্যাচ খেলা উমতিতির জন্ম ক্যামেরুনে।

এছাড়া, পল পগবা ফ্রান্সে জন্ম নিলেও তার দুই ভাই ফ্লোরেন্তিন এবং মাতিয়াস দুজনই জন্ম নিয়েছেন গায়েনায়। তারা খেলেনও গায়েনা জাতীয় দলের হয়ে। পগবার বাবা-মা দুজনই ছিলেন গায়েনার বাসিন্দা। নাইজেরিয়া, সেনেগাল, ক্যামেরুন, আলজেরিয়া, কঙ্গো থেকে আসাদের হাতেই উড়েছে ফ্রেঞ্চ পতাকা। যাদের ‘প্রকৃত’ ফরাসি মাত্র দুইজন, বজানা পাঁভা ও ফ্লোরিয়ান থোভিন। মাতুইদির বাবা অ্যাঙ্গোলা ও মা কঙ্গো থেকে ফ্রান্সে আসেন। একই জায়গা থেকে এসেছিলেন এনজোনজি। এনগোলো কান্তের জন্ম ফ্রান্সে হলেও তার পরিবার এসেছিল মালি থেকে। বার্সায় খেলা ওসমান দেম্বেলের বাবা নাইজেরিয়া ও মা সেনেগাল থেকে এসেছিলেন। নাবিল ফেকিরের বাবা-মা দুজনই আলজেরিয়ান।

এটা নিয়ে কম সমালোচনা হয়নি। কেন ফ্রান্স তাদের জাতীয় দলে অভিবাসী রাখছে সেটা নিয়েও ফুটবল বোদ্ধাদের মাঝে শোরগোল। শরণার্থী ইস্যু সামলানো ও অভিবাসী গ্রহণ করার বিষয়ে বিভক্ত ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা। ইউরোপগামী শরণার্থী ও অভিবাসীদের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারছেন না ইইউ নেতারা। গৃহযুদ্ধের কারণে উদ্বাস্তুর ঢল, ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যের খোঁজে, দারিদ্রতা থেকে বাঁচতে কিংবা খাবার-নাগরিকত্বের লোভ থেকেই অনেকে ফ্রান্সে পাড়ি জমিয়েছেন। আফ্রিকা আর এশিয়া থেকে অভিবাসীদের স্রোত অনেক দিন ধরেই ইউরোপে বহমান।

এক সমীক্ষায় দেখা যায়, রাশিয়া বিশ্বকাপে ইউরোপের ১০টি দেশের ২৩০ জন ফুটবলারদের মধ্যে ৮৩ জনই অভিবাসী ফুটবলার। অভিবাসী ফুটবলারের আধিক্য সবচেয়ে বেশি ছিল ফ্রান্সে। ফ্রান্স জাতীয় দলের ৭৮.৩ শতাংশ ফুটবলার অভিবাসী। সুইজারল্যান্ডের ৬৫.২, বেলজিয়াম ও ইংল্যান্ডের ৪৭.৮, জার্মানির ৩৯.১ ও পর্তুগালের ৩০.৪ শতাংশ ফুটবলার অভিবাসী।

পল পগবা, মাতুইদি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, উমতিতি, কান্তে-কেউই জন্মগতভাবে ফ্রান্সের অধিবাসী নন। ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্স দলে মাত্র দু’জন ছিলেন মূল অধিবাসী। বাকিরা সবাই অভিবাসী। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ের পর অনেকেই বলেছিলেন ‘দ্য রেইনবো টিম’। এবারো অনেকেই বলছেন দ্বিতীয়বার শিরোপা জিততে ফরাসিরা আবারো ‘দ্য রেইনবো টিম’ কাজে লাগিয়েছে।

সারাবাংলা/এমআরপি

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন