বিজ্ঞাপন

দেশের ৬৪ শতাংশ মানুষ চিকিৎসা করছেন নিজের টাকা খরচ করে

December 12, 2018 | 1:59 pm

জাকিয়া আহমেদ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

বিজ্ঞাপন

ঢাকা: দেশের ৬৪ শতাংশ মানুষ নিজের পকেট থেকে টাকা খরচ করে চিকিৎসা করাচ্ছেন, আবার চিকিৎসার জন্য যে টাকা খরচ হচ্ছে সেখানে ৭০ শতাংশের বেশি যাচ্ছে ওষুধ কেনার জন্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগ। আবার বাংলাদেশে ন্যাশনাল হেলথ অ্যাকাউন্ট ( এএনএইচ) জানাচ্ছে জনপ্রতি ১০০ টাকার মধ্যে ৬৭ টাকা খরচ হচ্ছে মানুষের পকেট থেকে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে প্রায় ৪ কোটি ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে বাস করছে এবং প্রতি বছর শুধু অসুস্থতার কারণে প্রায় ৬৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছে। আর স্বাস্থ্যসেবার এই খরচ মেটাতে গিয়ে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন এবং গরিব থেকে আরও গরিব হয়ে যাচ্ছে এসব মানুষ। এমন পরিস্থিতিইে প্রতিবছরের মতো আজ বিশ্বজুড়ে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা দিবস পালন করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে ৪০ ভাগ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা হলেও ৫০ ভাগ মানুষ গুণগত সেবা পাচ্ছে না। দেশে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যব্যয় দিনকে দিন বাড়ছে। অথচ সবার জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস বা এসডিজিস এর ১৭ টি উদ্দেশ্যের মধ্যে অন্যতম। অথচ আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জনের মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তারা বলছেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের জন্য সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা দরকার। তা না হওয়ায় দেশে ধনী-গরিব সব শ্রেণীর মানুষ চিকিৎসা সেবা পাওয়ার জন্য অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে বাধ্য হচ্ছে। আর এ ব্যয়ের জন্য দেশের ১৫ শতাংশ মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে চলে যাচ্ছে।

আর এর কারণ হিসেবে মানুষের চিকিৎসা ব্যয়ের অধিকাংশ ওষুধের পেছনে ব্যয় হলেও ওষুধের অতি ব্যবহার, ডায়াগনসিস সার্ভিস, অস্ত্রোপচারের উচ্চমাত্রার খরচ, বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে কেবিন এবং বেডের উচ্চমূল্য, বেসরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন হাসপাতাল, ক্লিনিক ও চেম্বারগুলোতে চিকিৎসকদের উচ্চমাত্রার ফি, সরকারি বা পাবলিক হাসপাতালগুলোতে অবৈধ লেনদেন, সরকারি সুযোগ সুবিধার চেয়ে বেসরকারি সুযোগ সুবিধার বেশি ব্যবহার এবং শহরাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার জন্য বেসরকারি চিকিৎসার উপর নির্ভরশীলতা চিকিৎসা ক্ষেত্রে মানুষের খরচ বাড়িয়ে চলেছে বলে বলছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম জানান সরকারের বাজেট বাড়ছে। অপরদিকে, সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা বা ইউনিভার্সাল হেলথ কাভারেজ (ইউএইচসি) প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও তারা এটি নিয়ে কাজ করছে।

তবে স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের সাবেক পরিচালক মো. নুরুজ্জামান বলেন, কোন ব্যক্তির মোট আয়ের মধ্যে যদি ২০ শতাংশ চিকিৎসা খাতে ব্যয় হয় তাহলে বুঝতে হবে তিনি চিকিৎসার জন্য আর্থিক বিপর্যয়ে রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইন্সটিটিউটের পরিচালক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, ঢাকার ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ মানুষ সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা পাচ্ছে না। তাই বিগত ৫ বছর ধরে ইউএইচসি শহর, নগর, গ্রাম থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সবার মাঝে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে যতটুকু সেবা দরকার ততটুকু দিতে হবে। এমনকি এ জন্য যতটুকু খরচ তার বেশি যেন না হয়, সেটিই কোয়ালিটি হেলথ কেয়ার। সরকারের কমিউনিটি ক্লিনিক যেটার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু সেখানে হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার, হেলথ এ্যাসিসটেন্টরা শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুসারে কোয়ালিটি সেবা দিতে পারছে না।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সাবেক উপদেষ্টা ডা. মুজাহেরুল হক সারাবাংলাকে বলেন, প্রতিবছর ৬৪ লাখ মানুষ দরিদ্র হচ্ছে আমাদের দেশে কেবলমাত্র স্বাস্থ্যব্যয় মেটাতে গিয়ে। আর এ খরচের প্রধান এবং অন্যতম খরচ হচ্ছে ওষুধ কেনাকেটায়। তাই সরকারের উচিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

সারাবাংলা/জেএ/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন