সোমবার ১৭ জুন, ২০১৯ ইং , ৩ আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৩ শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

বাণিজ্য মেলায় ক্রেতাদের পাশে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর

জানুয়ারি ১৩, ২০১৯ | ১:১৬ পূর্বাহ্ণ

।। আব্দুল জাব্বার খান, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট ।।

ঢাকা: মেয়াদ উত্তীর্ণ, পচা-বাসি খাবার বিক্রয়, কিংবা ভেজাল পণ্য বিক্রি করে ক্রেতাদের ঠকালে সংশ্লিষ্ট দোকানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কাজ করছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

এ ধরনের অভিযোগ নিয়ে কোন ক্রেতা আসলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছে অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। আর অভিযোগ প্রমাণ হলে থাকছে জরিমানার ব্যবস্থা। সেই জরিমানার ২৫ শতাংশ পুরস্কার হিসেবে পাবেন অভিযোগকারী।

শনিবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ঘুরে এমনটি দেখা যায়।

বিজ্ঞাপন

বাণিজ্য মেলার ভিআইপি গেটের পাশেই স্থাপন করা হয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদ্প্তর। দুই কক্ষ বিশিষ্ট প্যাভিলিয়নে বসে আছেন দুই সহকারি পরিচালকসহ কর্মকর্তারা।

বাণিজ্য মেলা, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর

এসময় কথা হয়, প্রতিষ্ঠানটির সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মন্ডলের সঙ্গে। তিনি জানান, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পণ্য না দেয়া, অতিরিক্ত মূল্য আদায়, মিথ্যা বিজ্ঞাপনসহ প্রতারণার আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ করলে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেই।

তিনি বলেন, এ মেলা উপলক্ষ্যে আমরা প্রতিকার ও প্রতিরোধ দুই ভাবে কাজ করি। প্রতিকার হচ্ছে এ মেলায় কোন ক্রেতা যদি কোন পণ্য ক্রয় করে প্রতারিত হয়ে থাকে। এবং আমাদের কাছে অভিযোগ দায়ের করে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি আমরা তদন্ত করি। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করি। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ অনুযায়ী আরোপিত জরিমানার ২৫ ভাগ অভিযোগকারীকে প্রদান করা হয়।

তিনি আরও বলেন, আর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হচ্ছে, ত্রেতাগণ যাতে কোন ভাবে প্রতারিত না হয়, সে কারণে আমরা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সচেতনমূলক প্রোগ্রাম করে থাকি। এজন্য প্রত্যেক দোকানে খাবারের মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া, পণ্যের মেয়াদ আছে কিনা সেটি পর্যবেক্ষণ করা।

পুরো মেলা পর্যন্ত এ ব্যবস্থা চালু থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিদিন দুই শিফটে আমাদের কর্মকর্তারা তাদের দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

তবে এবার মেলার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত তেমন কোন অভিযোগ আসেনি বলেও তিনি জানান।

এদিকে মেলার চতুর্থ দিনেও মেলায় প্রবেশ করলে কানে আসবে হাতুরি ও করাতের শব্দ। এখনও মেলার প্রায় ২০ শতাংশ স্টল নির্মানের কাজ বাকি। শিগগিরই বাকী শেষ হবে বলে মনে করছেন দোকান মালিকরা।

নির্মাণাধীন একটি জুতার দোকানের ম্যানেজার সালাউদ্দিন সারাবাংলাকে বলেন, দোকান বরাদ্ধ পেতে দেরি হওয়ায় তাদের নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। এছাড়া, নির্বাচনের কারণে সময় মত মিস্ত্রি না পাওয়ায় প্যাভিলিয়ন প্রস্তুত করতে কিছু সময় লেগে যাচ্ছে। তবে আগামীকালের মধ্যেই সম্পন্ন হয়ে যাবে বলেও তিনি জানান।

শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় আজও মেলায় ভিড় ছিল চোখে পড়ার মত। বিকাল থেকে মেলায় ভিড় বাড়তে থাকে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ছুটির দিনে মেলায় এসে কেনাকাটা করে বেজায় খুশি নগরীর মহাখালির বাসিন্দা আব্দুস সালাম শেখ।

তিনি জানান, মেলার শেষ দিকে অনেক ভিড় হয়। এ কারণে প্রথম দিকেই এসে প্রয়োজনীয় জিসিনি কিনে নিলাম। তবে এখনও মেলা পুরোপুরি জমে না উঠায় শেষের দিকে তিনি আবারও মেলায় আসবেন বলেও জানান।

গত ৯ জানুয়ারি বুধবার থেকে শুরু হয়েছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ)। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) আয়োজিত মেলা চলবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন, সাধারণ প্যাভিলিয়ন, মিনি প্যাভিলিয়ন, প্রিমিয়ার স্টল, সাধারণ স্টল, খাবারের দোকানসহ মেলায় মোট ৬০৫টি স্টল রয়েছে। এর মধ্যে ৩৫টি স্টল বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জন্য বরাদ্দ।

সারাবাংলা/এজেডকে/এনএইচ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন