শুক্রবার ২৬ এপ্রিল, ২০১৯ ইং , ১৩ বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ শাবান, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

ইডেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ হত্যা মামলা, গ্রেফতার ১

ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৯ | ৪:২১ অপরাহ্ণ

।। উজ্জল জিসান, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট।।

ঢাকা: রাজধানীর অ্যালিফান্ট রোডের সুকন্যা টাওয়ারে ইডেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরী পারভিন (৬৬) হত্যা মামলায় একজনকে গ্রেফতার করেছে নিউ মার্কেট থানা পুলিশ। তার নাম রুনু আক্তার-যিনি নিহতের বাসায় দুই গৃহকর্মী এনে দিয়েছিলেন। গ্রেফতার হওয়া রুনুকে  নিয়েই রেশমা ও স্বপ্নাকে গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নিউ মার্কেট থানা পুলিশের একজন উপ পরিদর্শক।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে  তিনি সারাবাংলাকে বলেন, রুনু আক্তারকে গতকাল সন্ধ্যা বেলাতেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে নিয়ে রাতভর অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে একাধিক স্থানে পুলিশ কাজ করছে। রুনুকে সাথে নিয়ে এরই মধ্যে বেশ কয়েক জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে। রেশমা ও স্বপ্নাকে ধরতে রুনু আক্তার সবচেয়ে বেশি সহায়তা করবে। এরপর সিদ্ধান্ত হবে এ হত্যার সাথে রুনু আক্তার জড়িত ছিলেন কিনা। তবে বাদী যেহেতু দুই আসামীর নাম উল্লেখ ছাড়াও রুনু আক্তারের নাম এজাহারের শেষে জড়িত থাকার সন্দেহে উল্লেখ করেছেন তাই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান উপ পরিদর্শক।

                               আরও পড়ুনইডেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ হত্যা, প্রতিবেদন ১১ মার্চ

বিজ্ঞাপন

গতকাল (সোমবার) সকালে ইডেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষের স্বামী মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভাইস চেয়ারম্যান ইসমত কাদির গামা একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, প্রায় দু মাস আগে রুনু আক্তার নামে এক নারী দুই গৃহকর্মী -রেশমা ও স্বপ্নাকে তাদের বাসায় আনেন। এছাড়া আগে থেকেই একজন বয়স্ক গৃহকর্মী ছিল এই বাসায়। এই তিনজন মিলে বাসার কাজের পাশাপাশি ৬৬ বছর বয়সী সাবেক অধ্যক্ষকে দেখাশোনা করতেন। বাসাটি ডুপ্লেক্স হওয়ায় উপরের তলায় অধ্যক্ষ ও তার স্বামী থাকতেন আর নিচ তলায় রান্নাঘর ও গৃহকর্মীরা থাকতেন। ঘটনার দিন গামা বাসার বাইরে ছিলেন। সন্ধ্যার দিকে বাসায় ফিরে দরজা বন্ধ পেয়ে ডাকাডাকি করলে বয়স্ক গৃহকর্মী দরজা খুলে দেন। বাসার ভেতরে ঢুকে তিনি আলমারী ভাঙ্গা দেখতে পান। এরপর স্ত্রীকে বালিশ চাপা অবস্থায় বিছানায় শুয়ে থাকতে দেখেন। রেশমা ও স্বপ্নাকে না পেয়ে বুঝতে পারেন তারা তার স্ত্রীকে হত্যা করে টাকা পয়সা ও স্বর্ণাঙ্কার নিয়ে পালিয়েছে। পালিয়ে যাওয়ার সময় যে ফোনটাতে তাদের দুজনের ছবি তুলে রাখা হয়েছিল সেই ফোনটাও নিয়ে যায়।

এজাহারে আরো উল্লেখ করেছেন, রেশমা ও স্বপ্নার সাথে গৃহকর্মী এনে দেওয়া রুনু আক্তারও জড়িত থাকতে পারে। তাই তাকেও সন্দেহের বাইরে রাখতে চান না। সেজন্য তাকেও আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অন্যদিকে তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা সারাবাংলাকে বলেন, সাবেক অধ্যক্ষ হত্যার ঘটনায় একাধিক লোক জজিত থাকতে পারেন। কারণ হত্যার সময় কেউ বালিশ চাপা দিয়ে ধরেছে, কেউ পা ধরেছে, কেউ হাত আবার কেউ মুখে আঘাত করেছে। যার চিহ্ন পাওয়া গেছে। এজন্য ড্রাইভারকেও সন্দেহের বাইরে রাখা হচ্ছে না। তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং হবে। তাকে পুলিশ বেষ্টনির মধ্যে রাখা হয়েছে। যেহেতু তার নাম এজাহারে উল্লেখ নেই তাই এখনই তাকে গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে না।

এদিকে, সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মাহফুজা চৌধুরী পারভীনের ময়নাতদন্ত হয়েছে । ময়নাতদন্ত করেন ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ। তিনি বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে আমরা দেখতে পাই নিহতের ঠোঁটে, মুখে ও আঙুলে ধস্তাধস্তির চিহ্ন পাওয়া আছে। হাতের একটা আঙ্গুল ভাঙ্গা ছিল। তাকে মুখ চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ড একজনের পক্ষে সম্ভব নয়।

এর আগে, মাহফুজার সুরতহাল রিপোর্ট সম্পন্ন করেন নিউমার্কেট থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) স্বপন কান্তি দে। তিনি সুরতহালে উল্লেখ করেন, মৃতের মুখে রক্ত দেখা যায়, হাতের কয়েকটি আঙুলের কালো দাগ আছে। রোববার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টা হতে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার মধ্যে স্বামী ও সন্তানরা বাসায় না থাকায়, বাসার কাজের মেয়ে ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রমনা বিভাগের উপ কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, ইডেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ হত্যার ঘটনায় জড়িত দুই কাজের মেয়েকেই সন্দেহ করা হচ্ছে। তাদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে। যেকোনো সময় তাদের গ্রেফতার করা হবে।

সারাবাংলা/ইউজে/জেডএফ 

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন