শুক্রবার ২৪ মে, ২০১৯ ইং , ১০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ রমজান, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

‘যা ইচ্ছা সাজা দিন, আমি আর আসতে পারব না’

সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৮ | ১২:৫৭ অপরাহ্ণ

।। সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট ।।

ঢাকা: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘আমার শারীরিক অবস্থা ভালো না। আমার পা ফুলে গেছে। ডাক্তার বলেছে, পা ঝুলিয়ে রাখা যাবে না। এখানে আমি আদালতে বারবার আসতে পারব না। আপনাদের যা মনে চায়, যতদিন ইচ্ছা সাজা দিয়ে দেন।’

বুধবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে হাজির হয়ে খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় কেন্দ্রীয় কারাগারে অস্থায়ী এই আদালত বসানো হয়। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার রায়ে এই কারাগারে সাজা ভোগ করছেন খালেদা জিয়া।

মামলার শুনানির আগের দিন আদালত স্থানান্তর করতে গেজেট জারি করায় ক্ষোভ জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, এই মামলায় শুনানির জন্য আজকের দিন তো আগে থেকেই ঠিক করা ছিল। কিন্তু একদিন আগে তড়িঘড়ি করে আদালত স্থানান্তর করে গেজেট দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ন্যায়বিচার বলে কিছু নাই। অবিচার হচ্ছে। কথা বলা যায় না। ইচ্ছামতো আপনারা যা খুশি সাজা দিয়ে দেন।

এদিন দুপুর ১২টা ১৪ মিনিটে খালেদা জিয়াকে কারাগারে তার কক্ষ থেকে হুইল চেয়ারে করে আদালতের এজলাসে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আদালতের কার্যক্রম শেষে এরপর হুইল চেয়ারে করে তাকে কারাগারে নিজ কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরে আদালত থেকে বেরিয়ে কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে ঢাকা বারের সভাপতি বিএনপিপন্থী আইনজীবী গোলাম মোস্তফা খান সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়া আদালতে হাজির হয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমার বাম পা সোজা হয়ে থাকে, বাঁকা করতে পারি না। বাম হাতও একেবারেই চলে না।’ তিনি কাঁপছিলেন। হুইল চেয়ার থেকে চেয়ারে বসতে পারেন না। তিনি আদালতকে বলেন, ‘মামলা যেভাবে চলে চলুক, আমি আর আসতে পারব না।’

গোলাম মোস্তফা আরও বলেন, “খালেদা জিয়া আদালতকে আরও বলেন, ‘আপনারা সাজা দেওয়ার জন্যই তো এই আদালত পরিচালনা করছেন। আদালত তো আমার কথা শোনেনই না, শুনতেই চান না। নেমে চলে যান। আজ তাও সামনে দিয়ে গেলেন। এই মামলায় ১২/১৩ তারিখ পরবর্তী দিন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রিপোর্ট দেখলে বুঝতেন আমার শরীরের অবস্থা কী। সুতরাং আমি আর আসতেই পারব না। এই কোর্ট তো সাজা দেওয়ার জন্যই। আপনাদের যা ইচ্ছা সাজা দিয়ে দেন, আমি আর আসতে পারব না। আমি তো আর পারতেছি না।”

এদিন আদালতে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা উপস্থিত না থাকায় আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন আদালত।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয় খালেদা জিয়ার। এ বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি ওই মামলার রায় ঘোষণার পর ওই দিনই তাকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে আসা হয়। সেখানেই সাজা ভোগ করছেন তিনি।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলারও অন্যতম আসামি খালেদা জিয়া। কারাগারে আসার পর উন্নত চিকিৎসা না পেয়ে শারীরিকভাবে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন তারা আইনজীবীরা ও বিএনপি নেতারা। সে কারণে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার কয়েকটি শুনানিতে তিনি হাজির হতে পারেননি। সর্বশেষ গত ৭ আগস্ট মামলাটি যুক্তিতর্ক শুনানিতেও অসুস্থতার কারণে খালেদা জিয়াকে কারা কর্তৃপক্ষ আদালতে উপস্থিত করেনি। এই পরিস্থিতিতে মামলার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারেই আদালত স্থাপনের আবেদন জানানো হয় বলে জানান মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। সেই আবেদন অনুযায়ী কারাগারে আদালত স্থানান্তরের গেজেট প্রকাশ করে আইন মন্ত্রণালয়।

আরও পড়ুন-

বসছে আদালত, পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগার ঘিরে কড়া নিরাপত্তা

সারাবাংলা/এজেডকে/টিআর

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন