সোমবার ১৭ জুন, ২০১৯ ইং , ৩ আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৩ শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

ইতিহাসের দীর্ঘতম ‘শাটডাউনে’ বেতনহীন ৮ লাখ মার্কিন কর্মচারী

জানুয়ারি ১২, ২০১৯ | ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ

।। আন্তর্জাতিক ডেস্ক ।।

বছরের প্রথম বেতন পাননি প্রায় আট লাখ মার্কিন কর্মচারী। মার্কিন ইতিহাসের দীর্ঘতম ‘গভর্নমেন্ট শাটডাউন’র (সরকারি সেবা বন্ধ) কবলে পড়ে বেতন ছাড়াই কাজ করছেন তারা। শনিবার (১২ জানুয়ারি) ২২তম দিনে পদার্পন করেছে এই মার্কিন গভর্নমেন্ট শাটডাউন। খবর বিবিসির।

সরকারি সেবার এক-চতুর্থাংশ বন্ধ থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের কারাগার প্রহরী, বিমানবন্দরের কর্মচারী ও এফবিআই এজেন্টসহ প্রায় আট লাখ সরকারি কর্মচারী টানা ২২ দিন ধরে বিনা বেতনে কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়া সাময়িক ছুটিতে রয়েছেন আরও ৩ লাখ ৫০ হাজার কর্মচারী।

এর আগে সবচেয়ে দীর্ঘতম শাটডাউনের ঘটনা ঘটে ১৯৯৬ সালে। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের অধীনে ২১ দিন বন্ধ ছিল মার্কিন সরকারি সেবা।

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্র, ট্রাম্প, জরুরী অবস্থা, গভর্নমেন্ট শাটডাউন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে তার প্রস্তাবিত দেয়াল নির্মাণের জন্য অর্থায়নের অনুমোদন না দেওয়া হলে এই সরকারি সেবা চালু হবে না। কয়েকদিন আগে ডেমোক্র্যাটরা সরকারি সেবা সাময়িকভাবে চালু করার জন্য একটি বিলের প্রস্তাব দেয়। তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, দেয়াল নির্মাণের অর্থায়নের অনুমোদন না পেলে তিনি ওই বিলে স্বাক্ষর করবেন না।

আরও পড়ুন- সরকারি সেবা চালু করতে ট্রাম্পকে ডেমোক্র্যাটদের চ্যালেঞ্জ

এদিকে বেতন না পেয়ে অনেকেই তাদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র বিক্রি শুরু করেছেন। বিছানা থেকে পুরনো খেলনা প্রায় সবই বিক্রির জন্য অনলাইনে তালিকাভুক্ত হয়েছে। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ছুটি নিয়েছেন অনেকে। মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তাদের একটি প্রধান টার্মিনাল কর্মচারীর অভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

শাটডাউনের প্রভাব

শাটডাউন অব্যাহত থাকায় প্রায় এক ডজন সরকারি ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা ছাড়পত্র নবায়ন করা হয়নি। এসব ওয়েবসাইটের মধ্যে রয়েছে মার্কিন বিচার বিভাগ, আপিল আদালত ও নাসা।

ইন্টারনেট সেবাদানকারী ওয়েবসাইট নেটক্রাফট জানিয়েছে, সব মিলিয়ে প্রায় ৮০টি সরকারি ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।

মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) জানিয়েছে, তারা অপরিহার্য নয় এমন সকল সেবা বন্ধ করে দিয়েছে। ফলস্বরূপ দেশজুড়ে অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে।

এফডিএ কমিশনার স্কট গটলিয়েব গত সপ্তাহে জানিয়েছেন, সংস্থাটি উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন স্থাপনাগুলোতে নিরীক্ষা অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

মার্কিন গভর্নমেন্ট উল্লেখযোগ্য ক্ষতির শিকার হচ্ছেন দেশটির আদিবাসীরা। স্বাস্থ্যসেবা ও খাদ্যের জন্য তাদের সরকারি অর্থায়নের ওপর নির্ভর করতে হয়। সরকারি সেবা বন্ধ থাকায় তারা অর্থায়ন পাচ্ছে না।

মিশিগানে চিপেওয়া গোত্র তাদের স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও খাবারের গুদামঘর খোলা রাখতে নিজস্ব তহবিল থেকে ইতিমধ্যে ১ লাখ ডলার খরচ করতে বাধ্য হয়েছে।

সিএনবিসি অনুসারে, ইতিমধ্যে শাটডাউনের কারণে মার্কিন অর্থনীতি ৬০০ কোটি ডলার ক্ষতির শিকার হয়েছে।

ওয়েলস ফার্গোর খুচরা বিক্রি বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সরকারি সেবা বন্ধ থাকলে প্রতি সপ্তাহে আরও ২০০ কোটি ডলার করে আর্থিক ক্ষতির শিকার হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। সিএনবিসি অনুসারে, কেবল শুক্রবারেই ৩৬০ কোটি ডলার ক্ষতির সম্ভাবনা ছিল।

সংকট সমাধানে যা করা হচ্ছে…

শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট শাটডাউন শেষে যাতে কর্মচারীরা তাদের ন্যায্য বেতন পায় তা নিশ্চিত করতে একটি বিল পাশ করেছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো ওই বিলে স্বাক্ষর করেননি। যদিও ধারণা করা হচ্ছে তিনি স্বাক্ষর করবেন।

আরও পড়ুন- দেয়াল নির্মাণে জাতীয় জরুরি অবস্থা জারির হুমকি ট্রাম্পের

ট্রাম্প তার প্রস্তাবিত দেয়াল নির্মাণে বদ্ধ পরিকর। শুক্রবার তিনি জানিয়েছেন, যদি ডেমোক্র্যাটরা দেয়ালের জন্য অর্থায়নের অনুমোদন না দেয় তাহলে তিনি জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করে দেয়াল নির্মাণ করবেন। পরবর্তীতে অবশ্য তিনি নিজের ঘোষণা থেকে পিছি হটেন। বলেন, আমি খুব শিগগিরই এমন কোন পদক্ষেপ নেবো না।

সারাবাংলা/ আরএ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন