শনিবার ২০ এপ্রিল, ২০১৯ ইং , ৭ বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৩ শাবান, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

অমর একুশে গ্রন্থমেলা কাল শুরু, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

জানুয়ারি ৩১, ২০১৯ | ৫:৩৩ অপরাহ্ণ

হাসনাত শাহীন ।।

এবারের থিম : ‘বিজয় বায়ান্ন থেকে একাত্তর : নবপর্যায়’
থাকছে-ক্ষুদ্র প্রকাশনা সংস্থা ও ব্যাক্তি উদ্যোগে প্রকাশিত বই বিক্রির ব্যবস্থা
বাংলা একাডেমি প্রকাশ করছে নতুন ও পুনর্মুদ্রিত ১০২টি বই

মহান ভাষা আন্দোলনের শহিদদের স্মরণে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিজুড়ে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’। বাঙালি জাতিসত্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষের প্রতীক ‘বাংলা একাডেমি’র আয়োজনের বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সময়ব্যাপী এই গ্রন্থমেলা শুধু বইয়ের মেলাই নয়, একইসঙ্গে ভালোবাসা ও আবেগেরও।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশে হাজারো মেলার মাঝে এই বইমেলার গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। দীর্ঘ সময় ধরে বাঙালির সাহিত্য ও বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ ঘটছে মূলত এ মেলাকে কেন্দ্র করে। বাঙালির ভাষা, সাংস্কৃতি বোধ ও ঐতিহ্যের সমন্বয়নে এই গ্রন্থমেলার মেলার শুরু আগে থেকেই তাই আপামর বাঙালির প্রাণে ধ্বনিত হয় ‘লেখক-পাঠক-প্রকাশক’-এর মিলিত হওয়ার সুর।

মেলা শুরু হলে সেই সুরে জমে ওঠে আড্ডা। চলে ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকে শেষদিন পর্যন্ত। বছর ঘুরে আবারও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বইপ্রেমিদের আড্ডায় আর লেখক-প্রকাশকদের মাঝে সেই সুরের অনুরণন; আর, সেই সুরের অনুরণনের অপেক্ষা শেষ হতে যাচ্ছে অচিরেই। কেননা, দুয়ারে কড়া নাড়ছে ফেব্রুয়ারি। আজ বাদেই কাল শুরু ভাষা আন্দোলনের চেতনাসিক্ত ফেব্রুয়ারি। এ মাসের প্রথম দিন শুক্রবার থেকেই শুরু হচ্ছে ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০১৯’।

পর্যাপ্ত নিরাপত্তায় চাদরে মোড়ানো এবারের এ গ্রন্থমেলা ছুটির দিন ছাড়া ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ছুটির দিন বেলা ১১ টা থেকে রাত ৯টা এবং ২১শে ফেব্রুয়ারি সকাল ৮ টা থেকে যথারীতি রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলবে। রাত সাড়ে ৮টার পর আর কেউ মেলায় প্রবেশ করতে পারবে না।

বাঙালির প্রাণের মেলা, জ্ঞানের মেলা এ ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’ শুরুর সঙ্গে-সঙ্গেই বইপ্রেমীদের চঞ্চলতা আর প্রাণস্পন্দন ছড়িয়ে পড়বে মেলার এক ভেন্যু ‘বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ’ থেকে দেশের সৃজনশীল প্রকাশনা সংস্থাগুলোর স্টল এবং বাংলা একাডেমি ও শিশুতোষ বইয়ের প্রকাশনা সংস্থাগুলোর স্টল দিয়ে সাজানো আরেক ভেন্যু ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যান’ প্রাঙ্গণেও। ইতোমধ্যে নতুনরূপে-নতুনসাজে সেজে উঠেছে মেলার দুই প্রাঙ্গণ।

এই নতুনসাজে সেজে ওঠা গ্রন্থমেলার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রতিবারের মতো এবারও ফেব্রুয়ারির প্রথমদিনের বিকেলে তিনটায় অনুষ্ঠিত হবে উদ্বোধনী আয়োজন। এই আয়োজনে অমর একুশের ভাষা শহীদদের স্মরণের এবারের এই মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একইসঙ্গে তিনি এবারের গ্রন্থমেলার এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৮’প্রাপ্তদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন।

সংবাদ সম্মেলনে বইমেলার সার্বিক আয়োজন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী

একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার সকালে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলা একাডেমির গ্রন্থমেলার সার্বিক প্রস্তুতির বিস্তারিত তুলে ধরেন মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য-সচিব ড. জালাল আহমেদ। পরে বক্তব্য রাখেন ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী।

এছাড়া এ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন গ্রন্থমেলার ইভেন্ট ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান নিরাপদ মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন, স্পন্সর প্রতিষ্ঠান বিকাশের সিএমও মীর নওবত আলী।

সংবাদ সম্মেলনের সবশেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন একাডেমির সচিব আব্দুল মান্নান ইলিয়াস। এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে একাডেমির মহাপরিচালক, সচিব ও গ্রন্থমেলার সদস্য-সচিব উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। গ্রন্থমেলার নতুন লোগো উপস্থাপন করেন স্থপতি এনামুল করিম নির্ঝর।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক জানান, এবার বই মেলায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণটি উৎসর্গ করা হয়েছে শহীদ বরকতের নামে। আর, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণকে চারটি চত্বরে ভাগ করে উৎসর্গ করা হয়েছে ভাষাশহিদ সালাম, রফিক, জব্বার ও ভাষাশহীদ শফিউরের নামে। পাঁচ ভাষাশহীদের নামে উৎসর্গকৃত এবারের মেলার দুই প্রাঙ্গণের পাঁচটি চত্বরের প্রতিটি চত্বরের সাজসজ্জায় থাকবে পৃথক রঙের ব্যবহার। লাল, নীল, সবুজ, হলুদ ও ম্যাজেন্ডা রঙের প্রাধান্যে সাজবে এ চত্বরগুলো।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, একাডেমি প্রাঙ্গণের রবীন্দ্রচত্বরে মেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। বিদেশি অতিথি হিসেবে থাকবে ভারতে বাংলাভাষি প্রখ্যাত কবি শঙ্খ ঘোষ ও মিশরের লেখক গবেষক ও সাংবাদিক মোহসেন আল-আরিশি।

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখবেন সংস্কৃতি মন্ত্রাণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল। স্বাগত ভাষণ দেবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী। এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

সংবাদ সম্মেলনে মেলার বিস্তারিত তুলে ধরে মেলা আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব জালাল আহমেদ বলেন, বিগত কয়েক বছরের মতো এবারও ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’ অনুষ্ঠিত হবে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং একাডেমি সম্মুখের ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় ৩লাখ বর্গফুট জায়গায়। এবারের মেলার প্রকাশনা সংস্থার অংশগ্রহন বেড়ে যাওয়ায় ইউনিট বাড়ার পাশাপশি বেড়েছে মেলার পরিসর। মেলাকে প্রতিবারের ভিন্ন এবং নান্দনিক করে একটি আন্তর্জাতিক মানের গ্রন্থমেলার রূপ দিতে গঠন করা হয় একটি সৃজনশীল কমিটি।

কমিটিতে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক, সরকারের প্রধান স্থপতি, স্থপতিদের সংগঠনের নেতা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন, শিল্পী হাশেম খানের মতো ব্যক্তিরা রয়েছেন। তাদের সার্বিক নির্দেশনা অনুযায়ী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবস্থিত স্বাধীনতা স্তম্ভের গ্লাস টাওয়ারকে মধ্যমণি করে এবারের গ্রন্থমেলার বিন্যাস করা হয়েছে। যার নকশা করেছেন স্থপতি এনামুল করিম নির্ঝর।

এই প্রসঙ্গে এনামুল করিম নির্ঝর বলেন, প্রথমবারেরে মতো অনলাইনে স্টল বরাদ্ধের আবেদনের মাধ্যমে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ১০৪টি প্রতিষ্ঠানকে ১০৫টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৩৯৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৬২০টি ইউনিট; মোট ৪৯৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৭৭০টি ইউনিট এবং বাংলা একাডেমি-সহ ২৪টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৫৫৩৬ বর্গফুট আয়তনের ২৪টি প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলা একাডেমির ১টি প্যাভিলিয়ন, ৪ ইউনিটের ২টি, একাডেমির শিশুকিশোর উপযোগী বইয়ের জন্য ১টি এবং একাডেমির সাহিত্য মাসিক উত্তরাধিকার-এর ১টি স্টল থাকবে।

গ্রন্থমেলায় বাংলা একাডেমি এবং মেলায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ২৫% কমিশনে বই বিক্রি করবে। এবারের গ্রন্থমেলায় বাংলা একাডেমি প্রকাশ করছে নতুন ও পুনর্মুদ্রিত ১০২টি বই।

মেলার সদস্য সচিব আরও জানান, প্রতিবারের মতো এবারও মেলায় রাখা হয়েছে সাহিত্যের ছোটকাগজ ‘লিটল ম্যাগাজিন কর্ণার’। এ লিটল ম্যাগাজিন কর্নারে দেশের ১৮০টি লিটল ম্যাগাজিনকে ১৫৫টি স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৫টি স্টলে ২টি করে লিটল ম্যাগাজিনকে স্টল দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে ১৩০টির মতো অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে স্টল বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ক্ষুদ্র প্রকাশনা সংস্থা এবং ব্যক্তি উদ্যোগে যারা বই প্রকাশ করেছেন তাদের বই বিক্রি/প্রদর্শনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। যেসব বইগুলোর স্থান হবে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের স্টলে। এবারও শিশুচত্বর মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে থাকবে। এই কর্নারকে শিশুকিশোর বিনোদন ও শিক্ষামূলক অঙ্গসজ্জায় সজ্জিত করা হবে। মাসব্যাপী গ্রন্থমেলায় ছুটির দিনগুলোতে এবারও ‘শিশুপ্রহর’ ঘোষণা করা হবে।

মেলা প্রাঙ্গণের সুবিধা ও নান্দনিকতা

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা থাকবে। অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯-এর প্রচার কার্যক্রমের জন্য তথ্যকেন্দ্র থাকবে বর্ধমান ভবনের পশ্চিম বেদিতে এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। এছাড়া মেলায় আগতদের বসার স্থানসহ নান্দনিক ফুলের বাগানও নির্মাণ করা হয়েছে। ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবস্থিত স্বাধীনতা স্তম্ভ ও এর পার্শ্ববর্তী স্থানকে নান্দনিকভাবে গ্রন্থমেলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, যেন স্বাধীনতার স্তম্ভের আলোক-বিচ্ছুরণে মেলা প্রাঙ্গণ আলোকিত হয়ে ওঠে। সাংবাদিকদের অবাধ তথ্য আদান-প্রদানের সুবিধার্থে গ্রন্থমেলায় মিডিয়া সেন্টার থাকবে তথ্যকেন্দ্রের উত্তর পাশে।

বর্তমান সরকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ ধারণার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই কর্তৃপক্ষ গ্রন্থমেলায় তাদের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন, তথ্যকেন্দ্রের সর্বশেষ খবরাখবর এবং মেলার মূল মঞ্চের সেমিনার প্রচারের ব্যবস্থা করবে। মেলায় থাকবে ওয়াইফাই সুবিধা।

ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবস্থিত স্বাধীনতা স্তম্ভ ও এর পার্শ্ববর্তী কৃত্রিম লেককে নান্দনিকভাবে গ্রন্থমেলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, যেন স্বাধীনতার স্তম্ভের আলোক-বিচ্ছুরণে মেলা প্রাঙ্গণ আলোকিত হয়ে ওঠে এবং লেকের সৌন্দর্য গ্রন্থমেলার অগতরা উপভোগ করতে পারেন। বই মেলার দু’টি মূল প্রবেশপথ থাকবে টিএসসি, দোয়েল চত্বর এলাকায়। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে তিনটি পথ এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য থাকবে ছয়টি পথ। এর মধ্যে বিশেষ দিনগুলোতে লেখক, সাংবাদিক, প্রকাশক, বাংলা একাডেমির ফেলো এবং রাষ্ট্রীয় সম্মাননাপ্রাপ্ত নাগরিকদের জন্য প্রবেশের বিশেষ ব্যবস্থাও থাকবে।

গ্রন্থমেলার প্রবেশ ও বাহিরপথে পর্যাপ্ত আর্চওয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন বাংলাদেশ পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থার নিরাপত্তাকর্মীরা। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার জন্য মেলায় এলাকাজুড়ে তিনশত ক্লোজসার্কিট ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। গ্রন্থমেলা সম্পূর্ণ পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত থাকবে।

মেলা প্রাঙ্গণ ও পাশ্ববর্তী এলাকায় (সমগ্র মেলা প্রাঙ্গণ ও দোয়েল চত্বর থেকে টিএসসি হয়ে শাহবাগ, মৎস্য ভবন, ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট হয়ে শাহবাগ পর্যন্ত এবং দোয়েল চত্বর থেকে শহিদ মিনার হয়ে টিএসসি, দোয়েল চত্বর থেকে চানখারপুল, টিএসসি থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত) নিরাপত্তার স্বার্থে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকবে। মেলার পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও নিয়মিত ধূলিনাশক পানি ছিটানো, টয়লেট স্থাপন ও প্রতিদিন মশক নিধনের সার্বিক ব্যবস্থা করা হয়েছে। শারীরিকভাবে অসুবিধাগ্রস্ত ও প্রবীণদের চলাচলের সুবিধার্থে হুইল চেয়ারের সংখ্যা গতবারের চেয়ে এবার বৃদ্ধি পাবে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৩টি এবং বাংলা একাডেমি অংশে ক্যান্টিন চালু থাকবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে উদ্যান ও একাডেমি উভয় অংশের স্টলগুলোতে টিনের ছাউনি দেওয়া হয়েছে।

পুরস্কার

অমর একুশে গ্রন্থমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ২০১৮ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণগতমান বিচারে সেরা গ্রন্থের জন্য প্রকাশককে ‘চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার’ এবং ২০১৮ গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্য থেকে শৈল্পিক বিচারে সেরা গ্রন্থ প্রকাশের জন্য ৩টি প্রতিষ্ঠানকে ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ দেওয়া হবে। এছাড়া ২০১৮ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণগত মান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থের জন্য ১টি প্রতিষ্ঠানকে ‘রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার’ এবং এ বছরের মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে স্টলের নান্দনিক সাজসজ্জায় শ্রেষ্ঠ বিবেচিত প্রতিষ্ঠানকে ‘কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ দেওয়া হবে।

মেলায় নতুন সংযোজন

প্রতিবারের নিয়মিত বিভিন্ন দিক ছাড়া এবারের মেলায় বেশ কিছু নতুন বিষয় যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো: অনলাইনে মেলার স্টল বরাদ্ধের আবেদন গ্রহণ, বিতরণ ও স্টল ভাড়ার অর্থ পরিশোধ করা। ‘বিজয় বায়ান্ন থেকে একাত্তর: নবপর্যায়’ শিরোনামের নতুন থিম ও থিম অনুসারে গ্রন্থমেলার নকশা তৈরি। নতুন প্রজন্মের মাঝে বায়ান্ন’র ভাষাসংগ্রাম ও একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিতে ‘পাঁচ জন ভাষাশহিদ, বঙ্গবন্ধুর ৭মার্চের ভাষণ, বাংলা একাডেমি ও বইমেলা এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবস্তিত স্বাধীনতা স্তম্ভ’ বিষয়ে তথ্য সংবলিত প্ল্যাকার্ড স্থাপন। মেলার সার্বিক তথ্য ও দিক নির্দেশনা দেওয়ার জন্য এলইডি মনিটর ব্যবহার। যেখানে মেলার ম্যাপ, দিক-নির্দেশনা ও জরুরি তথ্য প্রদর্শিত হবে। এর ফলে পাঠক-ক্রেতা মেলার বিন্যাস সম্পর্কে প্রথমেই ধারণা পাবেন। ‘লেখক বলছি’ নামে নতুন একটি মঞ্চ থাকছে। এই মঞ্চে প্রতিদিন ৫ জন লেখক তাদের বই নিয়ে পাঠকের মুখোমুখি হবেন। প্রত্যেক লেখক ২০ মিনিট করে সময় পাবেন। শিশু-কিশোরদের মধ্যে যারা লেখালেখি করে সেই ক্ষুদ্র লেখকদের উৎসাহিত করার জন্য এবার বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। শিশুচত্বর বিশেষভাবে সাজানো হবে। পুরো প্রাঙ্গণ নতুনরূপে সেজে উঠবে। শিশুচত্বরে ‘তারুণ্যের বই’ নামে একটি বিষয় যুক্ত হবে। শিশুপ্রহরের দিনগুলোতে ‘তারুণ্যের বই’ ব্যানারে শিশু-কিশোরদের বইপাঠে উৎসাহিত করা হবে। নামাজের ঘর ও টয়লেট ব্যবস্থা সম্প্রসারিত ও উন্নত করা হয়েছে। নারীদের জন্য সম্প্রসারিত নামাজ ঘর থাকবে। স্থায়ী টয়লেট ছাড়া সিটি করপোরেশনের সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ টয়লেট বসানো হবে। শিশুচত্বরে বাংলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় ব্রেস্টফিডিং কর্নার থাকবে। একইসঙ্গে পুলিশের পক্ষ থেকে পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কাছে আরেকটি ব্র্যাস্টফিডিং কর্নার থাকবে।

[ছবি : ফাইল ফটো]

সারাবাংলা/এমএনএইচ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন