শুক্রবার ২৬ এপ্রিল, ২০১৯ ইং , ১৩ বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ শাবান, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

বিএনপির জামায়াতপ্রীতি বনাম জনভীতি

জানুয়ারি ২৫, ২০১৯ | ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ

।। মোহাম্মদ নূরুল হক ।।

যেকোনো রাজনৈতিক দলের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত— জনসম্পৃক্ততা-জনসমর্থন-জনকল্যাণ। রাজনৈতিক দলগুলোকে এ-ও মনে রাখা উচিত, কোনো দল জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে ভোটের মাঠে যেমন তার ভরাডুবি ঘটে, তেমনি রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামেও মুখ থুবড়ে পড়ে সেই দল। আর গণতান্ত্রিক দেশের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের কাছে জনগণের মূল দাবি থাকে ক্রয়সীমার মধ্যে দ্রব্যমূল্য, চলাফেরার নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা।  বিপরীতে কার্যকর বিরোধী দলের কাছে প্রত্যাশা— সরকারের জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত-কর্মসূচির সমালোচনা করা, সংসদে ও রাজপথে সমানভাবে গণমানুষের ভাগ্যোন্নয়ন, তাদের জীবনযাত্রার মান, দেশের উন্নয়নের স্বার্থে কথা বলা। কিন্তু আমাদের দেশে সে ধরনের বিরোধী দল আছে কি না, তা ভেবে দেখার সময় এসেছে এখন।

দশম সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকায় ছিল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি। তবে সে বিরোধী দল প্রকৃত বিরোধী দল ছিল না।  কারণ, দলটির একাদিক নেতা যেমন সরকারের মন্ত্রিসভায় ছিলেন, তেমনি খোদ এরশাদও ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত। সঙ্গত কারণে জাতীয় পার্টি যথার্থ বিরোধী দলের ভূমিকা-দায়িত্ব কোনোটাই পালন করতে পারেনি। সরকারের সমালোচনা ছিল জাতীয় পার্টির জন্য আত্মঘাতী। কারণ দলটি তো সরকারেরও অংশ ছিল। আর বিএনপি তো ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন বর্জন করার কারণে সংসদেই থাকতে পারেনি। কিন্তু সংসদের বাইরে থাকলে যে সরকারের অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কিংবা জনগণের স্বার্থশ্লিষ্ট বিষয়ে কথা বলা যায় না, তা নয়। সদিচ্ছা থাকলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গুম-খুন ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে সমালোচনার সুযোগ যেকোনো রাজনৈতিক দলের জন্যই অবারিত। এছাড়া, নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, জনগণের বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করা ও স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার আদায়ে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামও যেকোনো রাজনৈতিক দল যেকোনো পরিস্থিতিতেই করতে পারে। কিন্তু বিএনপি জনগণের স্বার্থের জন্য এসবের কিছুই করেনি। তবে তারা আন্দোলন করেছে। কী সেই আন্দোলন?

বিজ্ঞাপন

বিএনপির আন্দোলন ছিল কখনও তারেক রহমানের মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে, কখনও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারামুক্তির দাবিতে। বিএনপি নেতাদের নামে থাকা মামলার রায় ঘোষণার পরও তারা আন্দোলন করেছে, আন্দোলন করেছে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার উদ্দেশ্যে। ওই সব আন্দোলন সংগ্রামে বারবারই তৈরি হয়েছে জনদুর্ভোগ। কখনও পেট্রোল বোমায় মানুষ মরেছে, কখনও হরতাল-অবরোধে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। আর বিএনপির এসব আন্দোলনের ক্ষীণ শিখার আগুনে বরাবরই ঘি ঢেলেছে জামায়াত।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় একের পর এক জামায়াত নেতার মৃত্যুদণ্ডাদেশের পর দলটি কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়ে। মৃত্যুদণ্ডের আদেশ একে একে কার্যকর হলে দলটি প্রায় নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়ে। সবশেষে নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন বাতিল করে দিলে রাজনৈতিক দল হিসেবেই অস্তিত্ব হারায় জামায়াত। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী জামায়াত এখন কেবলই ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’। আর এই সন্ত্রাসী সংগঠনটিই বিএনপির জোটবন্ধু।

অথচ বিএনপিকে আওয়ামী লীগসহ একাধিক রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সুশীল সমাজও বিএনপিকে বারবার জামায়াত-ত্যাগের পরামর্শ দিয়ে আসছে। কিন্তু দলটি জামায়াতের সঙ্গত্যাগ তো করেইনি, উপরন্তু সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে সংগঠনটির নেতাদের ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করারও সুযোগ করে দিয়েছে। এই নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের ভরাডুবির জন্য বিএনপির জামায়াত-সংশ্লিষ্টতাকে অনেকে দায়ী করেছেন। একইসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালনকারী অনেক রাজনীতিবিদ-বিশ্লেষকই বিএনপিকে জামায়াত-ত্যাগের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন।

জামায়াত ইস্যুতে কেউ কেউ ঐক্যফ্রন্টে ফাটলেরও আশঙ্কা করছেন। তবু জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করতে এখনও গড়িমসি করে চলেছে বিএনপি। দলটির জামায়াতপ্রীতি দেখে প্রথমেই তিনটি প্রশ্ন উঁকি দেয়। এগুলো হলো—

  • জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির গাঁটছড়া বাঁধার কারণ নৈতিক না রাজনৈতিক?
  • বিএনপির রাজনীতি দেশ-জাতির স্বার্থে, না যেকোনো উপায়ে ক্ষমতালাভের জন্য?
  • বিএনপির কাছে দেশ-জাতি-মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বড়, না জামায়াত বড়?

রাজনীতিতে জোটগঠন ও একাধিক দলের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনকে সাধারণত ইতিবাচকভাবেই দেখা হয়। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোটগঠনের ক্ষেত্রে দু’টি বিষয়কে গুরুত্ব দিতে দেখা গেছে— আদর্শিক জোট ও নির্বাচনি জোট।

আওয়ামী রাজনীতির বিপরীত ঘরানার দলগুলোর মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতের জোটের মূল নিয়ামক কী, সেটিই বড় প্রশ্ন। দল দু’টির গাঁটছড়ার পেছনে নৈতিক ভিত্তি বেশি কাজ করছে, নাকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য? দ্বিতীয় প্রশ্নের মীমাংসা আগে করা প্রয়োজন।

যদি দল দু’টি জোটবদ্ধ হওয়ার মূল কারণ রাজনৈতিক হয়ে থাকে, তাহলে দেশ ও জাতির স্বার্থে তাদের বিচ্ছেদও হতে পারে। কারণ, অনেক সময় পরিবর্তন ঘটে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের, দলীয় ইশতেহারেও। রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম-কর্মসূচিতেও থাকতে পারে মৌলিক পার্থক্য। সময়ের প্রয়োজনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিলে জোটে ভাঙনও দেখা দিতে পারে। আর তা হতে পারে মঙ্গলজনকও। অনেক সময় ভাঙনেই মঙ্গল বয়ে আনতে পারে। আর সেই জোট যদি হয় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত দলের সঙ্গে বিএনপির মতো একটি দলের, তাহলে জোটের ভাঙনকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক-বাহকরা ইতিবাচকভাবেই দেখবেন।

আর যদি বিএনপি-জাতায়াতের জোটগঠনের নেপথ্যের কারণ হয় নীতিগত, তাহলে বিচ্ছেদের সম্ভাবনা (আশঙ্কা দলটির দিক থেকে, কিন্তু নাগরিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সম্ভাবনাই) কম। যতদিন পর্যন্ত দল দু’টিতে নীতিগত পরিবর্তন আসবে না, ততদিনই জোট অটুট থাকবে। এখন ভেবে দেখতে হবে, দল দু’টির নীতিগত অবস্থান কী? মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরুর সময় এই উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করেছিল জামায়াত। বিভিন্ন সময়ে বক্তৃতা-বিবৃতি দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে লবিয়িস্ট নিয়োগ করেও এই বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছিল। জামায়াতের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে বিএনপিও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল।

অথচ রাজনৈতিক দল হিসেবে এবং তিন বার সরকার গঠনকারী দল হিসেবে বিএনপির উচিত ছিল মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়াকে অভিনন্দিত করা। এই বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্তদের তথ্য দিয়ে সহাযোগিতা করাও। কিন্তু বিএনপি তা করেনি। উল্টো বিভিন্ন সময় মানবতাবিরোধী অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার চেষ্টা করেছিল দলটি।

২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সংলাপে ডেকেছিলেন। ফোন করেছিলেন। কিন্তু খালেদা জিয়া ওই আহ্বানকে চরম দম্ভ ও তাচ্ছিল্যের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ও প্রচারিত টেলিফোন সংলাপের অডিও থেকে জনগণ সঙ্গে সঙ্গেই সেই আহ্বান ও প্রত্যাখ্যানের খবর জেনেছে। এরপর অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বিএনপি ওই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করলো, দলটির সঙ্গে সঙ্গে জামায়াতও। প্রত্যাখ্যানের মধ্যেই এই জোটটির কর্মসূচি সীমাবদ্ধ ছিল না। নির্বাচনের আগে-পরে হরতাল-অবরোধের নামে জনজীবনকে এই দু’টি দল বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে বিএনপি-জামায়াত জোট নিজেদের ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সরকারের কঠোর মনোভাব ও জনগণের সমর্থন না পাওয়ায় এই জোটটির আন্দোলন ফলপ্রসূ হয়নি।

ওই হরতাল-অবরোধে দলীয়ভাবে বিএনপি-জামায়াতের অর্জন প্রায় শূন্য হলেও শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। পঙ্গু হয়েছেন আরও কয়েকশ মানুষ। এই জোটটি সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে সরকারের পতনের স্বপ্নে এতই বিভোর ছিল যে, বিরোধী দলের ভূমিকা কী তাও ভুলে গেল। এই সময়ের মধ্যে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে কোনো প্রতিবাদ-সমাবেশ-বিবৃতিতেও তাদের দেখা যায়নি।

বিএনপি-জামায়াতের নিবিড় বন্ধন দেখে একটি প্রশ্ন মনের ভেতর প্রায় ঘুরপাক খায়— বিএনপির রাজনীতি কার স্বার্থে? দেশ-জাতির স্বার্থে, না যেকোনো পথে মসনদের বসার লোভে? দেশ-জাতির স্বার্থে হলে জনগণের কষ্ট হয় এমন কর্মসূচি দলটি দিতে পারত না। শুধু তাই নয়, জনগণের ডাকা আন্দোলন সংগ্রামেও অংশ নিত। বাস্তবে তা হয়নি। এমপিওভুক্তির দাবিতে শিক্ষকদের আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে ডাকা স্কুলশিক্ষার্থীদের আন্দোলন— এর কোনোটিতেই বিএনপিকে জনতার পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়নি। অর্থাৎ জনগণের দুঃখ-কষ্টের ভার লাঘবে বিএনপি কোনো ভূমিকাই রাখতে চায়নি। দলটি কেবল নিজেদের নেতাকর্মীদের স্বার্থরক্ষায় ব্যতিব্যস্ত ছিল। এমনকি এখনও তাই আছে।

এ কারণে গণমানুষের কল্যাণে বিএনপির কোনো আগ্রহ নেই। এভাবে জনগণকে উপেক্ষা করতে করতে দলটি প্রায় জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বললেও অত্যুক্তি হবে না। ঘটনা যখন এমন, তখন বিএনপিও বুঝতে পেরেছে, জনগণ তাদের সঙ্গে নেই। তাই জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষমতার পটপরিবর্তনে দলটির আস্থা কম। তাই বিএনপির রাজনীতিতে জনকল্যাণের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

দেশপ্রেমিক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনীতিবিদ— সবাই যখন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতকে বিচারের মুখোমুখি করানোর দাবি জানাচ্ছে, তখনও বিএনপি দলটির সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেই আছে। কোনোভাবেই জামায়াতসঙ্গ ত্যাগে আগ্রহী নয় বিএনপি। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থেকে শুরু করে রাজনীতি বিশ্লেষকরা যেখানে বিএনপিকে জামায়াতসঙ্গ ত্যাগে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন, দলটির অবস্থান তখনও নিজেদের জোট অটুট রাখার পক্ষে। অথচ জাতি ও দেশের স্বার্থে বিএনপির অবস্থান হওয়া উচিত মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী দল জামায়াতসঙ্গ ত্যাগ করা।

বিএনপি-জামায়াত জোটের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে তাদের কর্মকাণ্ড ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে একটি সাধারণ ধারণা পাওয়া সম্ভব। রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে তেমন সাফল্য অর্জন করতে পারেনি কখনও। এমনকি রাজপথে নেমে পুলিশ বা প্রতিপক্ষের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে টিকে থাকতেও পারে না। যেটুকু আন্দোলন সংগ্রামে বিএনপিকে দেখা গেছে, সেখানেও জামায়াত-শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের সহযোগিতা ছিল প্রত্যক্ষ। অর্থাৎ বিএনপির হরতাল-অবরোধে মূলত জামায়াত-শিবিরের কর্মী-সমর্থকদেরই সক্রিয় ভূমিকা রাখে। বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা মূলত জামায়াত-শিবিরের ছায়াতলেই ঘোরেন। ফলে বিএনপির জামায়াতপ্রীতির এটিও একটি বড় কারণ। এ কারণে বিএনপি জনস্বার্থের চেয়ে জামায়াতস্বার্থকেই হয়তো বড় করে দেখে।

একথা অস্বীকার করা যাবে না যে, রাজনৈতিক-সামাজিক বা ব্যবসায়িক সম্পর্ক সময়ের প্রয়োজনে গড়ে ওঠে। প্রয়োজন ফুরালে সে সম্পর্কে ফাটলও ধরে। কিন্তু নৈতিক সম্পর্ক কখনোই ছিন্ন হওয়ার নয়। তাই বলা যায়, বিএনপির সঙ্গে যদি জামায়াতের সম্পর্ক কেবল রাজনৈতি হতো, তাহলে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দলটি মানবতাবিরোধী অপরাধীদের দলকে ত্যাগ করত। তাহলে এমন প্রশ্ন তোলা কি অসঙ্গত হবে— জোটগঠনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের চেয়ে নৈতিক কারণই বড় বলেই বিএনপি আপাতত জামায়াতসঙ্গ ত্যাগ করতে দ্বিধা বোধ করছে?

লেখক: বার্তা সম্পাদক, সারাবাংলা ডটনেট

সারাবাংলা/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন