রবিবার ২১ এপ্রিল, ২০১৯ ইং , ৮ বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৪ শাবান, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

স্কুল-কলেজের শিক্ষক ছাড়া অন্যরা কোচিং করাতে পারবেন

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯ | ৫:৩০ অপরাহ্ণ

।। সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট।।

ঢাকা: কোচিং সংক্রান্ত নীতিমালার আলোকে দেশের সরকারি কিংবা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের জন্য কোচিং বন্ধ হলেও ফ্রিল্যান্সাররা কোচিং করাতে পারবেন বলে জানিয়েছেন হাইকোর্ট।

কোচিং বন্ধের রায় নিয়ে আইনজীবীদের মিশ্রু বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ বিষয়টি পরিষ্কার করেন।

বিজ্ঞাপন

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান সারাবাংলাকে বলেন, ‘আজ ভিন্ন একটি মামলায় আমি ওই কোর্টে উপস্থিত ছিলাম। তখন আদালত আমাকে ডেকে বলেন, টেলিভিশন টকশোতে আপনারা ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। এটি নিয়ে আপনাদের বক্তব্য পরিষ্কার করা উচিত।’

এ সময় আদালত বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বাইরে যারা ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কোচিংয়ে যুক্ত তারা তাদের কার্যক্রম চালু রাখতে পারবেন। তবে যারা কোনো না কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত তাদের ক্ষেত্রে কোচিং বাণিজ্য বন্ধে ২০১২ সালের নীতিমালা প্রযোজ্য হবে। সাথে যুক্ত তাদের ক্ষেত্রে কোচিং বাণিজ্য বন্ধে ২০১২ সালের নীতিমালা প্রযোজ্য হবে।’

গত ৭ ফেব্রুয়ারি কোচিং বাণিজ্য বন্ধে ২০১২ সালে সরকারি অনুমোদিত নীতিমালা বৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। এ রায়ের পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় কোচিং বন্ধের কার্যক্রম শুরু করে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগে মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সরকারের পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে ওই নোটিশ দেয় সরকার। পরে ওই নোটিশ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধের নীতিমালা-২০১২ নিয়ে শিক্ষকরা হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। এরপর আদালত গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই চিঠির কার্যকারিতা চার মাসের জন্য স্থগিত করার পাশাপাশি রুল জারি করেন।

পরে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করার অনুমতি চেয়ে লিভ টু আপিল করে। আপিল বিভাগ গত বছরের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চেকে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।

আপিল বিভাগের আদেশের আলোকে সংশ্লিষ্ট হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মামলার শুনানির জন্য দুইজন সিনিয়র আইনজীবীকে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগ দেয়। এরপর দীর্ঘ শুনানি শেষে গত ৭ ফেব্রুয়ারি এ রায় দেন।

সারাবাংলা/এজেডকে/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন