শনিবার ২০ এপ্রিল, ২০১৯ ইং , ৭ বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৩ শাবান, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

জাদুঘরের ফলকে ‘জিয়া’র ওপর ছাত্রলীগের কালি

ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৯ | ২:৩১ অপরাহ্ণ

।। স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট ।।

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম নগরীর কাজির দেউড়িতে সরকারি স্থাপনা ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের’ নামফলক থেকে জিয়ার নাম কালি দিয়ে মুছে দিয়েছে ছাত্রলীগ। মন্ত্রিসভার বৈঠকে শিক্ষা উপমন্ত্রী জিয়া স্মৃতি জাদুঘরকে ‘মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘরে’ রূপান্তরের প্রস্তাব দেওয়ার একদিনের মাথায় এই দাবিতে মাঠে নেমেছে ছাত্রলীগ, যাদের সঙ্গে আছেন একদল মুক্তিযোদ্ধাও।

মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে ‘মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের ছাত্র ফোরাম, চট্টগ্রাম মহানগর’ ব্যানারে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জাদুঘরের অদূরে মানববন্ধন করেন। এতে সংহতি জানিয়ে যোগ দেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর কমান্ডার মোজাফফর আহমেদের নেতৃত্বে একদল মুক্তিযোদ্ধা।

বিজ্ঞাপন

মানববন্ধনে মোজাফফর আহমেদ বলেন, ‘১৯৭১ সালে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধী সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ পাকিস্তানি সেনারা অনেক নিরীহ বাঙালি ও মুক্তিযোদ্ধাকে ধরে এই ভবনে রেখে নির্যাতন করেছিল। এই ভবনের সঙ্গে মুক্তিকামী বাঙালির স্বাধীনতার জন্য প্রাণ বিসর্জনের স্মৃতি জড়িত। এই ভবন কখনো জিয়াউর রহমানের মতো একজন বিতর্কিত মানুষের নামে হতে পারে না।

জিয়া স্মৃতি জাদুঘরকে ‘মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘরে’ রূপান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রীসভায় উত্থাপন করায় চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং তাতে নীতিগত সমর্থন দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা ও ছাত্রলীগের নেতারা।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য আব্দুর রহিম শামীমের সভাপতিত্বে এবং নগর ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক রাহুল দাশের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে আরও বক্তব্য রাখেন- চট্টগ্রাম মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহকারী কমান্ডার সাধন চন্দ্র বিশ্বাস ও হেলাল উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা প্রশান্ত সিংহ, মুক্তিযুদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সরওয়ার আলম মনি ও সরওয়ার আলম, নগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি একরামুল হক রাসেল, কার্যকরী সদস্য কামরুল হুদা পাবেল।

মানববন্ধন শেষে মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর আহমেদের উপস্থিতিতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জাদুঘরের নামফলকের একাংশে ‘জিয়ার’র নামের উপর কালি লাগিয়ে দেন।

এর আগে, সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এই প্রস্তাব তোলেন। এতে সমর্থন জানিয়ে বক্তব্য রাখেন- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীক, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহার উশৈসিং এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমেদ।

জানা যায়, ১৯১৩ সালে চট্টগ্রাম নগরীর কাজির দেউড়ি এলাকায় তৎকালীন বৃটিশ শাসকরা দৃষ্টিনন্দন ভবনটি নির্মাণ করে, যা পরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ হিসেবে রাষ্ট্রীয় অতিথিদের জন্য ব্যবহৃত হতো। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সফরে এসে সার্কিট হাউজের চার নম্বর কক্ষে উঠেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ভোরের দিকে এক সামরিক অভ্যুত্থানে তিনি নিহত হন। ওই বছরের ৩ জুন সার্কিট হাউসকে একটি জাদুঘরে রূপান্তরের জন্য সরকারি প্রস্তাব গৃহীত হয়।

এরপর ১৯৯১ সালে জিয়াউর রহমান স্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে। ১৯৯৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর এই জাদুঘরের উদ্বোধন করা হয়। জাদুঘরে জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের নমুনা, ব্যক্তিগত সামগ্রী এবং স্বাধীনতা ঘোষণার ট্রান্সমিটার সংরক্ষিত আছে।

সারাবাংলা/আরডি/এমও

জাদুঘরের ফলকে ‘জিয়া’র ওপর ছাত্রলীগের কালি
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন