শনিবার ২০ এপ্রিল, ২০১৯ ইং , ৭ বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৩ শাবান, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

‘ধর্মীয় সম্প্রীতি অর্জনে দায়িত্বশীল হতে হবে গণমাধ্যমকে’

ফেব্রুয়ারি ২, ২০১৯ | ২:২১ অপরাহ্ণ

।। সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট ।।

ঢাকা : সমাজে অস্থিরতা আছে, সহিংসতা হয় এবং সমাজ সংঘাতের উপাদানে ভরপুর বলে উল্লেখ করেছেন সারাবাংলা ডট নেট ও গাজী টিভির এডিটর ইন চিফ সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা। এমন পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বলেন, গণমাধ্যম এমন ভূমিকা রাখবে যেন মানুষ শান্তির পথে অবস্থান নেয়।

শনিবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদালয়ের সেন্টার ফর অ্যাডভান্স রিসার্চ ইন হিউমিনিটিসে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী কর্মশালার দ্বিতীয় দিনে মিডিয়া অ্যান্ড ডায়লগ সেশনে তিনি এসব কথা বলেন। কিং আবদুল আজিজ ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টাররিলিজিয়াস অ্যান্ড ইন্টারকালচারাল ডায়লগ (কেএএআইসিআইআইডি), ইন্টারন্যাশনাল আসোসিয়েশন ফর রিলেজিয়াস ফ্রিডম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইন্টার রিলিজিয়াস অ্যান্ড কালচারাল ডায়লগের উদ্যোগে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কখনও কখনও বিভিন্ন গণমাধ্যম সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে শান্তির পথে অবস্থান নিতে পারে বলে মনে করেন এই সাংবাদিক। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘৬০ এর দশকে যখন দেশে একটি রায়ট (দাঙ্গা) হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তখন আবদুস সালাম, আহমেদুল করিম, তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার মত প্রতিথযশা সাংবাদিকরা একই ধরনের সম্পাদকীয় লিখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এই ঐক্যটা সেই সময় দেশের শান্তির জন্য খুব প্রয়োজন ছিল।’

গণমাধ্যমেকে এখানে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে উল্লেখ করে ইশতিয়াক রেজা বলেন, ইতোমধ্যেই একটি পত্রিকা দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করেছে। বাংলাদেশে নাস্তিক ও আস্তিক বিতর্ক ছিল না, কিন্তু তা গণমাধ্যমের মাধ্যমে সামনে চলে এসেছে। যার কারণে সম্প্রীতির একটি দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি হয়ে গেছে। শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের উপর আক্রমণ যা আগে ছিল না তাও এসেছে গণমাধ্যমের কারণে।

‘গণমাধ্যমের সংজ্ঞায় বলা আছে, গণমাধ্যম মানুষের মানবিক অধিকারের দিকে নজর রাখবে। সেই সংজ্ঞায় দায়িত্বহীন গণমাধ্যম আদৌ গণমাধ্যমে কি-না সে বিষয়ে প্রশ্ন থেকে যায়’, যোগ করেন এই সাংবাদিক।

মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও বাহাই ধর্মের প্রায় ২৫ জন নারীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এবারের অনুষ্ঠানের লক্ষ্য ধর্মীয় শান্তি অর্জনে নারীদের সম্পৃক্ত করা।

সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেন, ‘রিপোর্টিং এর ধরণ এমন হতে হবে যেন মানুষ শান্তির পক্ষে অবস্থান নেয়।’

এ প্রসঙ্গে তিনি রামুর ঘটনায় গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং এভাবেই ঘটনার ফলাফল বিবেচনা করে সাংবাদিকদের শান্তি রক্ষায় ভূমিকা রাখার ওপর জোর দেন।

সারাবাংলা/এমএ/এসএমএন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন