বিজ্ঞাপন

‘নৌকা দিয়া দেশ পাইছি, নৌকাতেই ভোট দিতাম’

December 26, 2018 | 6:11 am

।। স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট ।।

বিজ্ঞাপন

রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ থেকে ফিরে: ‘আমরা বঙ্গবন্ধুর সৈনিক, তার উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তিনি দেশকে আগাইয়া নিতেছে। তাই দেশের উন্নতির কথা ভাবলে নৌকা ছাড়া কিছু ভাবতে পারি না। একইসঙ্গে যিনি নৌকার হাল ধরেছেন এই এলাকাতে, তিনিও অত্যন্ত ভালো মানুষ। তাই ভোটটা নৌকায় দিমু।’

কথাগুলো বলছিলেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকার বাসিন্দারা। তারা বলছেন, এই নৌকা দিয়াই তো দেশ পাইছি, কথা বলার অধিকার পাইছি, স্বাধীনতা পাইছি। এই নৌকা আমাদের স্বাধীনতা দিছে। তাই নৌকাতেই ভোট দিতাম। নৌকাতে যদি ভোট না দেই, তাইলে বেঈমানি হবে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৪ ডিসেম্বর) নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ঘুরে স্থানীয় বৃদ্ধদের সঙ্গে আসন্ন জাতীয় একাদশ নির্বাচন নিয়ে কথা বললে তারা এমনটাই জানান।

রূপগঞ্জ এলাকাটি নারায়ণগঞ্জ-১ সংসদীয় আসনের মধ্যে পড়েছে। এখান থেকে তৃতীয়বারের মতো নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন গাজী গোলাম দস্তগীর বীর প্রতীক। ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৭৯০ ভোটারের এই আসনে তার সঙ্গে লড়ছেন বিএনপির কাজী মনিরুজ্জামান, জাকের পার্টির মাহফুজুর রহমান, জাতীয় পার্টির (জেপি) মো. আজম খান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ইমদাদুল্লাহ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মো. মনিরুজ্জামান চন্দন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রেহান আফজাল ও মো. হাবিবুর রহমান।

স্থানীয়রা জানান, নারায়ণগঞ্জের এই আসনে আট জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও প্রতিযোগিতায় তারা কেউ নৌকার ধারে কাছে থাকবেন না। কারণ এখানে নৌকার পক্ষেই জনসমর্থন বেশি।

তারা বলছেন, গাজী গোলাম দস্তগীর এলাকাতে অনেক উন্নয়ন করেছেন, এলাকার সাধারণ মানুষ সবসময় তাকে কাছে পান, কথা বলতে পারেন। সাধারণত এমন মানুষকেই একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে চায়, যাকে তারা কাছে পায়। তিনি মানুষকে স্নেহ করেন— এটাই সবার মনেই দাগ লাগার মতো। তাই এ আসনে গাজী গোলাম দস্তগীর, তথা নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত।

৬৮ বছরের হাজী ইসমাইল হোসেন মাখনের আদি বাড়ি কুমিল্লার ‍মুরাদনগের। ১৯৮০ সাল থেকে গুলিস্তানে জুতার ব্যবসা করতেন। ২০ বছর আগে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে প্রথম থাকতে শুরু করেন। এর কারণ হিসেবে ইসমাইল হোসেন বলেন, তখন ৬ টাকায় গুলিস্তান থেকে এখানে যাতায়াত করা যেত। এ কারণে কুমিল্লা থেকে এই এলাকায় চলে আসি। অস্থায়ীভাবে কিছুদিন ছিলাম, ২০ বছর আগে বাড়ি করি। তারপর থেকে এখানেই স্থায়ী হয়ে গিয়েছি, ভোটারও এই এলাকার। ভোটার হওয়ার পর থেকে ইসমাইল হোসেন নৌকাতেই ভোট দিয়ে এসেছেন বলে জানান।

কেবল ইসমাইল হোসেন নন, কফিলউদ্দিন, ইয়াজউদ্দিন, শামসুর রহমান, মিয়া আজিজসহ স্থানীয়রা গোল হয়ে বসেছিলেন। তাদের সবার এক কথা, সপ্তাহে দুই দিন শুক্র আর শনিবার গোলাম দস্তগীর গাজী এখানে আসেন, মানুষের কথা শোনেন।

ইসমাইল হোসেন বলেন, আমাদের আশাই তো এইটা— একজন জনপ্রতিনিধি যদি এভাবে আমাদের খোঁজ খবর নেন, আর বেশি কিছু চাওয়ার নেই। এই গাজীর কাছে এসে কোনোদিন কষ্ট মনে কেউ ফেরত যাই নাই। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। গাজী সাহেব আমাদের এলাকার লোক নন, কিন্তু তার কাছে মানুষ এত স্নেহ ভালোবাসা পাইছে, এইটা তার ভালোবাসার কারণে হইছে।

‘আগে ঢাকা শহরে যেতে লাগত ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা, এখন লাগে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা। নিজের ভালোটা তো পাগলেও বোঝে, তাইলে সেই বুঝটা আমরা বুঝমু না? তাই ভোট নৌকায় ‘— বলেন ইসমাইল হোসেন।

তিনি আরও বলেন, সেই নৌকা এখন গাজী সাহেব পাইছেন, শেখ হাসিনা তাকে দিয়েছেন। আমরা মনে করি, আমাদের মঙ্গলের জন্যই ঠিক মানুষটাকে নেত্রী নৌকা দিয়েছেন। আমাদের উন্নয়নের জন্য উনাকেই প্রয়োজন, যিনি আমাদের সময় দেন। এমন সময় দেওয়ার মানুষটাতো আর পাই না।

ডেমরা করিম জুট মিলে চাকরি করতেন ইয়াজউদ্দিন। বয়সের ভারে একেবারেই ন্যূজ্ব এখন। একাত্তরে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন নরসিংদীর রায়পুরাতে। ২৫ বছরের ইয়াজউদ্দিন তখন মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য রান্না করতেন, পানি খাওয়াতেন, নৌকা দিয়ে পারাপার করে দিতেন, অস্ত্র বহন করতেন।

জানালেন, তার সঙ্গে আরেকজন যিনি ছিলেন তিনি মারা গিয়েছেন। কফিলউদ্দিনের ভাষায়, ‘পাঞ্জাবীরা মাইরা ফেলছে।’ তার নিজের বাম পায়েও রয়েছে গুলির চিহ্ন, জানালেন কোনোক্রমে বেঁচে গিয়েছিলেন। আর মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগী হয়ে সারাজীবন নৌকার পক্ষে ভোট দিয়েছেন, এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। কফিলউদ্দিন বলেন, ‘গাজী সাহেবও বীর মুক্তিযোদ্ধা, তারে ভোট দিমুনা তো কারে দিমু?’

এলাকার স্থানীয় ও প্রবীণ হিসেবে নির্বাচন নিয়ে কী মনে করছেন— জানতে চাইলে আরেক প্রবীণ মিয়া আজিজ বলেন, ‘এইডা... আমরা তো যা কিছু দেখতাছি, আমার পরিপ্রেক্ষিতে কইতে গেলে ওনার সাপোর্টে পুরা রূপগঞ্জবাসী। কারণ তার মতো লোকই আমাদের দরকার। এইডা তো এতদিনে সবাই বুইঝা গেছে। সুতরাং নির্বাচনে উনি জিতবেন, এটা আর কিছু বলার নাই।’

‘এমন লোককেই চাই, যারে দিয়ে জনসাধারণের উপকার হয়। তাকে আমরা সবসময় পাই, যখনই যাই, কোনোদিন রাগ করতে, বিরক্ত হইতে দেখি নাই,’— বলেন মিয়া আজিজ।

প্রতিযোগিতা হবে নৌকা আর ধানের শীষে— এমন মন্তব্য করে কফিলউদ্দিন বলেন, অনেক বেশি আগায়ে থাকবে নৌকা, পাস করব নৌকা।

সারাবাংলা/জেএ/টিআর/আরএফ 

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন