বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই, ২০১৯ ইং , ৩ শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৪ জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

ছাদবাগানে ব্রোকলি, সঙ্গে ফুলকপি-পাতাকপি

জানুয়ারি ২৫, ২০১৯ | ৩:২৬ অপরাহ্ণ

পর্ব-৩৫ 

শীতকাল মানেই রান্নাঘরে ফুলকপি, পাতাকপি, টমেটো, লেটুস, ক্যাপসিকামসহ কত কি মজাদার সবজির ঘ্রাণ। গ্রীষ্মপ্রধান দেশ বাংলাদেশ।  তাই এখানে শীতের সবজি পাওয়া যায় খুব কম সময়ের জন্য। ছেলেবেলায় তো ধনেপাতা বা লাউয়ের মতন সবজি শীত ছাড়া দেখিনি কখনও। এখন তো সারা বছরই এমন সবজিগুলোকে বাজারে পাওয়া যায়।

আজকাল হাইব্রীড চাষাবাদ আর কোল্ড স্টোরেজ সুবিধার জন্য শীতকাল ছাড়াও বছরের অন্যান্য সময়েও ফুলকপি, পাতাকপি বা টমেটোর দেখা পাওয়া যায় কিছু কিছু জায়গায়। কিন্তু শীতের সবজিগুলোর শীতকালীন গন্ধ আর অন্য সময়ের গন্ধে আমি অনেক পার্থক্য খুঁজে পাই।

ফুলকপি, পাতাকপি আর ব্রোকলি শুধুমাত্র আবাদী জমিতেই চাষ করা যায়, এমন একটা চলতি কথা শুনে এসেছি সবসময়। তাই, আগে কখনও চিন্তাও করিনি যে ছাদবাগানে এসব সবজির চাষাবাদ করবো। তারপরও মাঝেমধ্যেই শীতের সময় নার্সারীগুলোতে টমেটো, লেটুস বা ক্যাপসিকামের সাথে এদের চারা দেখতে পেয়ে অবাক হয়েছি খুব। কখনও সাহস করিনি ছাদে চাষ করবার। কাউকে পাইওনি যে জিজ্ঞাসা করবো এদের সম্পর্কে।

বিজ্ঞাপন

ছাদবাগানে ব্রোকলি

এবার শীত আসবার আগে কিছু শীতের ফুলের চারা আনতে নার্সারী গিয়েছিলাম। ফুলের চারার সাথে ফুলকপি, ব্রোকলি আর পাতাকপির চারা দেখে আর নিজেকে দমিয়ে রাখতে পারিনি সেদিন। খুব সাহস নিয়ে অল্প কিছু পাতাকপি, ফুলকপি আর ব্রোকলির চারা এনেছিলাম। মাথায় তখনও প্রশ্ন ঘুরছিলো যে কি করে বা কেমন করে এগুলোকে বড় করবো বা কোথায় রাখবো তাদের। উত্তর পাওয়ার আগে খুব গুছিয়ে তাদের ছাদের এক কোনে রেখেছিলাম সেই বিকেলে।

মাটির দশ বারোটা মাঝারী টব একদম খালি করা ছিল ছাদবাগানে। হঠাৎ করেই মনে হয়েছিল যে একটা টবে একটা করে চারার জায়গা করে দিলে, হয়তো ভালোই হবে, বেঁচে তো থাকবে। যেই চিন্তা সেই কাজে নেমে গিয়েছিলাম পরদিন। মাটি আর জৈবসার একসাথে মিশিয়ে টবগুলোতে একটা একটা করে চারাদের বাসস্থান করে দিয়েছিলাম। হালকা জল ছিটিয়ে মাটি ভিজিয়ে এসেছিলাম।

খুব ধীরে বড় হচ্ছিল তারা। তিন চারটা পাতা ছাড়বার সাথে সাথে হেলে যাচ্ছিল একদিকে। ছোট ছোট বাঁশের কঞ্চি সুতোয় বেঁধে কাঁধ করে দিয়েছিলাম। এর মাঝে খোঁজ নিচ্ছিলাম তাদের আলাদা কোন যত্ন নিতে হয় কিনা। চেনা এক মালীকে জিজ্ঞাসা করায় সে প্রথমেই টবে বুনেছি বলে বলেছিল, হইবো না আপা। শুধুই পাতা গজাইবো। শাক খাইতে পারবেন। আমি তারপরও প্রশ্ন করছিলাম তাকে, কৃষকেরা ভালো ফুলকপি বা পাতাকপি পাওয়ার জন্য কি কি যত্ন নেন। সে তখন সমাধান দিয়েছিল বেশ। দশ পনেরোদিন পর আবারও জৈবসার আর খৈল দিতে বলেছিল। একবেলা ভরপুর জল খাওয়াতে হবে নিয়ম করে, প্রতিদিন। চারা নরম থাকতে ল্যাদা পোকার আক্রমণ হয় এসব সবজিতে। তাই খুব খেয়াল রাখতে হবে যেন মাথাগুলো পোকা না খেতে পারে।

নিশ্চিন্তে সময় পার করছিলাম। ছাদে ল্যাদা পোকা আসবে কেমন করে, মাথায় আসছিল না। কেঁচো, শামুক বা শুঁয়োপোকা সবসময়ই দেখি ছাদবাগানে। কীটনাশক ব্যবহার করি না বলে জ্বালাতন করে খুব। তাই বলে ল্যাদাপোকা! হায় সেই মালীর কথা অক্ষরে অক্ষরে মিলে গিয়েছিল একদিন। সকাল সকাল ছাদবাগানে গিয়ে দেখেছিলাম তিনটা পাতাকপি আর দুইটা ফুলকপির চারা প্রায় মুড়িয়ে খেয়ে রেখেছে কেউ। তবে ব্রোকলি চারাদের কেউ ধরেনি। এসব পোকায় প্রচন্ড গা শিরশির করে আমার। তাই সেই মালীকে জোর করে ওইদিনই নিয়ে এসেছিলাম বিকালে। কি আশ্চর্য, সহজ ভাবে হাসতে হাসতে সে ল্যাদাপোকার সন্ধান পেয়ে সবগুলোকে নির্বংশ করেছিল একবারে। আমার প্রচন্ড আপত্তি থাকা সত্ত্বেও সাথে আনা হালকা কীটনাশক ছড়িয়ে দিয়েছিল চারার চারিদিকে। আবারও হেসে উঠে বলেছিল, এসব সবজি করতে হইলে একটু আধটু ওষুধ দেওয়াই লাগবো আপা। না হইলে সফল হইবেন না।

ছাদবাগানে ব্রোকলি

ফুলকপি আর পাতাকপির পাতা মিষ্টি স্বাদের তাই ল্যাদাপোকাদের আকর্ষণ তাদের প্রতি বেশি। ব্রোকলির পাতা তিতকুঁটে, সে কারণে ল্যাদাপোকা থেকে প্রাণে বেঁচে যায় এরা। সব মিলিয়ে বিশটি চারা থেকে প্রায় পনেরোটিকে সুস্থ সবল করে বড় করতে পেরেছি। টবে সীমিত মাটিতে ধীর লয়ে বড় হচ্ছে সবাই। পোকার আক্রমণ হয়নি আর। দেখতে ভিষন সুন্দর, একেবারে চোখ জুড়িয়ে যায়। এই হচ্ছে আমার ফুলকপি, পাতাকপি আর ব্রোকলি সবজি পরিবারের গল্প।

খুব সহজে কপি জাতীয় সবজির চাষাবাদ করবার উপায়গুলো জানিয়ে দিলাম। আগামীতে আপনাদের ছাদবাগান বা বারান্দায় শীতের সবজি পাওয়ার জন্য একটু আধটু কষ্ট করে দেখতে পারেন। ভরপুর জল, সময় মত পোকার আক্রমণ থেকে বাঁচাতে পারলে আমার মত আপনিও কোন এক বেলায় নিজের হাতে চাষ করা ফুলকপি, পাতাকপি বা ব্রোকলি রান্না করে খেতে খেতে বলে উঠবেন, চাষী পরিবার, সুখী পরিবার।

সারাবাংলা/আরএফ 

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন