বিজ্ঞাপন

জনাব, শেখ মুজিব ভাই

August 15, 2018 | 6:27 pm

।। স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট ।।

বিজ্ঞাপন

ঢাকা: সাদা একটি এনভেলপ। ডানে ওপরের দিকে দুইটি ৫ পয়সার স্ট্যাম্প, এর নিচে ১০ পয়সার আরেকটি স্ট্যাম্প। এনভেলপের মুখটা একটু এবড়ো-থেবড়োভাবে ছেঁড়া।

জনাব, শেখ মুজিব ভাইধবধবে সাদা এনভেলপের ওপরে নীল কালিতে লেখা,

বিজ্ঞাপন

‘জনাব,

শেখ মুজিব ভাই

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ-ঢাকা’

নীল কালিতে লেখা এই সাদা এনভেলপের ছবি ঘুরে বেড়াচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। ‘বাঙালীয়ানা’ নামের একটি ফেসবুক পেজ এই এনভেলপের ছবিটি পোস্ট করেছে আজ বুধবার (১৫ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে।

বিজ্ঞাপন

ছবিটির ক্যাপশনে ‘বাঙালীয়ানা’ লিখেছে, ‘একজনই প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, যিনি ভাই হতে পেরেছিলেন।’ তবে ছবিটি কে লিখেছিলেন, কবে লিখেছিলেন— তার কোনো তথ্য জানাতে পারেনি ফেসবুক গ্রুপটি।

জনাব, শেখ মুজিব ভাই

আজ ১৫ আগস্ট, জাতীয় শোক দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সেনাবাহিনীর একদল কর্মকর্তা ও সৈনিকের হাতে সপরিবারে জীবন দিতে হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে অর্ধনমিত রাখা হয়েছে জাতীয় পতাকা। বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি জাতীয়ভাবে পালন করা হচ্ছে।

এর আগে, বুধবার সকালে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জনাব, শেখ মুজিব ভাই

জাতীয় শোক দিবস এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করতে অনেকেই আবার বেছে নিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক।

তাদের হাত ধরেই নীল কালিতে লেখা এই এনভেলপটি ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুকজুড়ে। সেখানে শেয়ারকারীরা লিখেছেন, একজন মানুষকে কত ভালোবাসলে দেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভাই বলে সম্বোধন করা যায়। একজনই প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, যিনি ভাই হতে পেরেছিলেন।

সাংবাদিক শেরিফ আল সায়ার ছবিটি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘একজন নেতাকে কত ভালোবাসলে মানুষ দেশের প্রধানমন্ত্রীকে লিখতে পারেন— শেখ ‍মুজিব ভাই।’

আবিদ অর্ণব ছবিটি শেয়ার করে একটি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন— ‘ভাই! এমন কেউ কি আসবে আর কোনোদিন?’

জনাব, শেখ মুজিব ভাই

বাঙালি জীবনে আর কেউ এমন করে আসবে না, তেমন মনে করেন নাসিফ আনোয়ার। তিনি লিখেছেন, ‘শেষ উনিই ছিলেন, সবচেয়ে কাছাকাছি, ভাই-এর মতো।’

ফাহমিদ তাপসি লিখেছেন, ‘হৃদয়ে স্থান পাওয়ার জন্য অনেক কিছু করার প্রয়োজন নেই।

শ্রদ্ধা জাতির পিতার প্রাপ্য।’

একই কথা লিখেছেন সাংবাদিক ফাতেমা আবেদিন নাজলাও। তিনি এনভেলপের পোস্টটি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘একটা দেশ ছিল, যে দেশে প্রধানমন্ত্রীকে ভাই বলা যেত।’

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে ঘাতকরা বঙ্গবন্ধু ছাড়াও তার স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, শেখ কামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল, শেখ জামালের স্ত্রী রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই শেখ নাসেরকে হত্যা করে। সেই রাতেই নিহত হন বঙ্গবন্ধুর বোনের স্বামী আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ, মেয়ে বেবী ও শিশুপৌত্র সুকান্ত বাবু, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি, নিকট আত্মীয় শহীদ সেরনিয়াবাত ও রিন্টু। ধানমন্ডির বাড়িতে পুলিশের বিশেষ শাখার উপপরিদর্শক সিদ্দিকুর রহমান ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিলকেও গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা দেশের বাইরে থাকায় সে সময় প্রাণে বেঁচে যান। বঙ্গবন্ধুকে জন্মস্থান গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় দাফন করা হলেও পরিবারের অন্য সদস্যদের ঢাকার বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

আরও পড়ুন-

ঢাবিতে হাতে আঁকা বঙ্গবন্ধুর সর্ববৃহৎ প্রতিকৃতি

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে কাজ করার আহ্বান প্রধান বিচারপতির

জীবিত মুজিবের চেয়ে মৃত মুজিব অনেক বেশি শক্তিশালী: ঢাবি উপাচার্য

সারাবাংলা/জেএ/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন