বৃহস্পতিবার ২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ইং , ১২ বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ শাবান, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

দেশে ‘নতুন পাখি’ স্পটেড ক্রেক

ডিসেম্বর ১১, ২০১৮ | ৮:১৯ পূর্বাহ্ণ

।। তহিদুল ইসলাম, জাবি করেসপন্ডেন্ট ।।

বাংলাদেশে নতুন এক প্রজাতির পাখির সন্ধান পাওয়া গেছে। নতুন এই পাখির নাম ‘স্পটেড ক্রেক’। এ বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গুয়ার হাওরে এই পাখি ‘প্রথম’ দেখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ ৪২ ব্যাচের শিক্ষার্থী তৌকির হাসান হৃদয়। তার দাবি- তার আগে বাংলাদেশে এই পাখি দেখা গেছে এমন কোনো প্রমাণ নেই।

পাখি বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজও বলেছেন, ‘তৌকির হাসান হৃদয় বাংলাদেশে স্পটেড ক্রেক প্রথম দেখেছেন। স্পটেড ক্রেকের বৈজ্ঞানিক নাম ‘Porzana porzana’। এটি একটি পরিযায়ী পাখি।

বিজ্ঞাপন

এ বছরের ১ ফেব্রুয়ারি নিয়মিত মাঠকর্মের অংশ হিসেবে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে যায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের একদল গবেষক। উদ্দেশ্য পরিযায়ী পাখি নিয়ে ডকুমেন্টারি তৈরি করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজের নেতৃত্বে সেই দলে ছিলেন বিভাগের অধ্যাপক মো. কামরুল হাসান এবং বিভাগের শিক্ষার্থী অনিক সাহা, তৌকির হাসান হৃদয় ও মো. তৌহিদুর রহমান (তারেক)। গবেষণার প্রয়োজনে সেখানে তারা ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অবস্থান করেন।

 

সেখানে অবস্থানকালে ৩ ফেব্রুয়ারি তৌকির হাসান হৃদয় নৌকা থেকে নেমে কিছু দূরে অবস্থান করছিলেন। একপর্যায়ে ঝোপের পাশে তিনি কোয়েল সদৃশ একটি ছোট পাখি দেখতে পান। প্রথমে কোয়েল মনে হলেও পরে খেয়াল করে দেখেন এটি আসলে কোয়েল নয়। সঙ্গে সঙ্গে তিনি ক্যামেরা দিয়ে পাখিটির কিছু ছবি নেন। পাশাপাশি দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে রাখেন। ওই দিন তিনি এ রকম তিনটি পাখি দেখেন। প্রত্যেকটি পাখির স্থিরচিত্র তার সংগ্রহে রয়েছে।

পরে তিনি নৌকায় এসে অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজ ও অধ্যাপক মো. কামরুল হাসানকে জানান। পরে তারা তথ্য-উপাত্ত পর্যবেক্ষণ করে দেখেন এটি স্পটেড ক্রেক এবং এই পাখি বাংলাদেশে দেখার কোনো রেকর্ড নেই। অর্থাৎ সেখানেই এই পাখির প্রথম দেখা মিলেছে।

তৌকির হাসান হৃদয় বলেন, ‘স্পডেট ক্রেকের বাস ইউরোপ ও পশ্চিম এশিয়ায়। শীতের সময় এরা আফ্রিকা ও পাকিস্তানে পরিযায়ন করে। তবে টাঙ্গুয়ার হাওরে পাওয়া যাওয়ায় এটা প্রমাণিত শীতের সময় এরা বাংলাদেশেও আসে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই পাখি আমিই প্রথম দেখেছি। এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছি যা একটি সায়েন্টিফিক জার্নালে পাঠানো হয়েছে। তারা সেটি গ্রহণও করেছে।’

অধ্যাপক মো. কামরুল হাসান বলেন, ‘তৌকির হাসান হৃদয় পাখিটি প্রথম দেখে। এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন সায়েন্টিফিক জার্নাালে প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।’

অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজ বলেন, ‘স্পডেট ক্রেক বাংলাদেশে কেউ দেখেছে এমন কোনো প্রমাণ নেই। কারো কাছে কোনো ছবিও নেই। গত শীতের মৌসুমে আমাদের এক শিক্ষার্থী (তৌকির হাসান হৃদয়) এই পাখি প্রথম দেখে। সে পাখি দেখে আমাদেরকে তা জানায়। পরে আমরা বিভিন্ন বই ঘেঁটে দেখলাম বাংলাদেশে এই পাখি দেখার কোনো রেকর্ড নেই। বাংলাদেশে সম্ভবত ৭০৬ প্রজাতির পাখি দেখা গেছে। এই পাখি দেখার মাধ্যমে সংখ্যা বাড়লো।

সারাবাংলা/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন