রবিবার ২৪ মার্চ, ২০১৯ ইং , ১০ চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৬ রজব, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

নতুন মন্ত্রিসভার চমক কারা?

জানুয়ারি ৪, ২০১৯ | ১১:০০ অপরাহ্ণ

।। নৃপেন রায়, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট।।

ঢাকা: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। ইতোপূর্বের উন্নয়ন-সমৃদ্ধির ধারাবাহিকতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মন্ত্রিসভায় থাকতে পারে বেশ কিছু চমকও। এরই অংশ হিসেবে নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ‘গুডবুক’ভুক্ত নেতারাই ঠাঁই পেতে যাচ্ছেন মন্ত্রিসভায়। এর আগে, ২০তম জাতীয় সম্মেলনে শুরু হওয়া পদক্ষেপকে এবার কার্যকর করতে মন্ত্রিসভা গঠনে এমনই চমক দেবেন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র সারাবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশ’-শীর্ষক মূল স্লোগান ধরে উন্নয়ন-সমৃদ্ধির ২১ দফার অঙ্গীকার করে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করে আওয়ামী লীগ। সেই ইশতেহারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দলকে সরকার থেকে যতটা সম্ভব আলাদা করার পরিকল্পনা নিয়ে এবার মন্ত্রিসভা উপহার দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৭ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে তিনটায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠন হচ্ছে। বঙ্গভবনে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এরমধ্য দিয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদ ও চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা।

বৃহস্পতিবার (৩ জানুয়ারি) সংসদ নেতা হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পেয়েছেন। এর আগে সকাল ১১টার দিকে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনাসহ বিজয়ীরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। শপথ নেওয়ার পর সরকারি দলের সভাকক্ষে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে শেখ হাসিনাকে পুনরায় সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হয়।

শুক্রবার (৪ জানুয়ারি) ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে আওয়ামী লীগের পথচলা। তবে, মন্ত্রিসভা গঠনে বিশাল জয়ের সঙ্গে বিশাল চমকও থাকতে পারে। বিশাল বিজয়ের সঙ্গে বিশাল প্রত্যাশা। জনগণেরও এখানে একটা প্রত্যাশা রয়েছে। সেই প্রত্যাশার প্রতিধ্বনি তো করতে পারেন একজনই (শেখ হাসিনা), মন্ত্রিসভার বিষয়টা সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। এখানে অন্য কারও প্রবেশের সুযোগ নেই।’

এদিকে দলীয় সূত্র জানায়, টানা দুই মেয়াদে সরকারে থাকার ফলে ইতোমধ্যে দল অনেকটা সরকারের সঙ্গে মিশে গেছে। এর ফলে দল ও সরকারের বিভেদরেখা অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে। এছাড়া তৃণমূলের বেশিরভাগ এলাকায় নেতা ও সংসদ সদস্যদের আধিপত্য, কোন্দল-রেষারেষির কারণে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। এতে দলের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। এসব কারণে এবার দল ও সরকারের মধ্যে দৃশ্যমান বিভেদ রেখা টানার পরিকল্পনা নিয়ে মন্ত্রিসভা উপহার দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ বিষয়ে দলীয় সূত্রটি আরও জানায়, এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ২০১৬ সালের অক্টোবরে আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় কাউন্সিলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ৮১ সদস্য বিশিষ্ট করা হয়। ৮১ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী সংসদের মধ্যে দশম সংসদের দলের সভাপতি শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী, উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু শিল্পমন্ত্রী, তোফায়েল আহমেদ বাণিজ্যমন্ত্রী, খন্দকার মোশাররফ হোসেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম জনপ্রশাসনমন্ত্রী, মতিয়া চৌধুরী কৃষিমন্ত্রী, মোহাম্মদ নাসিম স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী, নুরুল ইসলাম নাহিদ শিক্ষামন্ত্রী, কার্যনির্বাহী সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী, কামরুল ইসলাম খাদ্যমন্ত্রী, মির্জা আজম বস্ত্র ও পাঠ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় ছিলেন।

এবার মন্ত্রিসভায় এর পরিসর আরও কমতে পারে বলে জানা গেছে। তবে দলের নেতা, সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন সরকার দলীয় পেশাজীবাও জোর লবিং শুরু করেছেন। অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের শুভাকাঙ্ক্ষী মারফতে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর দুই জন নেতার কাছ থেকে জানতে চাইলে তারা কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে একটি সূত্র জানায়, গত মন্ত্রিসভা থেকে এবার বিভিন্ন কারণে বেশকয়েকজ মন্ত্রী বাদ পড়তে পারেন।

নতুন মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাওয়ার সম্ভাবনার দৌড়ে এগিয়ে আছেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সাবেক সভাপতি ইমরান আহমদ, দশম জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক টিপু মুনশি, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীক, দিনাজপুর-৩ আসন থেকে নির্বাচিত ইকবালুর রহিম, দিনাজপুর-২-থেকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, সিলেট-১ আসন থেকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ছোট ভাই একে আবদুল মোমেন এবং জয়পুরহাট-১ সামছুল আলম দুদু ও জয়পুরহাট-২ থেকে আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের মধ্যে একজন। এছাড়া, টেকনোক্র্যাট হিসেবে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিনের নামও আলোচনায় রয়েছে।

এদিকে, আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, মেজর জেনারেল (অব.) নাসির উদ্দিন, আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য সিমিন হোসেন রিমি, ফজলে নূর তাপস, নূর ই আলম চৌধুরী লিটন, দীপংকর তালুকদার, নাজমুল হাসান পাপন, ডা. হাবিবে মিল্লাত, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলকেও মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দেওয়া হতে পারে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র আরও জানায়, টেকনোক্র্যাট কোটায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাপরিষদ সদস্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত পুনরায় দায়িত্ব পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন। ঢাকা-১৩ এবং মাদারীপুর-৩ আসনের মনোনয়ন থেকে বাদ পড়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবীর নানক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেতে পারেন। এছাড়া, পুরনোদের মধ্যে বহাল থাকতে পারেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, পানিসম্পদমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব। তবে পুরনোদের অনেকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বহাল থাকলেও কারও কারও মন্ত্রণালয় পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও সূত্র জানায়।

সারাবাংলা/এনআর/এমএনএইচ

নতুন মন্ত্রিসভার চমক কারা?
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন