রবিবার ২৪ মার্চ, ২০১৯ ইং , ১০ চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৬ রজব, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রামের তিনজন, আলোচনায় নওফেলের উত্থান

জানুয়ারি ৬, ২০১৯ | ৭:০৫ অপরাহ্ণ

।। স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট ।।

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৩টি আওয়ামী লীগ আর তিনটি মহাজোটের শরিক দলের দখলে। ১৩ জনের মধ্যে চট্টগ্রামের মাঠে রাজনীতিতে প্রভাবশালী একাধিকবার নির্বাচিত বর্ষীয়ান রাজনীতিকদের অনেকেই স্থান পাননি মন্ত্রিসভায়।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার মন্ত্রিসভায় বেছে নিয়েছেন দু‘জন অভিজ্ঞ এবং একজন নবীন রাজনীতিককে। এরা হলেন, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালী একাংশ) আসন থেকে নির্বাচিত ড. হাছান মাহমুদ, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) আসনের সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এবং চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনের মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

বিজ্ঞাপন

তবে সব ছাপিয়ে রাজনীতি এবং ক্ষমতার কেন্দ্রে নওফেলের উত্থানই বেশি আলোচিত হচ্ছে চট্টগ্রামের রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন মহলে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রামের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন সারাবাংলাকে বলেন, মন্ত্রিসভা নিয়ে নির্বাচনের পর থেকে অনেকে অনেক ধরনের কথা বলেছেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, মন্ত্রিসভায় কারা আসছেন সেটা প্রধানমন্ত্রী ছাড়া একজনও জানতেন না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে যে উন্নত, সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গঠনের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন, এই মন্ত্রিসভা তার সেই চিন্তার ফসল। চট্টগ্রামের তিনজন মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নিজেদের সাধ্যমতো ভূমিকা রাখবেন- এটা আমি প্রত্যাশা করি।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন সারাবাংলাকে বলেন, চট্টগ্রামবাসী দু‘জন মন্ত্রী ও একজন উপমন্ত্রী পেয়েছেন। কিন্তু মন্ত্রিসভায় নওফেলের আসার ক্ষেত্রে অন্য ধরনের বিশেষত্ত্ব রয়েছে। নওফেল যে শুধু পিতার পরিচয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতা, এমপি এবং মন্ত্রী হলেন, তা-ই নয়। তিনি উচ্চশিক্ষিত, মার্জিত, রুচিবান এবং আপাদমস্তক অসাম্প্রদায়িক। দেশকে এগিয়ে নিতে এই ধরনের তরুণদেরই বেশি প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী আস্থা রেখেছেন। আশা করি, নওফেল তার সক্ষমতার প্রমাণ দেবেন।

রাজনৈতিক পরিবারের জন্ম ৩৯ বছর বয়সী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের। তিনি চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সন্তান। লন্ডন থেকে উচ্চশিক্ষা শেষ করে আসা নওফেল বাবার জীবদ্দশাতেই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হন।

এরপর সদ্যসমাপ্ত সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেয়ে প্রথমবার তাক লাগিয়ে দেন নওফেল। চট্টগ্রামের সব আসনের মধ্যে নওফেলের আসনে প্রচার-প্রচারণায় নৌকার জোয়ার দেখা যায়। এই নির্বাচনে জিতে আসার পর এবার মন্ত্রীসভায়ও অর্ন্তভুক্ত হয়েছেন। উপমন্ত্রী হিসেবে নওফেল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাবেন মন্ত্রী ডা. দীপু মনির সঙ্গে।

কবি ও সাংবাদিক কামরুল হাসান বাদল সারাবাংলাকে বলেন, মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রামের তিনজনের মধ্যে দুজনকে আমরা আগেও দেখেছি। নতুনভাবে যুক্ত হলেন নওফেল। তিনি মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে। মহিউদ্দিন চৌধুরীর জন্য চট্টগ্রামের মানুষের অন্য ধরনের আবেগ আছে। স্বাভাবিকভাবেই নওফেলকে নিয়ে আলোচনা বেশি হবে। চট্টগ্রামবাসীর প্রত্যাশাও থাকবে বেশি। নওফেল-মাশরাফির মতো ছেলেদের সংসদে, মন্ত্রীসভায় দেখাটা রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত। তারাই পারবেন সত্যিকারের সুশাসন দিতে।

ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে উঠে আসা ড. হাছান মাহমুদ ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী জরুরি অবস্থার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে পরিচিতি পেয়েছিলেন। এর আগেই অবশ্য শেখ হাসিনা তাকে বেলজিয়াম থেকে এনে দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক করেছিলেন।

স্পষ্টভাষী হিসেবে আলোচিত হাছান মাহমুদ ২০০৮ সালে প্রথম সংসদ নির্বাচনে জিতে আসার পর তাকে শেখ হাসিনা প্রতিমন্ত্রী এবং পরে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করেছিলেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। তবে মন্ত্রিসভায় যেতে পারেননি। এবার আবারও মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাকে তথ্য মন্ত্রণালয় সামলানোর দায়িত্ব দিয়েছেন।

সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের আরেক প্রয়াত বর্ষীয়ান নেতা আক্তারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর সন্তান। রাজনীতির মাঠ থেকে উঠে না এলেও ব্যবসায়ী নেতা হিসেবে জাবেদ অতীতে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি একাধিকবার এই সংগঠনের সভাপতি ছিলেন।

২০১৩ সালে আক্তারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর মৃত্যুর পর বাবার আসনে উপনির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন জাবেদ। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনেও তিনি বিজয়ী হন এবং ভূমি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। সদ্যসমাপ্ত সংসদ নির্বাচনে জিতে আসার পর এবার তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়ের।

খোরশেদ আলম সুজন সারাবাংলাকে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আস্থা ও বিশ্বাস থেকে তাদের দায়িত্ব দিয়েছেন। এখন ঈমান রক্ষার দায়িত্ব তাদের। আশা করি, সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে এবং দুর্নীতিমুক্ত থেকে তারা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন।

সারাবাংলা/আরডি/এটি

মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রামের তিনজন, আলোচনায় নওফেলের উত্থান
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন