বৃহস্পতিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৪ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় কাঁপছে দেশ, ৮ জনের মৃত্যু

জানুয়ারি ৮, ২০১৮ | ৬:১০ অপরাহ্ণ

জান্নাতুল ফেরদৌসী

বিজ্ঞাপন

ঢাকা :  দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম তাপমাত্রা মাপা হয়েছে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের গড় তালিকায় সোমবার (৮ জানুয়ারি) পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা নেমেছে ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। যা ভেঙেছে ৫০ বছরের রেকর্ড।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শামসুদ্দিন আহমেদ জানান, ১৯৬৮ সালের পর এটাই বাংলাদেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। ওই বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

গত ৩ জানুয়ারি থেকে চলা শৈত্যপ্রবাহে দেশের উত্তরের বেশিরভাগ জেলার তাপমাত্রা ৫ থেকে ৩ এর নিচে নেমে এসেছে। সোমবার নীলফামারীর সৈয়দপুরে তাপমাত্রা ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। এ ছাড়া দিনাজপুরে তিন দশমিক দুই, ডিমলা ও রাজারহাটেও তাপমাত্রা নেমেছে ৩-এ।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এর আগে তাপমাত্রা ৩-এ নেমে যাওয়ার রেকর্ড আছে  শুধু সৈয়দপুরে। সেটিও ৫ বছর আগের ঘটনা। ২০১৩ সালের পর ৩-এর নিচে নামেনি তাপমাত্রা। আবহাওয়ার ভাষায় তাপমাত্রা ৬ এর নিচে নামলেই তা তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলে গণ্য হয়। আর সোমবার দেশের ১৩ জেলায় বইছে এই তীব্র শৈত্যপ্রবাহ।

বিজ্ঞাপন

সোমবার রাজশাহী জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা মাপা হয় ৫ দশমিক ৩, ঈশ্বরদি ও বগুড়াতে ৫ দশমিক ৫, রংপুরে ৪ দশমিক ৯, আর শ্রীমঙ্গলের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৫ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

গত এক সপ্তাহ ধরে সারাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে চলা তীব্র থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ  জনজীবনে নেমে  এসেছে ভোগান্তি। টানা শৈত্যপ্রবাহে স্থবির হয়ে পড়েছে রাজধানীসহ সারাদেশ। ঢাকার তাপমাত্রা নেমেছে দশ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। সন্ধ্যার পর হিমবাতাসসহ শীতের তীব্রতায় বিপাকে পড়েছে কর্মমুখী আর নিম্ন আয়ের মানুষ। রাস্তায় কমে গেছে যান চলাচল। সন্ধ্যার পর ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে বেশিরভাগ দোকানপাট ও হাট-বাজার। উত্তরের জেলাগুলোতে শীতের প্রকোপ আরও বেশি। শীতকালীন নানান রোগে ভুগছে শিশু ও বয়ষ্করা। হিম ঠাণ্ডায় কুড়িগ্রাম, নওগাঁ ও দিনাজপুরে  সোমবার মারা গেছে মোট ৮ জন।

হঠাৎ শীতের এত প্রকোপ কেন? জানতে চাইলে আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ইনচার্জ  আয়েশা খাতুন বলেন, উপমহাদেশের উচ্চ বলয় প্রবাহ ও ঊর্ধ্বাকাশে জেড উইং প্রবাহ নিচে নেমে আসার কারণেই শীতের প্রকোপ অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেশি। চলমান শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে যোগ হয়েছে ঘন কুয়াশা। এটিও শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার কারণ।

তিনি বলেন, এরকম অবস্থা আরও দুই তিনদিন থাকবে। জানুয়ারি মাস জুড়েই শৈত্যপ্রবাহ চলবে তবে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়বে।

সর্বনিম্ন তাপমাত্রার এতো বছরের রেকর্ড ভাঙ্গা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কিনা জানতে চাইলে অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আয়েশা খাতুন সারাবাংলাকে বলেন, জানুয়ারি বছরের শীতলতম মাস। এ মৌসুমে তাপমাত্রা কমে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। এটাকে আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বলে মনে করিনা।

তবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম সাইফুল ইসলাম সারাবাংলাকে জানান, শুধু বাংলাদেশ নয়, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় এ বছর রেকর্ড ছাড়িয়েছে তাপমাত্রা। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের তাপমাত্রা মঙ্গলগ্রহের চেয়েও কমে যেতে পারে।

এই জলবায়ু বিশেষজ্ঞ জানান, উত্তর গোলার্ধে যখন প্রচণ্ড শীত, দক্ষিণ গোলার্ধের দেশ অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে তখন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা  রেকর্ড করা হয়েছে ৪৭ দশমিক তিন, যা ভেঙ্গেছে সে দেশের ৭৮ বছরের রেকর্ড। আর বিশ্বজুডে এই চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ার জন্য দায়ী বৈশ্বিক উষ্ণতা। তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বের কার্বণ নিঃস্বরণের দায় আমাদের বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। দিনে দিনে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য হারাচ্ছে ‍ঋতুগুলো। বেড়ে যাচ্ছে বৃষ্টি, বন্যা, সাইক্লোন বা ফ্লাশ ফ্লাডের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

শীতের এই প্রকোপে কৃষিখাত ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়ার শঙ্কা জানিয়ে  তিনি বলেন, গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর জন্য দায়ী আমেরিকাসহ উন্নত দেশগুলো। এখন তাদের উচিত আমাদের অ্যাডাপটেশনের জন্য আর্থিক ও টেকনিক্যাল সহযোগিতা দেওয়া।

সারাবাংলা/জেডএফ/এসআই

 

Advertisement
বিজ্ঞাপন

Tags: ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন