array(4) {
  [0]=>
  string(106) "https://sarabangla.net/wp-content/uploads/2018/09/41141832_322544518481759_1396714886393757696_n-30x23.jpg"
  [1]=>
  int(30)
  [2]=>
  int(23)
  [3]=>
  bool(true)
}
array(4) {
  [0]=>
  string(106) "https://sarabangla.net/wp-content/uploads/2018/09/41073071_293568678136518_4930535882152214528_n-30x23.jpg"
  [1]=>
  int(30)
  [2]=>
  int(23)
  [3]=>
  bool(true)
}
array(4) {
  [0]=>
  string(106) "https://sarabangla.net/wp-content/uploads/2018/09/41149326_323622148217257_5159122154838556672_n-30x23.jpg"
  [1]=>
  int(30)
  [2]=>
  int(23)
  [3]=>
  bool(true)
}
array(4) {
  [0]=>
  string(106) "https://sarabangla.net/wp-content/uploads/2018/09/41172643_242297443149132_1382576992221659136_n-30x23.jpg"
  [1]=>
  int(30)
  [2]=>
  int(23)
  [3]=>
  bool(true)
}
array(4) {
  [0]=>
  string(107) "https://sarabangla.net/wp-content/uploads/2018/09/41188574_1993068320753531_1141080142332821504_n-30x23.jpg"
  [1]=>
  int(30)
  [2]=>
  int(23)
  [3]=>
  bool(true)
}
array(4) {
  [0]=>
  string(106) "https://sarabangla.net/wp-content/uploads/2018/09/41187003_940120782839778_5441693104123936768_n-30x23.jpg"
  [1]=>
  int(30)
  [2]=>
  int(23)
  [3]=>
  bool(true)
}
array(4) {
  [0]=>
  string(106) "https://sarabangla.net/wp-content/uploads/2018/09/41283129_681843462174889_8103663291009597440_n-30x23.jpg"
  [1]=>
  int(30)
  [2]=>
  int(23)
  [3]=>
  bool(true)
}
array(4) {
  [0]=>
  string(106) "https://sarabangla.net/wp-content/uploads/2018/09/41141832_322544518481759_1396714886393757696_n-30x23.jpg"
  [1]=>
  int(30)
  [2]=>
  int(23)
  [3]=>
  bool(true)
}
array(4) {
  [0]=>
  string(106) "https://sarabangla.net/wp-content/uploads/2018/09/41073071_293568678136518_4930535882152214528_n-30x23.jpg"
  [1]=>
  int(30)
  [2]=>
  int(23)
  [3]=>
  bool(true)
}
array(4) {
  [0]=>
  string(106) "https://sarabangla.net/wp-content/uploads/2018/09/41149326_323622148217257_5159122154838556672_n-30x23.jpg"
  [1]=>
  int(30)
  [2]=>
  int(23)
  [3]=>
  bool(true)
}
array(4) {
  [0]=>
  string(106) "https://sarabangla.net/wp-content/uploads/2018/09/41172643_242297443149132_1382576992221659136_n-30x23.jpg"
  [1]=>
  int(30)
  [2]=>
  int(23)
  [3]=>
  bool(true)
}
array(4) {
  [0]=>
  string(107) "https://sarabangla.net/wp-content/uploads/2018/09/41188574_1993068320753531_1141080142332821504_n-30x23.jpg"
  [1]=>
  int(30)
  [2]=>
  int(23)
  [3]=>
  bool(true)
}
array(4) {
  [0]=>
  string(106) "https://sarabangla.net/wp-content/uploads/2018/09/41187003_940120782839778_5441693104123936768_n-30x23.jpg"
  [1]=>
  int(30)
  [2]=>
  int(23)
  [3]=>
  bool(true)
}
array(4) {
  [0]=>
  string(106) "https://sarabangla.net/wp-content/uploads/2018/09/41283129_681843462174889_8103663291009597440_n-30x23.jpg"
  [1]=>
  int(30)
  [2]=>
  int(23)
  [3]=>
  bool(true)
}

সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৪ ফাল্গুন ১৪২৬, ২২ জমাদিউস-সানি ১৪৪১

তামান ফেস্টিভাল: ভূতুরে এক বিনোদন পার্ক

সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৮ | ৩:২৫ অপরাহ্ণ

।। মাকসুদা আজীজ, অ্যাসিস্ট্যান্ট এডিটর।।

বিজ্ঞাপন

বিনোদন পার্ক বলতেই মাথায় আসে হই-হুল্লোড়রত নানা বয়েসী মানুষের সমাগম, হরেক রকমের রাইড, গরম পপকর্নের গন্ধ আর তার সঙ্গে অবিরত বেজে চলা বাদ্যের আওয়াজ। কিন্তু ব্যতিক্রম ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের আজব এক বিনোদন পার্ক। ‘তামান ফেস্টিভাল’ নামের পার্কটি পরিত্যক্ত এবং ভূতুরে। এখানে স্তব্ধতা এতটাই প্রকট যে ভূতেরাও সম্ভবত এ এলাকা এড়িয়ে চলে।

ভেবেছেন এটা বুঝি সাজানো কোনো ভূতুরে পার্ক? দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে নতুন কোনো ব্যবসায়িক ধান্দা? একদম না। তামান ফেস্টিভাল সত্যিকারের এক হতভাগা এবং পরিত্যক্ত ভূতুরে পার্ক। এখানে সহসা তেমন কেউ আর আসে না। আসলেও আনন্দ নিয়ে ফিরে না। এ এক অন্য অনুভূতি। হারিয়ে যাওয়ার, হারিয়ে ফেলার অর্বাচীন আতঙ্ক, যা মনে করিয়ে দেয় একদিন এখানেও আনন্দ ছিল, তবে আজ শূন্যতা ছাড়া কিছুই নেই।

বিজ্ঞাপন

ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপাঞ্চলীয় প্রদেশ বালির আয়তন গোটা বাংলাদেশের চেয়েও বেশি। প্রতি বছর লাখ লাখ পর্যটক এখানে বেড়াতে আসে। এখানে একই সঙ্গে রয়েছে পাহার, সাগর আর আগ্নেয়গিরি। প্রকৃতি এখানে দারুণভাবে পবিত্র আর স্নিগ্ধ। তার উপর রাক্ষস যুগের হিন্দু ধর্মের প্রাচীন সভ্যতা মিলে মিশে বালিকে অনেক বছর ধরে বিশ্বের এক নম্বর পর্যটন কেন্দ্র করে রেখেছে। তবে এগুলোও মূল কারণ না।

বালিতে পর্যটন শিল্প গড়ে উঠার অন্যতম কারণ এখানকার স্বল্প ব্যয়ে সাধ্যমতো চাহিদা বাস্তবায়নের সুযোগ। ইউরোপ আমেরিকানদের জন্য তো বটেই, আমাদের মতো নুন আনতে পান্তা ফুরানো দেশের মানুষেরাও রাজার হালে এই স্থানে প্রকৃতিকে আপন করে পেতে পারে শুধুমাত্র প্লেনের ভাড়া দিয়েই। বাদ বাকি আমাদের মতোই দাম। এমনকি দামাদামিও করা যায় বেশ। আর সেই দামে পাওয়া যায় প্রকৃতির কোলে চমৎকার শৈল্পিক জীবন।

এরকম একটা জায়গায় যেকোনো প্রমোদ কেন্দ্র গড়ে তুললে তা আর যাই হোক ঠকে যাওয়ার কথা না। এটা মাথায় রেখেই ১৯৯৭ সালে বালির সানুর পোর্ট এলাকায় গড়ে উঠেছিল ‘তামান ফেস্টিভাল’।

কী ছিল তামান ফেস্টিভালে? এর চেয়ে বরং জিজ্ঞেস করা সহজ কী ছিল না তামান ফেস্টিভালে। লোকে বলে, অমন দারুণ একটা থিম পার্ক সে সময় দ্বিতীয়টি ছিল না কোথাও। এমনকি কেউ কেউ তো এমনও বলে থাকেন যে, তামান ফেস্টিভাল অনায়াসেই হারিয়ে দিতে পারত ডিজনিল্যান্ড বা ইউনিভার্সাল স্টুডিওর মতো থিম পার্কগুলোকে।

কিন্তু আসলেই কেমন ছিল তামান ফেস্টিভাল তা আর বোঝার জো নেই এখন। তামান ফেস্টিভাল এখন এক শুনশান এলাকা। সেখানে ঢুকতেই প্রথম মন খারাপ হয়ে যায় আশপাশের মানুষের দারিদ্র দেখে। যেখানে দোকান বসানোর জন্য এলাকার ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হওয়ার কথা ছিল, বসার কথা ছিল বিশ্বের সব নামী দামী ফুডচেইনের দোকান, সেখানে এখন সাধারণ কোকাকোলাও পাওয়া দুষ্কর। কারণ এই কোকাকোলা খাওয়ার টাকাও নেই এখানের বাসিন্দাদের। নিজেরাই সম্ভবত লেবেল এঁটে বাড়িতে বানানো শরবতের মতো কিছু বানিয়ে ফেলেছে, যার নামটিও কোকাকোলার মতোই। দীনতা সেখানে এতটাই স্পষ্ট যে, চোখে দেখেই বলে দেয়া যায়- এগুলো না খাওয়াই ভালো।

তামান ফেস্টিভালে ঢুকার আগেই চোখে পড়বে দুটি গোলগাল পৌরাণিক শিশুর মূর্তি। তারা দৌড়ে যাছে আনন্দের খোঁজে। এটাই হয়তো ছিল তামান ফেস্টিভালের বৈশিষ্ট্য। এখানে পশ্চিমের থিম পার্কের ধারণা এসে মিশেছিল বালির নিজস্ব সংস্কৃতির সঙ্গে।

ভেতরে ঢুকতেই বিরাট উদ্যান সোজা নেমে গেছে একটা পুকুরে। ডানে বিশাল এক পিতলের কাঠামো। বলে দেয় এখানে একটা দারুণ উত্তেজক রাইড ছিল, কিন্তু সেটা যে কী তা এখন হাজার গুল্ম লতার ফাঁক গলে বোঝার উপায় নেই। বামে বিশাল বিশাল সব ঘর, সবগুলোই ফাঁকা। এমনকি ছাঁদগুলো ভেঙ্গে পড়েছে। চৌকাঠের পোড়া শরীর বলছে, খুব শুভ কিছু হয়নি এই পার্ককে ঘিরে।

১৯৯৮ সালে যখন তামান ফেস্টিভাল সবার জন্য খুলে দেওয়া হয়, তখন এই পরিণতির কথা কেউ ভাবতেও পারেনি। অথচ ২০০০ সালে মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে বন্ধ হয়ে যায় তামান ফেস্টিভাল।

ঠিক কী হয়েছিল এখানে কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারে না। ১৯৯৮ থেকে ২০১৮ কমটা সময় তো নয়। আবার এমনও হতে পারে কেউ এটা সম্পর্কে বলতে চায় না। লোকমুখে অনেক কথা প্রচলিত আছে। কেউ বলে, আর্থিক ক্ষতি কুলাতে পারেনি মালিক তাই ক্রমেই বন্ধ হয়ে যায় তামান। সময়টাও খারাপ ছিল, কারণ তখন অনেক দেশেই দেখা দিয়েছিল অর্থনেতিক মন্দা। কেউ কেউ এও বলেন যে, বালির দেবতাদের সায় ছিল না এমন একটা পার্ক নির্মাণে। সমুদ্র দেবতা তার পাশে এমন এক থিম পার্ক মেনে নিতে পারেনি। ফলে এখন এখানে শুধু সমুদ্রের শোঁ শোঁ আওয়াজ পাওয়া যায়, আর কিছুই না।

এতসব গল্পের মধ্যে পোড়া চৌকাঠগুলোকে মেলানো যায় না কিছুতেই। হতে পারে খালি পার্কে আগুন লেগেছিল। হতে পারে আগুন লাগার পরেই পার্ক খালি হয়েছিল। এমনও হতে পারে জন বিবর্জিত এই পার্কে এখন যারা আসা যাওয়া করে তারাই সম্প্রতি লাগিয়েছে এই আগুন। কিন্তু কাগজে কলমে এইসব ঘটনার কোনো অস্তিত্ব নেই।

বিশাল খোলা প্রান্তরে নিজের মতো জগত তুলে নিয়েছে সবুজ লতা। খুব শখ করে লাগানো গাছগুলোও এখন নিজের মাপে সাম্রাজ্য সাজিয়েছে। ঢেকে ফেলেছে তামানের সাজানো কাঠামো।

খালি এইসব দালানের দেয়ালে গ্রাফিতি বা বিশাল দেয়ালচিত্র আকার জন্য বেছে নিয়েছে ভবঘুরে শিল্পীরা। যদিও পৃথিবীর অনেক দেশে গ্রাফিতি আঁকা অন্যায়। কিন্তু তামানের এই গ্রাফিতিগুলোই তামানের একমাত্র পরিচয়। কে বা কারা এসে নিয়মিত গ্রাফিতি এঁকে যায়। সেখানে আধ্যাত্মিক চিত্র থেকে শুরু করে সাধারণ কার্টুন, পোর্ট্রেট, মডার্ন আর্ট সবই আছে। এতকিছুর মধ্যেও হঠাৎ রহস্যময়ভাবেই বের হয়ে আসে তামানের সত্যিকার কিছু চিত্র। হয়তো কোনো রাইডে উঠার আগের নির্দেশনা বাণী অথবা কোনো পরিত্যক্ত ফিল্ম।

তামান ফেস্টিভালের ভাববস্তু ছিল কুমির। এখানে সেখানে নানান পোজে দাঁড়িয়ে থাকা কুমিররা বলে দেয় কুমির চরিত্রটিকে নিয়ে তাদের দারুণ একটা পরিকল্পনা ছিল। এমনকি জ্যান্ত কিছু কুমিরও আনা হয়েছিল তামানের জলাশয়ে রাখার জন্য। সব কিছু পরিত্যক্ত হওয়া পরে এখন শুধু সেই কুমিরগুলোই বেঁচে আছে তামানের প্রাঙ্গণে। এখনও যারা আগ্রহ নিয়ে তামানে যায় তাদের থেকে নামে মাত্র কিছু অর্থ নেওয়া হয় এইসব কুমিরদের সহায়তার জন্য।

ভীষণ শূন্যতায় ঘেরা এই পার্কটি কখনই আর জেগে উঠবে না প্রাণের স্পন্দনে। শুধু বাড়তে থাকা সবুজের সাম্রাজ্য বলবে এই পৃথিবী তাদের ছিল, একদিন তারাই আবার বুঝে নেবে তাদের স্থান। মাঝে পড়ে থাকা পাথরের মূর্তিগুলো বেঁচে থাকবে মানুষের সভ্যতার ক্ষয়ে যাওয়া চিহ্ন বহন করে।

ছবি: ফয়সাল কবীর

সারাবাংলা/এমএ/এএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন