বিজ্ঞাপন

বাসচাপায় দিয়া-রাজীবের মৃত্যু: ৬ জনের বিচার শুরু

October 25, 2018 | 12:52 pm

।।স্টাফ করেসপন্ডেন্ট।।

বিজ্ঞাপন

ঢাকা: জাবালে নূর পরিবহনের দুই বাসের রেষারেষিতে রাজধানীর শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম ও আব্দুল করিম রাজীবের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জাবালে নূরের মালিক ও বাসচালকসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গঠন করেছেন আদালত। এ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো।

বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে (২৫ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ এর বিচারক কেএম ইমরুল কায়েস আসামিদের অব্যাহতি আবেদন নামঞ্জুর করে দণ্ডবিধির ২৭৯, ৩০৬ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। একইসঙ্গে এই মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আাগামী ১ নভেম্বর দিন ঠিক করেছেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

মহানগর দায়রা জজের অ্যাডিশনাল পিপি তাপস কুমার পাল সারাবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন: জাবালে নূরের সেই বাসটির মালিক গ্রেফতার

বিজ্ঞাপন

এর আগে, জাবালে নূরের মালিকসহ কারাগারে থাকা চার আসামির জামিনের আবেদন করা হলে বিচারক তা নামঞ্জুরের আদেশ দেন।

কারাগারে থাকা চার আসামি হলেন— বাসচাপায় জড়িত জাবালে নূর পরিবহনের বাসচালক মাসুম বিল্লাহ ও তার সহকারী এনায়েত হোসেন, বাসটির মালিক শাহাদাত হোসেন এবং ওই বাসটির সঙ্গে পাল্লা দেওয়া বাসের চালক জোবায়ের সুমন।

বিজ্ঞাপন

পলাতক বাকি দুই আসামি হলেন— জাবালে নূরের অন্য বাসটির মালিক জাহাঙ্গীর আলম ও বাসটির চালকের সহকারী কাজী আসাদ। তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: চার্জশিটে জাবালে নূরের মালিকসহ আসামি ৬

বিজ্ঞাপন

গত ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকা মুখ্য মহানগর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক কাজী শরিফুল ইসলাম।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা চার্জশিটে উল্লেখ করেন, আসামি জোবায়ের সুমন ও মাছুম বিল্লাহর হালকা যান (কার, জিপ ও মাইক্রোবাস) চালানোর ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলেও ৪১ সিটের বাস চালানোর ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। এছাড়া জব্দ করা তিনটি বাসের কোনোটিতেই কোনো ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটিও ছিল না। বাসের চালক ও তার সহকারী নিয়োগের এখতিয়ার বাস মালিকের। এই মামলার আসামি বাসচালক ও তাদের সহকারীদের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও বুদ্ধিমত্তা যাচাই ছাড়াই মালিক শাহদাত হোসেন ও জাহাঙ্গীর আলম তাদের নিয়োগ দেন।

আসামিদের মধ্যে শাহদাত হোসেন, মাসুম বিল্লাহ ও জোবায়ের সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আসামি সোহাগ আলী ও রিপন হোসেনের বিরুদ্ধে পুলিশি তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদেরকে মামলায় দায় হতে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: জাবালে নূরের অপর চালক জোবায়েরের স্বীকারোক্তি

গত ৬ আগস্ট এ চার আসামির সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এর আগে, একই মামলায় ঘাতক বাস জাবালে নূরের মালিক মো. শাহাদত হোসেন ও বাস চালক মাসুম বিল্লাহ সাত দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই দুপুরে কালশী ফ্লাইওভার থেকে নামার মুখে এমইএস বাস স্ট্যান্ডে ১৫/২০ জন শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে ছিলেন। জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস ফ্লাইওভার থেকে নামার সময় মুখেই দাঁড়িয়ে যায়। এ সময় পেছন থেকে আরেকটি দ্রুতগতি সম্পন্ন জাবালে নূরের বাস ওভারটেক করে সামনে আসতেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও বিজ্ঞান বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আব্দুল করিম রাজীব মারা যায় । ওই রাতেই মিমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা দায়ের করেন।

আরও পড়ুন: নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারকে ৫ লাখ করে টাকা দিবে জাবালে নূর

সারাবাংলা/এআই/এনএইচ/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন