শুক্রবার ২৬ এপ্রিল, ২০১৯ ইং , ১৩ বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯ শাবান, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

‘প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক নিয়োগে ৮০ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে’

ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৯ | ৯:৫০ অপরাহ্ণ

।। স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ।।

ঢাকা: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগে ৮০ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ২০ শতাংশ নন ক্যাডার পদ্ধতিতে নিয়োগের ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছেন বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন।

রোববার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনিস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির আয়োজনে ‘প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেনের সংবর্ধনা ও প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

আলোচনা সভায় উপস্থিত শিক্ষকদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষাবান্ধব সরকার। তিনি ছাড়া পৃথিবীর আর কেউ আপনাদের দাবি-দাওয়া পূরণ করবেন না। কিন্তু বিনিময়ে তিনি আপনাদের কাছ থেকে প্রাথমিক শিক্ষার গুণতম মানের উন্নয়ন চান। আপনারা যদি ওয়াদা করেন প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে আপনারা সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন, তাহলে প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর পায়ে ধরে হলেও আপনাদের প্রত্যাশিত দাবি পূরণের চেষ্টা করবো।’

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অনুপস্থিতি ও পাঠদানের ব্যাপারে অবহেলার প্রতি আলোকপাত করে তিনি বলেন, ‘গতকাল রাজধানীর চারটি স্কুলে আমি বিনা নোটিশে উপস্থিত হয়েছিলাম। সেখানের শোচনীয় পরিস্থিতি একই সঙ্গে আমাকে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করেছে। পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া কোনো শিক্ষার্থী যদি বাংলায় কোনো জেলার নাম লিখতে অক্ষম হয়, সেক্ষেত্রে স্পষ্ট প্রতিয়মান হয় যে শিক্ষকেরা পাঠদানের ব্যাপারে গাফিলতি করেছেন। এসব গাফিলতি আর সহ্য করা হবে না, এমন অবস্থা যেকোন প্রতিষ্ঠানে দেখা গেলেই সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বহিষ্কার করা হবে।’

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির উত্থাপিত দাবিগুলো যেমন, প্রধান শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিরসন, উপযুক্ত গ্রেড নির্ধারণ, প্রতিটি বিদ্যালয়ে ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন, অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে সুপারিশ জানানো হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। এছাড়া প্রতিটি বিদ্যালয়ে শিক্ষক স্বল্পতা নিরসন এবং অফিস সহকারী ও হিসাবরক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রকল্প খুব শীঘ্রই শুরু হবে বলে জানান তিনি।

আলোচনা সভায় উপস্থিত কক্সবাজার-৩ আসনের এমপি সাইমুম সারওয়ার কমল বলেন, ‘সমাজে শিক্ষকদের মর্যাদা সবার ওপরে, কারণ তারাই পারে পাঠদানের মাধ্যমে একটি প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে। তাই শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত, এক-দুজন শিক্ষকের ভুলের জন্য যেনো সকল শিক্ষককে দায়ী করা না হয় গণমাধ্যম কর্মীদের সে ব্যাপারে যত্নশীল হতে হবে।’

ময়মনসিংহ-৯ আসনের এমপি আনোয়ারুল আবেদিন খান তুহিন বলেন, ‘আমরা জনপ্রতিনিধিরাও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। অপ্রিয় হলেও সত্য এখনো পাঠদানে শিক্ষকদের গাফিলতি বিদ্যমান। এসব দূরীকরণের লক্ষ্যে উপজেলা নির্বাচনের পরই আমি চাই আমার জেলায় শিক্ষক সমিতির নির্বাচন হোক এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শিক্ষার মান উন্নয়নে আমাকে সহায়তা করবেন।’

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম তোতা প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘আমরা আশা করছি আমাদের দাবিসমূহ মাননীয় প্রতিমন্ত্রী সাহেব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে উত্থাপন করবেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যে নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করার কথা ভাবা হচ্ছে সেটি শিশুবান্ধব ও শিক্ষাবান্ধব নয়। আমরা একটি শিশুবান্ধব ও অভিন্ন সময়সূচির পাশপাশি বিদ্যালয়ের কর্মঘণ্টা হ্রাসের দাবি জানাচ্ছি যেনো কোমলমতি শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত খেলাধূলা ও সাহিত্য চর্চায় মনোনিবেশ করতে পারে।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, বঙ্গবন্ধু শিক্ষা গবেষণা পরিষদের আহ্বায়ক ড. মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সমিতির সভাপতি মো. মোফাজ্জেল হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা ঢাকার উপপরিচালক ইন্দু ভূষণ দেব, বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদের আহ্বায়ক মো. সিদ্দিকুর রহমান, রউমারী উপজেলার মহিলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক সুরাইয়া সুলতানাসহ দেশের বিভিন্নপ্রান্ত থেকে আগত শিক্ষকবৃন্দ।

সারাবাংলা/ওএম/এমআই

‘প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক নিয়োগে ৮০ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে’
বিজ্ঞাপন

Tags:

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন