শুক্রবার ২৬ এপ্রিল, ২০১৯ ইং , ১৩ বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯ শাবান, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

পুঠিয়ার যোগীর গান

ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৯ | ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ

শেখ সাদী ।।

গুরু যাচ্ছেন বৃন্দাবন। গুরুদেব অশীতিপর। মানে বৃদ্ধ। তাঁর পক্ষে সম্ভব নয় মালপত্র একা টেনে নিয়ে যাওয়া। শেষমেশ যাও একজন শিষ্য জুটল, তার আবার নানা বায়না, ‘গুরুদেব, আমি আপনার সঙ্গে যেতে পারি। তবে আমার দুইটা শর্ত আছে।’
‘কি সেটা?’
শিষ্য জানায়, ‘গুরুদেব, যা জানতে চাই জানাতে হবে, যা বলতে চাই তা বলার স্বাধীনতা দিতে হবে।’
কথা না শুনলে শিষ্য সঙ্গে যাবে না।অগত্যা রাজি হয়ে যান গুরুদেব।

নির্দিষ্ট দিনে গুরু-শিষ্য রওনা হলেন। কিছুদূর যাওয়ার পরই শিষ্য তার হাতের লাঠি দিয়ে মাটির ওপর আঘাত করে। মাথায় থাকা মালপত্র মাটিতে ফেলে দেয়।
গুরুর গম্ভীর জিজ্ঞাসা, ‘হলোটা কী?’
শিষ্য এক নারীকে দেখিয়ে বলে, ‘গুরুদেব, ও কে?’
গুরুর উত্তর, ‘ও মায়ের জাত, একজন নারী।’
‘আমি জানি সে নারী, মায়ের জাত।’
‘তাহলে?’
‘তার পেট উঁচু কেন?’
‘আরে, ও যে সন্তানসম্ভবা! মা হতে চলেছে।’
‘গুরুদেব, আমি তা জানি।’
‘তাহলে?’
‘গুরুদেব, কীভাবে মায়ের পেটে সন্তান হয়? কীভাবে বড় হয়? ছেলেমেয়ে হয় কীভাবে?’ এ রকম একগাদা প্রশ্ন।
‘সে অনেক কথা। হেথা নয়, কথা হবে বৃন্দাবনে। চলো এবার যাই।’

বিজ্ঞাপন

ঠেঁটা শিষ্য উত্তর না শুনে এক পা-ও নড়বে না। কী আর করা। শেষ পর্যন্ত গুরুদেব বলতে রাজি হলেন। গানে গানে সব বলেন তিনি। এভাবে গুরু-শিষ্যের কথোপকথন, গান, জিজ্ঞাসার উত্তরে চলতে থাকে গানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত।
যোগী অর্থ জ্ঞানী অর্থাৎ এই গান হলো জ্ঞানীর গান। কবে থেকে এই গানের শুরু, তা কেউ বলতে পারেন না। লোকগবেষক কাজী দুলাল জানালেন, তিনশো বছরের কম নয়।

রাজশাহী, নাটোরের কোনো এক গ্রামে এই গান মুখে মুখে রচনা করেছিলেন কোনো এক নিরক্ষর গীতিকার। জোগীর গান এতটাই লম্বা যে সাত রাত গাইলেও তা ফুরোতে চায় না। কথা, সুর আর অভিনয়ের অপূর্ব মিশ্রণ থাকে যোগীর গানে। যোগীর গানের শেষ শিল্পী নাটোরের জামনগর গ্রামের পলান। সবার কাছে তিনি পলান মামা নামেই পরিচিত। এখন আর বেঁচে না থাকারই কথা।
যতদূর জানি, যোগীর গানও কারও সংগ্রহে নেই।
রাজশাহীর পুঠিয়ার বাসকরা লোক গবেষক কাজী দুলাল মুখে মুখে সামান্যই মনে রেখেছেন। তাও কত দিন থাকবে বলা মুশকিল।

সারাবাংলা/পিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন