রবিবার ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১০ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

কাঠগড়ায় ‘আদর্শ কোরিয়ান সৌন্দর্য’!

ফেব্রুয়ারি ১, ২০১৯ | ৭:৫১ পূর্বাহ্ণ

রাজনীন ফারজানা ।।

বিজ্ঞাপন

ফ্যাঁকাসে সাদা নিদাগ ত্বক, পাতলা শরীর, ছোট আকারের মুখ, ভি আকৃতির চিবুক, ছোট্ট পাতলা ঠোঁট, টানটান সোজা ভ্রু, বড় চোখ, চোখের ওপরের পাতায় ভাঁজ যা থাকলে চেহারা নিষ্পাপ দেখায়, আর চোখের নীচে ফোলা ভাব— এই হলো পূর্ব এশিয়ার দেশ কোরিয়ায় সৌন্দর্য বিচারের মাপকাঠি, যাকে আদর্শ কোরিয়ান সৌন্দর্যের বৈশিষ্ট্যও (Korean standard beauty) বলা হয়। এমনকি মেয়েদের শারীরিক কাঠামো ফুটিয়ে তুলতে টাইট ফিটিং পোশাকও পরতে হয়। কালে কালে এই কোরিয়ান বিউটি স্ট্যান্ডার্ড হয়ে উঠেছে দেশটির সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

বিশ্বব্যাপী কোরিয়ান আদর্শ সৌন্দর্য জনপ্রিয় হয় মূলত কে-পপ ব্যান্ডগুলোর হাত ধরে।  কোরিয়ান পপ সঙ্গীতের সংক্ষিপ্ত রূপ হল কে-পপ।  এসব পপ ব্যান্ডগুলোর সদস্যদের গান যেমন জনপ্রিয়, তেমনি তাদের জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে শারীরিক গঠনের সৌন্দর্যও, যাকে আদর্শ ধরা হয়।

বিজ্ঞাপন

কোরিয়ান বিউটি স্ট্যান্ডার্ড মূলত দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্কৃতি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দ্রুত আধুনিকায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ফলে দক্ষিণ কোরিয়ায় সৌন্দর্যকে আর্থসামাজিক সাফল্যের ধারক হিসেবে বিবেচনা করা হতে থাকে। অথচ কোরিয়ায় অর্থনৈতিক উন্নতি যতটা নজরকাড়া, সেখানে চাকরির বাজার ততটা বিস্তৃত হয়নি। তাই চাকরি পেতে উচ্চশিক্ষা বা অন্যান্য যোগ্যতার চেয়ে অনেক সময় শারীরিক সৌন্দর্য মুখ্য হিসেবে বিবেচনা করার প্রচলন শুরু হয়। অনেক প্রতিষ্ঠানেই কাজ পেতে ‘পারফেক্ট’ ফটো দরকার হয়। বিবেচিত হয় প্রার্থীর উচ্চতা, এমনকি পরিবারের অবস্থাও খতিয়ে দেখা হয়।

অবস্থা এতটাই গুরুতর যে ২০১৭ সালের এক জরিপ বলছে, দক্ষিণ কোরিয়ার ৮৮ ভাগ মানুষ ভাবে চাকরি পাওয়ার জন্য চেহারা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই তারা আদর্শ চেহারা বানাতে প্লাস্টিক সার্জারি করান।  চাকরি পাওয়ার জন্য ‘পারফেক্ট’ ফটো তুলে দিতে সেখানে গড়ে উঠেছে অসংখ্য স্টুডিও। ক্যান্ডিডেটদের এসব ‘পারফেক্ট’ বা নিখুঁত ছবি দক্ষিণ কোরয়িার রাজধানী সিউলের অফিসগুলোর পুরুষনিয়ন্ত্রিত বোর্ডরুমের নিয়োগ কর্তাদের হাতে হাতে ঘুরে বেড়ায়।

এসব কারণেই দক্ষিণ কোরিয়ায় সৌন্দর্যের পিছনে প্রতি বছর ১৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয়, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ।  বিনিয়োগ করা হয় মূলত সৌন্দর্য প্রসাধনী, প্লাস্টিক সার্জারি, বিউটি ট্রিটমেন্ট (সৌন্দর্য বাড়নোর জন্য), ডার্মাটোলজি (ত্বক, চুল ও নখের চিকিৎসা বিষয়ক), কসমেটিক্স সার্জারি ইত্যাদির জন্য।

প্রসাধন ও ত্বকচর্চা

টেলিভিশন অনুষ্ঠান, বিজ্ঞাপন ও ঐতিহ্যে অনুপ্রাণিত হয়ে কোরিয়ানরা সৌন্দর্যচর্চা করে থাকেন।  এখানে সৌন্দর্যচর্চার মূল উদ্দেশ্যই ফর্সা, কাঁচের মতো উজ্জ্বল ত্বক পাওয়া।  ঋতু অনুযায়ী বদলে যায় তাদের ত্বকচর্চার ধরণও।

আমেরিকান সৌন্দর্য চর্চার সাথে দক্ষিণ কোরিয়ান সৌন্দর্য চর্চার একটা বড় পার্থক্য আছে। আমেরিকান আদর্শ অনুযায়ী তিন ধাপে ত্বক পরিচর্যা করা হয়— ক্লিনজিং, টোনিং ও ময়েশ্চারাইজিং।  আর কোরিয়ান ত্বক চর্চা হয় ১০ ধাপে— মেকআপ রিমুভিং, অয়েল ক্লিনজিং, ওয়াটার বেজড ক্লিনজিং, এক্সফোলিয়েশন, টোনার, এজেন্স, সেরাম, বুস্টার ও অ্যাম্পুল, শিট মাস্ক, আই ক্রিম, ময়েশ্চারাইজার এবং সবশেষে সানব্লক দিয়ে শেষ হয় এই সৌন্দর্যচর্চা।

কোরিয়ানরা সাধারণত প্রতিদিন মেকআপ করে, যা সূর্যের আলো থেকে তাদের ত্বক রক্ষা করে। কোরিয়ানরা যতটা সম্ভব সুর্যালোক এড়িয়ে চলে। কারণ তাদের সৌন্দর্য চর্চার প্রধান উদ্দেশ্যই নিজেদের ধবধবে ফর্সা দেখানো।  তাই এখানকার প্রসাধনীর মাঝে ত্বক ফর্সাকারী উপাদান থাকে। কোরিয়ান ত্বক ফর্সাকারী প্রসাধনীতে ব্লিচিং নয়, থাকে মেলানিন (যা ত্বকের কালোভাবের জন্য দায়ী) দূর করার উপাদান।  আর ত্বকের রঙ হালকা করার জন্যে স্কিন লাইটেনিং করা হয় যার মূল উদ্দেশ্য হাইপার পিগমেন্টেশন (জায়গায় জায়গায় কালো দাগ) দূর করা।

আদর্শ কোরিয়ান সৌন্দর্য
আদর্শ কোরিয়ান সৌন্দর্য

এশিয়ার যেকোনো দেশের তুলনায় দক্ষিণ কোরিয়ার মেয়েরাই প্রসাধনী পণ্যের জন্য সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করে থাকে।  শুধুমাত্র দেশের ভেতরেই নয়, সারাবিশ্বেই জনপ্রিয় কেরিয়ান প্রসাধন সামগ্রী। কেবল ২০১৫ সালেই তারা ২.৬৪ বিলিয়ন ডলারের প্রসাধনী রফতানি করেছে সারাবিশ্বে।  এসব পণ্যের মাঝে জনপ্রিয় হচ্ছে বিবি ক্রিম (ব্লেমিশ বাম যা দাগ ঢেকে দেয়), সিসি ক্রিম (কালার কারেকশন বা ত্বক রঙ নিখুঁত দেখানোর ক্রিম), নানারকম সিরাম, এজেন্ট, অ্যাম্পুল, সি উইড ফেস মাস্ক ও স্ক্রাব।

কোরিয়ান মেয়েরাই শুধু নয়, ছেলেরাও নিয়মিত বিবি ও সিসি ক্রিম মেখে থাকে। দক্ষিণ কোরিয়ায় ছেলেদের শেভ করার পরে ত্বকে আরামের অনুভূতি এনে দেওয়ার জন্য বিশেষ প্রসাধনী উৎপাদন করা হয়।

কোরিয়ান সৌন্দর্য বাড়ানোর প্রসাধনীর মধ্যে শামুকের নির্যাস পাওয়া যায়, যা পশ্চিমা দেশের কোনো প্রসাধনীতে নেই। তাই আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তেই দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এসব পণ্য।  লন্ডনভিত্তিক স্ট্র্যাটেজিক মার্কেট রিসার্চ প্রতিষ্ঠান দ্য ইউরোমনিটর ইন্টারন্যাশনাল ভবিষ্যদ্বাণী করেছে, ২০১৯ সালের ৮০ শতাংশ ত্বক পরিচর্যার প্রসাধন এশিয়া থেকে সারাবিশ্বে সরবরাহ করা হবে।  মূলত জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকেই সরবরাহ করা হবে এসব পণ্য, যার মূল উদ্দেশ্য আদর্শ কোরিয়ান সৌন্দর্য অর্জন।

প্লাস্টিক সার্জারি

সারাবিশ্বেই কোরিয়ান মেয়েদের রূপচর্চা ও মেকআপ টেকনিক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।  কিন্তু খোদ কোরিয়ানরাও যেন তাতে সন্তুষ্ট নন। সে কারণে এই আদর্শ সৌন্দর্য পেতে মরিয়া নারীরা ১০ ধাপের রূপচর্চার বাইরেও নিজেকে সঁপে দিচ্ছেন ছুরি কাঁচির নিচে।

প্লাস্টিক সার্জারিতে অন্যতম শীর্ষ দেশ এখন কোরিয়া। ২০১৫ সালের হিসেব অনুযায়ী ব্রাজিল, আমেরিকা, ইতালি ও কমলম্বিয়ার পাশাপাশি কোরিয়াও প্লাস্টিক সার্জারি হয়— এমন দেশের তালিকায় শীর্ষ দশে উঠে আসে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় প্লাস্টিক সার্জারি এতটাই জনপ্রিয় যে ‘লেট মি ইন’ নামক একটা শো দেখানো হয় যেখানে মুখাবয়বে খুঁত আছে— এমন কাউকে এনে অপারেশনের মাধ্যমে ‘পারফেক্ট’ চেহারা দেওয়া হয়। এরকম কিছু অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই কোরিয়ান প্লাস্টিক সার্জারি বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় স্কুলের ছাত্রদের কোনোরকম মেকআপ করা বা গয়না পরা নিষিদ্ধ। ফলে তারা হীনমন্যতায় ভোগে ও আত্মবিশ্বাসের অভাব দেখা দেয়। কারণ, সবাই চায় নিজেকে অন্যের চাইতে বেশি সুন্দর লাগুক। ২০০৮ সালের একটা জরিপে দেখা যায় প্লাস্টিক সার্জারি করা দক্ষিণ কোরিয়ান মেয়েদের ২০ শতাংশই অল্পবয়সী।

অপারেশনের মাধ্যমে চেহারা বদল দক্ষিণ কোরিয়ায় বেশ স্বাভাবিক ঘটনা। বিশেষত, মেয়েরাই এটা বেশি করে থাকে। এক জরিপে দেখা গেছে, ১৯ থেকে ৪৯ বছর বয়সী প্রতি তিন জনে একজন কোরিয়ান নারী অন্তত একটা প্লাস্টিক সার্জারি করিয়েছেন।

সবচাইতে জনপ্রিয় হচ্ছে চোখের পাতা অপারেশন (রাইনোপ্লাস্টি) করিয়ে একটা ভাঁজ সৃষ্টি (ডাবল আইলিড) করা, যেন চোখ বড় দেখায়। এখানকার ছেলেমেয়েদের হাইস্কুল পাশ করার পর গ্র্যাজুয়েশন গিফট হিসেবে রাইনোপ্লাস্টি উপহার দেওয়ার বেশ চল আছে।

আদর্শ কোরিয়ান সৌন্দর্য
আদর্শ কোরিয়ান সৌন্দর্য

এশিয়ান বা মঙ্গোলিয়ান চেহারার একটা সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো— মুখের হাড়ের গঠন কিছুটা চ্যাপ্টা ও চওড়া। পশ্চিমাদের মত খাড়া বা চোখা চেহারা পেতে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্লাস্টিক সার্জারি করা হয়। একে বলা হয় বোন কন্ট্যুরিং বা ফেসিয়াল কন্ট্যুরিং। দক্ষিণ কোরিয়ার বেশিরভাগ তারকাই চিকবোন বা কপোলের হাড়, চোয়াল বা জ্য লাইন আর চিন বা থুঁতনি অপারেশন করিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার আদর্শ ডিম্বাকৃতির মুখাবয়ব তৈরি করেন। কোরিয়ায় ফেসিয়াল বোন কন্ট্যুরিং টেকনিকের উপর উচ্চমানের ইলাস্ট্রেশন করা সার্জনদের উপযোগী বইও পাওয়া যায়।

ফ্রি দ্য করসেট আন্দোলন

দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় ইউটিউবার লিনা বায়ে ইউটিবিউবে মেকআপ ভিডিও আপ করতেন। তিনি এক পর্যায়ে মেকআপ মুছে নিজের আসল চেহারা দেখানো ভিডিও আপ দিতে শুরু করেন। পাঁচ লাখের বেশি ভিউ পায় তার এই ভিডিওটা।  কয়েকহাজার প্রশংসার বিপরীতে কয়েক হাজার ব্যক্তি আক্রমণেরও শিকার হন তিনি। লিনা ভেবেছিলেন এর জন্য তার বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা হবে। কিন্তু এর জন্য যে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হবে, তা তিনি ভাবেননি।  বেশ কিছুদিন প্রাণের ভয়ে বাড়ি ছেড়ে লুকিয়ে থাকতে হয় তাকে।

দক্ষিণ কোরিয়াতে পারফেক্ট লুক ঠিক এতটাই প্রভাব ফেলে।  মেয়েরা নিজের চেহারা দেখাতে রীতিমত আতঙ্কে ভোগেন। কারণ, এতে তার সামাজিক অবস্থান ক্ষুণ্ন হয়।

সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়াতেও বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া #মিটু আন্দোলনের প্রভাবে পড়তে শুরু করেছে। এখানকার মেয়েরাও তাদের ওপর হয়ে যাওয়া যৌন নির্যাতনের ঘটনা শেয়ার করতে শুরু করেছেন।

সবচাইতে বড় প্রতিবাদটা এসেছে কোরিয়ান মেয়েদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া আদর্শ সৌন্দর্যের ধারণার বিরুদ্ধে। কোরিয়ান আদর্শ সৌন্দর্য পাওয়ার জন্য প্লাস্টিক সার্জারি যেমন জনপ্রিয়, তেমনি বিপরীতে ফ্রি দ্য করসেট মুভমেন্টও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। করসেট কোমরে পরা হয় যাতে কোমর সরু দেখায়, নিতম্ব বড় দেখায় ও স্তন সাপোর্ট পায়। মূলত আদর্শ নারী শরীর (আওয়ার গ্লাস বডি) পেতে যুগে যুগে করসেট পরানো হয় নারীদের। কোরিয়ান মেয়েদের করসেট পরতে হয় না। সেখানে করসেটকে একটা সামাজিক বন্ধন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে সমাজ সৌন্দর্যের একটা মান নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। এই মানদণ্ডটাকে অনেক দক্ষিণ কোরিয়ান নারীই অবাস্তব হিসেবে বিবেচনা করছেন।  ফ্রি দ্য করসেট আন্দোলনের উদ্দেশ্য এই মানদণ্ড মানতে বাধ্য করার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া।

আদর্শ কোরিয়ান সৌন্দর্য
আদর্শ কোরিয়ান সৌন্দর্য

এই মানদণ্ড অর্জন করতে মেয়েদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ত্বক পরিচর্যা ও মেকআপের জন্য সময় দিতে হয়। অনেকেই এইসব অবাস্তব নিয়ম আর মানতে চাইছেন না।  তাই তারা ফ্রি দ্য করসেট আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন।  অনেকেই তাদের মেকআপ নষ্ট করে ফেলছেন, চুল কেটে ফেলছেন, ড্রেসআপ বা ফিটফাট থাকার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আরামদায়ক পোশাক পরছেন এবং ছুরি কাঁচির নিচে নিজেকে সঁপে দিতে অসম্মতি জানাচ্ছেন। অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওতে নিজেদের মেকআপ তুলে আসল চেহারা দেখাচ্ছেন। ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব ও টুইটারে অনেকেই ভিডিও শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে জানাচ্ছেন যে তারা তাদের আসল চেহারা নিয়ে মোটেই অসন্তুষ্ট না।

এই আন্দোলনের মাধ্যমে তারা মেকআপ করার বিরুদ্ধে অবস্থান নেননি।  কেউ চাইলে মেকআপ করতেই পারে তবে কোন নারীকে যেন তা করতে বাধ্য করা না হয়, সেটাই এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য।

ব্রেকিং ফ্রি অফ বিউটি স্ট্যান্ডার্ডস

দক্ষিণ কোরিয়ায় সৌন্দর্যের মূল উদ্দেশ্য বয়স কম দেখানো। তাই সেখানে চশমার বদলে লেন্স পরা হয়। শুধু মেয়েরাই নয়, ছেলেরাও টেলিভিশনের সামনে চশমা পরতে চান না। তবে অনেক ছেলে চশমা পরলেও মেয়েরা এড়িয়ে যান। কিন্তু এখন ফ্রি দ্য করসেট আন্দোলনের অংশ হিসেবে অনেকেই জনসম্মুখে চশমা পরতে শুরু করেছেন। যেমন, দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদভিত্তিক টিভি চ্যানেল এমবিসির সংবাদ পাঠিকা হিয়ুন-জু-ইম লেন্স এবং ফেইক আইল্যাশ বাদ দিয়ে চশমা পরে খবর পাঠ করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার সামজিক অবস্থানের বিবেচনায় এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। লিনার মতো তিনিও সমালোচনার ভয়ে ছিলেন। তবে তাকে সমর্থন করে লেখা হাজারখানেক মেইল পেয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমকে জানান হিয়ুন।

আদর্শ কোরিয়ান সৌন্দর্য
আদর্শ কোরিয়ান সৌন্দর্য

হিয়ুন আরও বলেন, চশমা পরার সিদ্ধান্ত তার মানসিক অবস্থানই বদলে দিয়েছে।  আগের চাইতে অনেক বেশি স্বাধীনভাবে চলতে পারেন তিনি এখন।  টাইট ফিটিং কাপড়ের বদলে আরামদায়ক ঢিলেঢালা শার্ট ও ট্রাউজারস পরেন, যা আগে পরার কথা চিন্তাও করতেন না।

যুগে যুগে নানা দেশেই নারী-পুরুষের সৌন্দর্যকে নানা উপমার আড়ালে একটা আদর্শ চেহারা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। সেই আদর্শ সৌন্দর্য অর্জন করাকেই অনেকে জীবনের অপরিহার্য অংশ ভেবে নেন। এভাবে পিছিয়ে যায় নারী-পুরুষ উভয়ের এগিয়ে চলা। তবে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার মূল শিকার মূলত নারী। অনেকেই আদর্শ চেহারা না থাকায় চাকরি পেতে কিংবা অন্য ক্ষেত্রে পিছিয়ে যাচ্ছেন। এভাবেই নিজের চেহারা নিয়ে অসন্তুষ্টি বাড়ছে ফলে বাড়ছে নিজেকে বদলে ফেলার প্রতিযোগিতা। অনেকে আশ্রয় নিচ্ছেন প্লাস্টিক সার্জারি বা মাত্রাতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহারের মতো কৃত্রিম মাধ্যমের। আশার কথা হচ্ছে, কোরিয়ায় আদর্শ সৌন্দর্য পাওয়ার যে অসুস্থ সংস্কৃতি চালু হয়েছে তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন অনেকে। সমালোচিত হচ্ছে এই ধারা। বলা হচ্ছে একজন ব্যক্তি যেমনই হোক সেভাবেই তাকে গ্রহণ করতে হবে, করতে হবে সম্মান।

সারাবাংলা/আরএফ/এসএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন