রবিবার ২৪ মার্চ, ২০১৯ ইং , ১০ চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৬ রজব, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

আজ থেকে এক টাকাও খেলাপি ঋণ বাড়বে না: অর্থমন্ত্রী

জানুয়ারি ১০, ২০১৯ | ৩:০৭ অপরাহ্ণ

।। স্টাফ করেসপন্ডেন্ট।।

ঢাকা:

ধীরে ধীরে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, ‘আজ থেকে আর এক টাকারও খেলাপি ঋণ বাড়বে না। এ বিষয়ে ব্যাংকের মালিকরা আমাকে কথা দিয়েছেন।’ বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অর্থমন্ত্রীর সাবেক অফিসে ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বৈঠকে বসার আগেই আমার শর্ত ছিল একটা। কোনো কিছু আলাপ করার আগে আমার এক দফা। আজকের পর থেকে খেলাপি ঋণ এক টাকাও বাড়তে পারবেন না। আপনারা কীভাবে বন্ধ করবেন, কীভাবে টেককেয়ার করবেন, কীভাবে ম্যানেজ করবেন, সেটা আপনাদের ব্যাপার। তারা আমাকে আশ্বস্ত করেছেন। তাই বলছি, আজকের পর থেকে খেলাপি ঋণ বাড়বে না ইনশাল্লাহ।’ তিনি আরও বলেন, ‘ব্যাংকিং খাত নিয়ে আলোচনা করেছি। তারাই ব্যাংকের মালিক। প্রায় সবাই এসেছেন। তাদের সঙ্গে যেসব আলোচনা হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, আপনাদের কাছ থেকে ব্যাংকিং খাতের যেসব তথ্য পাওয়া গেছে, সেগুলো ভেরিফাই করব, মূল্যায়ন করব। এ জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অর্থবিভাগকে। এই মূল্যায়ন শেষ হলে আমরা একটি ব্যবস্থায় যাব। কোথায় থেকে শুরু করব।’

আ হ ম মুস্তাফা কামাল বলেন, ‘আমরা একটি জায়গায় ঐকমত্যে পৌঁছেছি, মূল যে চিন্তা আপনাদের, সেটি হচ্ছে ননপারফরমিং লোন। এটি আপনাদের উৎকণ্ঠা, জাতির উৎকণ্ঠা। তবে, আমার উৎকণ্ঠা কিছুটা কম। কারণ, এরই মধ্যে আমি দেখেছি, যে পরিমাণ পত্রপত্রিকায় লেখা হয়,সে পরিমাণ ননপারফরমিং লোন নেই। ননপারফরমিং লোন এখনো ম্যানেজেবল। এই ম্যানেজেবল লোন সম্পর্কে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে,সেটি হচ্ছে, যে পরিমাণ আছে, তাই থাকবে। এই লোন আর বাড়তে পারবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘খেলাপি ঋণ হয়েই গেছে। সে বিষয়ে তারাই আমাকেও তথ্য দেবেন কী পরিমাণ, কোন ব্যাংকের কতটা খেলাপি ঋণ আছে, কার কাছে কতটা পাওয়া যাবে, এর মধ্যে কতটা আসল, কতটা সুদ কোন অবস্থায় আছে, এ বিষয়ে তাদের তথ্য আমাদের ব্যাংকিং বিভাগ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে সঠিক কাজটি শুরু করতে পারবো, যথাযথভাবে করতে পারবো।’

এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যারা ব্যবসা করেন বাংলাদেশে, তারা সবাই প্রভাবশালী। পৃথিবীতে যারা ব্যবসা-বাণিজ্য করেন, তারা সবাই প্রভাবশালী। প্রভাবশালী দুই রকম। যারা রাজীতি করেন তারাও প্রভাবশালী। যারা ক্রিকেট ভালো খেলেন, তারাও প্রভাবশালী। ব্যবসা-বাণিজ্য যারা করেন তারাও প্রভাবশালী। ব্যবসায়ীরা যদি প্রভাবশালী না হন, তাহলে বিনিযোগ কীভাবে আসবে? কোথেকে কর্মসংস্থান হবে, কীভাবে হবে, দারিদ্র্য কীভাবে কমবে? প্রভাবশালী যারা ব্যবসাবাণিজ্য করেন, অর্থনীতিতে তাদের অংশ ৮২ শতাংশ। তাদের বাদ দিয়ে ১৮ শতাংশ নিয়ে আমি কীভাবে অর্থনীতি সাজাব? এটা করাও অবাস্তব চিন্তা আমার সামনে। আপনারা যদি বলতে পারেন, ননপারফরমিং লোন এতটা, এই মানুষ জড়িত তারা খুব খারাপ, আমাকে দেন আমি দেখব আমার সঙ্গে মেলে কি না।’

ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, ‘খেলাপি ঋণ কীভাবে কমানো যায়, কীভাবে সহজ করা যায়. এটা নিয়ে ভাবতে হবে। টাকা নিয়ে চলে গেছেন কেউ কেউ। আবার যারা ভালো ব্যবসা করেন, হঠাৎ করেই খারাপ হয়ে গেছে। এভাবে ক্ল্যাসিফাই করব। তারপর অর্থমন্ত্রী ও গভর্নরের সঙ্গে বসব। বলব, যারা ভালো ব্যবসা করবেন, তাদের কীভাবে সহায়তা দেওয়া যায়, আমরা এ মাসের মধ্যেই ক্ল্যাসিফিকেশন করবো। এখানে পদ্ধতিগত জটিলতা আছে। এটা কীভাবে সহজ করা যায়। অর্থমন্ত্রী যা বলেছেন, আমরা আশ্বস্ত করেছি। আজ থেকে খেলাপি ঋণ বাড়বে না।’

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন আইএফআইসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, ইবিএল ব্যাংকের চেয়ারম্যান এইচ বিএম ইকবালসহ বিভিন্ন ব্যাংকের মালিক।

সারাবাংলা/ জেজে/এমএইচ/জেএএম/এমএনএইচ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন