শুক্রবার ২৬ এপ্রিল, ২০১৯ ইং , ১৩ বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯ শাবান, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

মৌচাক-মগবাজার ফ্লাইওভার: বাতি আছে, আলো নেই

ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৯ | ৭:৫৫ পূর্বাহ্ণ

।। সাদ্দাম হোসাইন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ।।

ঢাকা: রাজধানীর মৌচাক-মগবাজার ফ্লাইওভারে বাতি আছে, আলো নেই। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত সড়ক বাতিগুলো অকেজো হয়ে পড়ে আছে, ফলে রাতের বেলা অন্ধকারেই থাকে ফ্লাইওভারটি। পুরো ফ্লাইওভারে প্রায় ৪০০ ল্যাম্পপোস্ট থাকলেও প্রায় সবগুলোরই বাতি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। বাতি অকেজো হয়ে থাকলেও সেগুলো সচল রাখতে নেওয়া হচ্ছে না কোনো কার্যকরী উদ্যোগ। এতে একদিকে যেমন ছিনতাই হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশংকাও।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফ্লাইওভারটির নির্মাণ কাজ শেষে গত ২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল এটি উদ্বোধনের সময় সবগুলো বাতি সচল ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে বাতিগুলো অকেজো হতে হতে এখন সবগুলোই অকেজো হয়ে গেছে। তবে কি কারণে বাতিগুলো অকেজো হয়ে গেছে সে বিষয় সঠিক কোনো তথ্য নেই কারও কাছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় বাসিন্দা ও ফ্লাইওভারটি ব্যবহারকারীরা বলছেন, ‘শুরু থেকে বাতিগুলো সচল ছিলো ঠিকই। কিন্তু পরবর্তীতে সঠিক নজরদারির অভাবে ক্রমান্বয়ে সবগুলো বাতিই অকেজো হয়ে পড়ে। এখন রাতের বেলা মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে ফ্লাইওভারটি। এভাবে চলতে থাকলে কয়েক মাস পর বাতির স্ট্যান্ডগুলোও ফ্লাইওভারে পাওয়া যাবে না। এজন্য সঠিক নজরদারির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, মৌচাক-মগবাজার ফ্লাইওভারের রমনা থানা থেকে তেজগাঁওয়ের সাত রাস্তা পর্যন্ত সবগুলো বাতি অচল হয়ে আছে। পুরো ফ্লাইওভারে বসানো শতাধিক বাতির মধ্যে একটি বাতিও জ্বলতে দেখা যায়নি। একই অবস্থা মালিবাগ চৌধুরীপাড়া থেকে রাজারবাগ এবং শান্তিনগর এলাকায়। সেসব স্থানেও ল্যাম্পোস্টে বাতি লাগানো থাকলেও মিলছে না আলো। ফলে রাত যত গভীর হয় ৮.২৫ কিলোমিটারের ফ্লাইওভারটি তত অন্ধকারে ভূতুড়ে হয়ে যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সংঘবদ্ধ চোর চক্রের সক্রিয় সদস্যরা রাতের আঁধারে অকেজো করে দিয়েছে বাতিগুলো। সড়কবাতি সচল রাখতে সংযোগ দেওয়া বৈদ্যুতিক লাইনের তার ও লোহার পাত এবং বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরি করে নিয়ে বিক্রি করে এসব চোরেরা। প্রশাসনের তৎপরতা না থাকায় এবং ফ্লাইওভারটি রক্ষাণাবেক্ষণকারী সংস্থার সঠিক নজরদারি না থাকায় চক্রের সদস্যরা এমন কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে হরহামেশাই।

ফ্লাইওভারটির মালিবাগ চৌধুরীপাড়া অংশের একটি ওয়ার্কশপ দোকানের শ্রমিক মিনহাজ উদ্দিন সারাবাংলাকে বলেন, ‘বাতিগুলো চালু হওয়ার সপ্তাহ খানেক পর আস্তে আস্তে সবগুলো বাতিই বন্ধ হতে থাকে। এগুলো মাদকসেবী, কিছু চোর চক্রের সদস্যরা ভেঙে নিয়ে যাচ্ছে। তারা এগুলো বিক্রি করে নেশা করে।’

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে নির্মিত মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার প্রকল্পের পরিচালক সুশান্ত কুমার পাল সারাবাংলাকে বলেন, ‘ফ্লাইওভারটি গত নভেম্বরে সিটি করপোরেশনকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তাদের। তবে শুনেছি বাতিগুলোর বৈদ্যুতিক তার চোরেরা নিয়ে যাওয়ায় এমন হয়েছে।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সারাবাংলাকে বলেন, ‘ফ্লাইওভারের বাতিগুলো সচল করতে এরইমধ্যে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এটি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু হবে।’

সারাবাংলা/এসএইচ/এমও

মৌচাক-মগবাজার ফ্লাইওভার: বাতি আছে, আলো নেই
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন