শনিবার ১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ৩ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

মুমূর্ষু ফতুল্লা বাঁচবে তো?

অক্টোবর ২২, ২০১৮ | ৪:৩৪ অপরাহ্ণ

বিজ্ঞাপন

।। জাহিদ-ই-হাসান,স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট।।

ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম এখন হয়তো কাতরাচ্ছে দুঃখে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতপ্রাপ্ত এই স্টেডিয়ামে প্রায় তিন বছরের বেশি সময় ধরে গড়াচ্ছে না কোনও আন্তর্জাতিক ম্যাচ! সঠিক পরিকল্পনা আর তত্ত্বাবধানের অভাবে হারাচ্ছে মান। হারাচ্ছে যোগ্যতা। শঙ্কাটা তাই অনুমিতভাবেই সামনে চলে আসছে- বাঁচবে তো ফতুল্লা!

ধীরে ধীরে স্টেডিয়ামের অবকাঠামোয় ‘পচন’ ধরে গেছে। স্টেডিয়ামজুড়ে একটা উটকো গন্ধ ছড়িয়ে আছে, ভেঙে গেছে একাডেমি ভবনের ছাদ, অকার্যকর মেডিকেল রুম ও জিমনেসিয়াম, প্রেস বক্সের কাঁচ চুরমার, ভঙ্গুর ডিজিটাল স্কোরবোর্ড কার্যত স্টেডিয়ামের করুণ দৈনদশাকে আঙ্গুল দিয়ে দেখাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থা অপরিবর্তীত।

বিজ্ঞাপন

ফতুল্লার দুঃখ যখন বৃষ্টিঃ

স্টেডিয়ামের চারপাশে গড়ে উঠেছে অগণিত বিল্ডিং ও কারখানা। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের হাইওয়ে পাশে বেশ নিচু জায়গা তৈরি হওয়া এই স্টেডিয়ামের দুঃখ বলতে বৃষ্টি। সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় স্টেডিয়াম। তাতে শহরের নোংরা পানি এসে জমে যায় স্টেডিয়ামে। আশপাশের কারখানার বর্জ্য আর পয়ঃনিষ্কাশনের জায়গা যেন হয়ে উঠে স্টেডিয়ামটি। ভাসে শৈবাল। স্থানীয় শিল্পকারখানা থেকে আসা রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রিত পানি প্রবেশ করে প্লাবিত হয় ফতুল্লা স্টেডিয়ামের প্রবেশপথ, আউটার মাঠ ও মূল মাঠের অর্ধেকটা। মাঝে মাঝে এই পানি গড়িয়ে যায় মূল মাঠের সেন্টার উইকেট পর্যন্ত। পচা পানির দুর্গন্ধ কয়েকমাস ধরে মাঠের বাতাসে ছড়িয়ে থাকে।

স্টেডিয়াম নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) গ্রাউন্ডস কমিটির ম্যানেজার সৈয়দ আব্দুল বাতেনের কণ্ঠেই ঝড়ে পড়লো হতাশা, ‘দুর্গন্ধ থাকে সবসময়। একটু পানি হলেই বন্যা হয়ে যায়। একটু নিচু জায়গা স্টেডিয়াম হওয়ার কারণে সব পানি চলে আসে মাঠে। সেখানে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলানো কঠিন হয়ে গেছে।’

ফতুল্লা
ফতুল্লা

প্রায় অকার্যকর আউটার মাঠঃ

স্টেডিয়ামের হাতের পাশেই আউটার মাঠ। সেই মাঠে ক্রিকেট লিগের বিভিন্ন স্তরের খেলা হয়ে থাকে বছরজুড়ে। কিন্তু গত কয়েকবছর ধরে এখানে খেলা নামানোই যেন বিড়াম্বনা হয়ে দাঁড়িয়েছে! দুর্দশার কথা জানালেন ভেন্যু কিউরেটর বেলাল, ‘গত বছরেও ফার্স্ট-সেকেন্ড ও থার্ড ডিভিশনের ২১৮ টা ম্যাচ চালিয়েছি আউটার মাঠে।’ এবার ফার্স্ট ডিভিশন তো দূরের থাক সেকেন্ড ডিভিশনের কোনও ম্যাচ রাখা হয়নি মাঠে। থার্ড ভিডিশনের ম্যাচগুলো রাখা হয়েছে এখানে। কিউরেটরের কথায়, ‘মাঠে বন্যা বা বৃষ্টি হলেই কারখানা বা বিল্ডিংয়ের বর্জ্য এসে জমে থাকে। স্তর জমে যায়। খেলার উপযোগিতা থাকে না। কোনও মতে ম্যাচ চালাতে হয়। এবার শুধু থার্ড ডিভিশনের ম্যাচ চলবে মাঠে।’

কি ভাবছে বিসিবি?

স্টেডিয়ামে প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগ শুরু হয়েছে সোমবার থেকে। আন্তর্জাতিক মান ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেয়ার চেষ্টা করছে বিসিবি। বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটির ম্যানেজার সৈয়দ আব্দুল বাতেন বলেন, ‘আমরা স্টেডিয়ামের মাঠটা উচু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সে অনুযায়ী পরিকল্পনা হয়েছে। মাটি থেকে ৫-৬ ফুট উচু করতে চাই স্টেডিয়ামটাকে। তাহলে বন্যা সংক্রান্ত কোনও সমস্যা হবে না। আর স্টেডিয়ামের সংস্কার কাজও আগামী বছরে শুরু করে দিবো আমরা।’

ফতুল্লা স্টেডিয়াম আন্তর্জাতিক স্বীকৃতপ্রাপ্ত। আন্তর্জাতিক টেস্ট ও ওয়ানডে ম্যাচসহ এখানে ২০১১ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সবশেষ ২০১৫ সালে ভারতের সঙ্গে টেস্ট খেলেছি বাংলাদেশ এই ভেন্যুতে। বর্তমানে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। সময় থাকতেই অচিরেই এর সংস্কার কাজ শুরু করা দরকার। না হলে স্টেডিয়ামের আন্তর্জাতিক মান ধরে রাখা কঠিন হয়ে যাবে।

সারাবাংলা/জেএইচ

বিজ্ঞাপন

Tags: ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন