সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৪ ফাল্গুন ১৪২৬, ২২ জমাদিউস-সানি ১৪৪১

‘সুন্দরবন রক্ষায় ১০ মাসেও কোনো জবাব মেলেনি সরকারের তরফ থেকে’

আগস্ট ২৭, ২০১৮ | ৮:২৪ অপরাহ্ণ

।। স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট ।।

বিজ্ঞাপন

ঢাকা: যারা সুন্দরবন রক্ষায় আন্দোলন করছে তারা কেউই এই বিষয়ের বিশেষজ্ঞ নন এবং তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে সুন্দরবনে যে পরিবেশের ক্ষতি হবে, এই বিষয়েও তাদের কাছে বৈজ্ঞানিক কোনো ব্যাখ্যা নেই।

সরকারের এমন বক্তব্যের পর গত ১০ মাস আগে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের কাছে ১৩টি গবেষণা প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ চলমান ৩২০টি প্রকল্প চলমান থাকলে সুন্দরবনের কী ক্ষতি হতে পারে, তা ওইসব প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। ১০ মাস আগের জমা প্রতিবেদনের বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে এখনো কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আয়োজনে ‘জাতিসংঘের সর্বশেষ দৃঢ় বিবৃতি, সুন্দরবন রক্ষায় অবিলম্বে রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বেপোয়ারা শিল্প স্থাপন বন্দের দাবিতে’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা ওপরের কথাগুলো বলেন।

সংবাদ সম্মেলনটি সোমবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে অনুষ্ঠিত হয়।

সাবেক তত্ত্বাবধায় সরকারের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, ‘ইউনেসকোর লোকজন খেদের সঙ্গে বলেছে যে সুন্দরবনকে রক্ষার দায়িত্ব যাদের তারা যদি সেই রক্ষণাবেক্ষণের মূল্য না বোঝে তবে কী করার আছে। ইউনেসকো গত ২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি দিয়ে জানতে চাচ্ছে যে সুন্দরবনে কী করা হচ্ছে। কিন্তু এসব চিঠির কোনো জবাব দেওয়া হচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার ফুসফুস হচ্ছে সুন্দরবন। সরকার বলছে যে আমরা যারা সুন্দরবন রক্ষার জন্য কথা বলছি তাদের কেউই এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নন এবং সুন্দরবন রক্ষায় দাবির পেছনে কোনো বৈজ্ঞিনিক ভিত্তি নেই। অথচ এখন থেকে ১০ মাস আগে সরকারের সিনিয়র সচিব (আবুল কালাম আজাদ) এর কাছে সুন্দরবন রক্ষায় ১৩টি গবেষণা প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। ওই প্রতিবেদনগুলো বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ দিয়ে প্রস্তুত করা। কিন্তু এখনো কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।’

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বদরুল ইমাম বলেন, ‘বেশ কিছুদিন আগে সরকার একটি সার্কুলার জারি করেছে। ওই সার্কুলারে বন বিভাগের স্থাপনার মধ্যে সর্বোচ্চ ঝুকিতে থাকা রেড ক্যাটাগরির প্রকল্পগুলোকে রাতারাতি গ্রিন (পরিবেশ সহায়ক এবং ক্ষতিকারক নয়) ক্যাটাগরিতে পরিবর্তন করা হয়েছে। অথচ রেড থেকে গ্রিণে আনা বেশির ভাগই প্রকল্পই এলপিজি ভিত্তিক।’

টিআইবির ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘উন্নয়নের নামে সুন্দরবন কিছু শিল্প মালিকের হাতে বন্দি হয়েছে। উন্নয়নের নামে এসব শিল্প মালিকের হাতে দেশের ভবিষ্যত, মত প্রকাশের স্বাধীনতা জিম্মি হয়ে আছে। এটা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।’

সাংবাদিক আবুল মকসুদ বলেন, ‘সুন্দরবনের তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্প একটি অস্বচ্ছতার দৃষ্টান্ত। এই প্রকল্পের স্বচ্ছতা আনার জরুরি। এটি একটি সর্বনাশা প্রকল্প।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুলতানা কামাল বলেন, ‘জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ জন নক্স এক বিবৃতিতে বলেছেন, বাংলাদেশকে অবশ্যই সুন্দরবন সংরক্ষিত বনের মধ্যে শিল্পায়ন বন্ধ করতে হবে, যা বিশ্বের এই বৃহত্তম জলীয় শ্বাসমূল সম্পন্ন বা ম্যানগ্রোভ বন সংলগ্ন একটি বিশেষ সত্তা।’

বিশেষজ্ঞ জন নক্স এর মন্তব্য উল্লেখ করে সুলাতানা কামাল বলেন, ‘অধিক শিল্পায়ন শুধুমাত্র এই বনের অনন্য রয়েল বেঙ্গল টাইগার, গাঙ্গেয় নদী-ডলফিন ও অন্যান্য বিপদাপন্ন প্রাণী ধারণকারী পরিপার্শকতার (ইকোসিস্টেম) উপরই হুমকি নয় বরং ৬৫ লাখ অধিবাসী যাদের জীবন, স্বাস্থ্য, বসতি, খাদ্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড টেকসই সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল।’

সংবাদ সম্মেলনে সুন্দরবন রক্ষায় ৫টি সুপারিশ পেশ করা হয়। এগুলো হচ্ছে, ইউনেসকো ঘোষিত সংরক্ষিত এলাকায় তাপ বিদ্যুৎসহ সকল প্রকল্প বন্ধ করতে হবে। তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্পের বাইরে যে ৩২০টি প্রকল্প রয়েছে তা বন্ধ করতে হবে। বনবিভাগের জনবল বাড়াতে হবে।

সারাবাংলা/জেআইএল/এমআই

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন