বুধবার ২২ মে, ২০১৯ ইং , ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ রমজান, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

ভালবাসা মাখা ছোট ঘরখানি…

ডিসেম্বর ২০, ২০১৮ | ২:১৩ অপরাহ্ণ

তিথি চক্রবর্তী।।

ওমর তাসিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বাংলাদেশ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। প্রতিটি কাজ করেন অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে। তাই পূর্ণতা পেয়েছে নিজের স্বপ্নগুলো। একারণে তার জীবনে অর্জনের তালিকাটিও অনেক বড়।

ঘর সাজানোর প্রতি বিশেষ ভাললাগা আছে ওমর তাসিকের। তিনি মনে করেন, মানুষের জীবনে দুটো জিনিস খুব গুরুত্বপূর্ণ- ভালবাসা এবং সুন্দরভাবে সাজানো একটি ঘর। ইন্টেরিয়র ডিজাইনের ওপর পড়াশুনা করেছেন তার স্ত্রী মনোবিজ্ঞানী রুনা খান। তারা দুজনই অত্যন্ত যত্ন ও পরিকল্পনা করে ঘর সাজিয়েছেন।

ওমর তাসিক ও রুনা খান দম্পতির বসার ঘরটি অনেক বড়। ঘরে পিলার বা পার্টিশান রেখেছেন কম। ফলে ঘরে খোলামেলা ভাবটি বজায় আছে। তাদের বসার ঘরে অনায়াসে একসাথে অনেক মানুষের আড্ডা জমতে পারে।

ওমর তাসিক গান, আড্ডা ভালবাসেন। তার সাজানো ঘরটি দেখলেই তা বোঝা যায়। তার বাসার বড় একটি অংশ জুড়েই আছে বসার ঘর। বসার ঘরে ঢুকলেই প্রথমে চোখে পড়ে এককোণের একটি উঁচু জায়গা। গানের আসর করার জন্যই এই জায়গাটি রেখেছেন, জানালেন ওমর তাসিক। এই জায়গাটির মাঝখানে সাজিয়ে রেখেছেন দাবা খেলার সরঞ্জাম। এর এককোণে রেখেছেন পোট্রেট এবং আরেক কোণে একটি শো পিস। আর ঠিক সামনে রেখেছেন একটি গাছ। ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে এমন সুন্দর পরিকল্পনা নিঃসন্দেহে নান্দনিক।

বসার ঘরের এককোণে একটি রিকশার পোট্রেট রয়েছে। পোট্রেটের ব্যাকগ্রাউন্ডে আছে পুরাণ ঢাকায় অবস্থিত, মুঘল আমলের নিদর্শন বড় কাটরার ছবি। আর আসল রিকশার কিছু কিছু অংশ এনে বসিয়ে দিয়েছেন এই পোট্রেটে। পোট্রেটের এই পরিকল্পনাটি করেছেন ওমর তাসিক ও তার স্ত্রী । তবে ডিজাইন করেছেন শিল্পী তাইবুজ্জামান তপু। পোট্রেটে আঁকানো এই রিকশায় বসে আছেন একজন নারী। কথা বলে জানা গেল, ছবির নারী হলেন ওমর তাসিকের স্ত্রী রুনা খান। রিকশার নীচে লেখা ‘ওমর মিস্ত্রী’। একটু রসিকতা করেই লেখা হয়েছে, হাসতে হাসতেই বললেন ওমর তাসিক।

ওমর তাসিকের বসার ঘরের টেরাকোটার ডিজাইনারও শিল্পী তাইবুজ্জামান তপু। ধাতু ও কাঠের সমন্নয়ে তৈরি করেছেন এই টেরাকোটা।

ওমর তাসিক জানান, একটি থিমে ঘর সাজাতে চেয়েছেন। ঘরের খোলামেলা ভাবটি বজায় রাখার প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বসার ঘরের জানালায় কোন পর্দা রাখেননি। জাপানী গ্লাস ও কাঠ দিয়েছেন জানালায়।

বিভিন্ন দেশের মগ সংগ্রহ করা ওমর তাসিকের অন্যতম একটি শখ। তাই বিদেশে কাজের প্রয়োজনে বা বেড়াতে গেলে মগ নিয়ে আসেন। বসার ঘরের একটি সেলফে সুন্দর করে সাজিয়ে রেখেছেন এগুলো। এই অংশটির নাম দিয়েছেন ‘মগের মুল্লুক’।

মালয়েশিয়া থেকে আনা এক ধরনের বিশেষ প্রজাপতি দেওয়ালে সাজিয়ে রেখেছেন তিনি।

প্রজাপতির দুটি মুখ দেখতে সাপের মতো। এই জাতের প্রজাপতি আক্রমণের শিকার হলে পাখা গুটিয়ে ফেলে। তখন প্রজাপতির মুখ দেখে অন্য প্রাণীরা ভয়ে পালিয়ে যায়। এইভাবে এই জাতের প্রজাপতি আত্মরক্ষা করে।

কাঠের প্রতি ওমর তাসিকের ভাললাগা আছে। এই কারণে শোবার ঘরগুলোর মেঝে বানিয়েছেন কাঠ দিয়ে। শুধু মেঝে নয়, ঘরের দেওয়ালে কাঠের নানা কারুকাজ ঘরের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলেছে। শোবার ঘরে বেশি আসবাবপত্র রাখেননি তিনি। অত্যন্ত ছিমছাম ও পরিপাটি করে সাজিয়ে রেখেছেন ঘরটি।

ওমর তাসিক জানান, তার শ্বাশুরি ছিলেন অত্যন্ত গুণবতী। বসার ঘরে রাখা ওয়াল হ্যাঙ্গিং ও নানা ধরনের শো পিস তার শ্বাশুরির হাতে তৈরি।

ওয়াল হ্যাঙ্গিং তৈরি করেছেন মাছের আঁশ, কৈ মাছের কান ও দাঁত দিয়ে।

আর শুকনো ফুল ও মোমবাতি দিয়ে তিনি বানিয়েছেন নানা ধরনের শো পিস। এগুলো দেখে বোঝা গেল, অত্যন্ত ধৈর্য্য নিয়ে এই কাজগুলো করেছেন তিনি।

তার পুরো ঘর জুড়ে আছে নানা ধরনের শো পিস। ঘরের এককোণে শোকেসে সাজিয়ে রাখা হয়েছে অনেক ধরনের শো পিস।

মূল দরজার পাশেও কিছু শো পিস রাখা আছে। তবে ব্যতিক্রম হলো গরুর শিং দিয়ে তৈরি দুটি বকপাখি, যা তিনি নেপাল থেকে এনেছেন।

ওমর তাসিক ও রুনা খান দম্পতির ঘর সাজানোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ আছে। তাই শত ব্যস্ততার মাঝেও এই দম্পতি সঠিকভাবে পরিকল্পনা করে অন্দর সাজিয়েছেন মনের মতো।

 

আলোকচিত্র- আশীষ সেনগুপ্ত

সারাবাংলা/টিসি/ এসএস

 

 

 

 

Advertisement
বিজ্ঞাপন

Tags: ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন