বুধবার ২২ মে, ২০১৯ ইং , ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ রমজান, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

রাজধানী জুড়ে অবরোধ, লাঠিচার্জ, বাসে আগুন-ভাঙচুর, ছাত্র রক্তাক্ত

জুলাই ৩১, ২০১৮ | ১:৪৭ অপরাহ্ণ

।। সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট।।

ঢাকা :  নৌমন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৯ দফা  দাবি আদায়ে সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করেছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সকাল থেকে সড়কে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান ও অবরোধ শুরু করেন তারা।

রাজধানীর কুর্মিটোলা এলাকায় জাবালে ‍নুর বাসের চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা মাঠে নেমেছেন। সোমবার (৩০ জুলাই) কুর্মিটোলায় বিমানবন্দর সড়কসহ বিভিন্ন সড়ক বিকেল পর্যন্ত অবরোধ করে রাখেন বিক্ষুব্ধরা। পরে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে বিক্ষুব্ধদের সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

বিজ্ঞাপন

দ্বিতীয় দিনও দাবি আদায়ে অবরোধ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৩১ জুলাই) সকালে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ শুরু করেন। এরপর ফার্মগেট, মিরপুর, তেজগাঁও, ধানমন্ডি, নাবিস্কো, কাকরাইল, শাহবাগ, মতিঝিল মোড় অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।

অবরোধের কারণে ফার্মগেট এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ এসে তাদের সরিয়ে দেয়। একইভাবে শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের সামনে শিক্ষার্থীরা অবরোধ করার চেষ্টা করলে সেখান থেকেও তাদের সরিয়ে দেয় পুলিশ।

দুপুরে মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বরে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া দেয় । এ সময় পুলিশের লাঠিচার্জে মাথায় আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত হন মিরপুর শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজের এক শিক্ষার্থী।

এছাড়াও গুরুতর আহত হয় আরও দুইজন। আহতদের মিরপুর গ্যালাক্সি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত তিনজন হলেন, আব্দুল হাদী, স্বপ্নীল ও উদয়। এরা সবাই মিরপুর শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজের ছাত্র। হাদীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে প্রথমে মার্কস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, সেখান থেকে গ্যালাক্সি হাসপাতাল এরপর সেখান থেকে আগারগাঁও নিউরো সাইন্স হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আর বাকী দুজনকে চিকিৎসা দিয়ে  বাসায় পাঠানো হয়েছে।

মিরপুর বিভাগের উপ কমিশনার মাসুদ আহমেদ জানিয়েছেন, ছাত্ররা অতর্কিত গাড়ি ভাংচুর করছিলেন। আমরা বাধা দেওয়ায় তারা পুকিশের ওপর হামলা চালায়। এরপর পুলিশ ধাওয়া দেয় ও লাঠি চার্জ করে। পুলিশের ৮/১০ জন আহত হয়েছে বলে জানান তিনি।

এস

অন্যদিকে ধানমন্ডির সিটি কলেজের শিক্ষার্থীরাও সড়কে নেমে এসে বিক্ষোভ-অবরোধ করেন। এ সময় ধানমন্ডি ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে হিমাচল পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেয় বিক্ষুব্ধরা। এছাড়া বেশ কয়েকটি বাসে ভাঙচুর করা হয়।

দুপুরের দিকে পুলিশ ধাওয়া দিলে সিটি কলেজ এলাকা থেকে ছাত্ররা সরে যায়। এরপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

দুপুর পৌনে ১ টার দিকে বেসরকারি সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা নাবিস্কোর সামনের রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।

‘আমার ভাই মরল কেন, বিচার চাই বিচার চাই’, ‘আমার বোন মরল কেন, নৌ মন্ত্রী জবাব চাই’, ‘আমার সোনার বাংলায় নিরাপদ সড়ক চাই’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ ইত্যাদি স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে নাবিস্কো মোড়।

এছাড়া রাজধানীর ব্যস্ত চত্বর মতিঝিলের শাপলা চত্বর অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থীরা। ফলে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

একই অবস্থা শাহবাগের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়ক এবং রামপুরা- বাড্ডা সড়কেরও। বাড্ডায় বিক্ষোভে রাস্তায় নেমেছেন ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম সারাবাংলাকে জানান, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের কারণে বাড্ডা রামপুরা সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে যানজট।

নাবিস্কো মোড়ে বিক্ষোভরত সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী কামাল তালুকদার সারাবাংলাকে বলেন, ‘ছোট ভাই-বোনদের হত্যা করা হয়েছে। এভাবে আর কত মায়ের কোল খালি হবে? বিবেকবোধ থেকে আমরা রাস্তায় নেমেছি। যাতে এর পরিত্রাণ ঘটে। আমরা শান্তিপুর্ণ আন্দোলন করছি।’

এ বিষয়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রশিদ বলেন, ‘হঠাৎ করে তারা এসে রাস্তায় দাঁড়িয়েছে। উভয় দিকের সড়কে যান চলাচল বন্ধ আছে। চেষ্টা চলছে যাতে রাস্তা ছেড়ে দিয়ে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা।’

গত রোববার (৩১ জুলাই) কুর্মিটোলা এলাকায় জাবালে নুর বাসের চাপায় রমিজ উদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। এর ঘণ্টাখানেক পর নৌমন্ত্রী ওই দুর্ঘটনার বিষয়ে সচিবালয়ে হাসিমুখে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

মন্ত্রী এ সময় জানতে চান ভারতের মহারাষ্ট্রে ৩৩ জন মারা গেছে। এটি নিয়ে কোনো হৈ চৈ হয় না। বাংলাদেশে দুইজন মারা গেছে এটি নিয়ে এত হৈ চৈ কেন?

নৌ-মন্ত্রীর এই প্রতিক্রিয়া ভাইরাল হওয়ায় মন্ত্রীর পদত্যাগ ও নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আলটিমেটাম দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

অবশ্য মঙ্গলবার মতিঝিলে এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেছেন, ‘আমি এ ঘটনায় দুঃখিত ও লজ্জিত। শোকগ্রস্ত সকলের প্রতি আমি সমবেদনা জানাচ্ছি।’

সারাবাংলা/ইউজে/এসএমএন/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন