সোমবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৮ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৩ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

বাড়ছে গবেষণা-প্রবন্ধ বইয়ের পাঠক

ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৯ | ৯:৫৪ অপরাহ্ণ

।। হাসনাত শাহীন, বইমেলা থেকে ।।

বিজ্ঞাপন

ঢাকা: প্রতিবারের মতো এবারের মেলাতেও গল্প, কবিতা, উপন্যাস, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির বিক্রি বেশি হলে প্রবন্ধ ও গবেষণা বইয়েরও তুলনামূলক বিক্রি বেড়েছে। প্রকাশকরাও জানিয়েছেন, দিনদিন মননশীল বইয়ের পাঠক বাড়ছে। শনিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) একুশে বই মেলা ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রবন্ধের বই লেখা বেশি পরিশ্রমের কাজ, প্রবন্ধের বই পড়ার জন্যও পাঠককে তৈরি হতে হয়। ভালো প্রবন্ধের বই পাঠককে সমৃদ্ধ করে। তাই সংখ্যায় কম হলেও অনেকের আগ্রহ প্রবন্ধের বইয়ের প্রতি এবং সেই পাঠক সংখ্যা ধীরে হলেও বাড়ছে।

তারা আরও বলছেন, ‘বিশেষ করে যেসব পাঠক বিষয়ের গভীরে যেতে চান, জানতে চান নানা বিষয়ের ব্যাখ্যা, সেইসব পাঠকরাই মননশীল বই নিচ্ছেন। রুচিশীল, সাহিত্যমনা পাঠকের কাছে প্রবন্ধের বইগুলোর চাহিদা বেশি।’

বিজ্ঞাপন

অবসর প্রকাশনীর প্রকাশক মো. আলমগীর রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন বিষয়ে পাঠের আগ্রহ বাড়ছে পাঠকের। গল্প-কবিতা, সায়েন্স ফিকশন শুধু নয় অর্থনীতি, সমাজনীতি, বিজ্ঞান, সমাজতত্ত্ব ইতিহাস-এমনি নানান বিষয়। সেসব বইয়ের বিক্রি তুলনামূলক কম; কিন্তু পাঠক রয়েছে। আর সেই পাঠক চাহিদা দিনদিন বাড়ছে।’

প্রাবন্ধিক-গবেষক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, ‘মানসম্পন্ন বই নির্ভর করে কিছু মানদণ্ডের ওপর। প্রথমত বইটির লেখায় নতুন চিন্তা ধারা ও সৃজনশীলতার উন্মেষ থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত বইটি নির্ভুল ও সুসম্পাদিত হতে হবে।’

আগামী প্রকাশনীর ওসমান গনি বলেন, ‘চিন্তাশীল পাঠকই আসেন মননশীল বা প্রবন্ধের বইগুলো কিনতে। তাদের কথা চিন্তা করেই আমাদের প্রকাশনা থেকে নিয়মিত প্রবন্ধের বই প্রকাশ করছি। কোনো কোনো প্রবন্ধের বই গল্প ও উপন্যাসের বইয়ের চেয়েও বেশি চাহিদা থাকে। তাই আমরা চেষ্টা করি ভালো প্রবন্ধের বই প্রকাশ করতে। আর পাঠকের রুচির গঠনে প্রবন্ধের বই খুবই জরুরি। আর সারাবছরই কিছু কিছু প্রবন্ধের বই বিক্রি হয়। মেলায়ও কম-বেশি প্রবন্ধের বই চলে।’

শান্তিনগর থেকে ছুটির দিনে মেলায় এসেছেন ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম। আগামী প্রকাশনীর সামনে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি জানান, আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর প্রবন্ধ ‘বঙ্গবন্ধু আজ যদি বেঁচে থাকতেন’ বইটি কিনতে এসেছি। এছাড়াও আরো কয়েকটি বই কিনবো।

এবারের গ্রন্থমেলার ২৩তম দিনে বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপ-বিভাগের তথ্য অনুযায়ী মননশীল বা প্রবন্ধের বই এসেছে ২১৫টি। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয়েছে লেখক ও সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত রচিত ‘সাত দশকের হরতাল ও বাংলাদেশের রাজনীতি’ শীর্ষক বই। আগামী প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর প্রবন্ধগ্রন্থ ‘বঙ্গবন্ধু আজ যদি বেঁচে থাকতেন’, মোনায়েম সরকারের প্রবন্ধগ্রন্থ ‘বাংলাদেশ শেখ মুজিব থেকে শেখ হাসিনা’ ও ‘একুশের নির্বাচিত প্রবন্ধ’, এম আবদুল আলীমের ‘রবীন্দ্রনাথ উত্তর আধুনিকতা ও বাংলা ভাষার বিশ্বায়ন’ শিরোনামের বই।

এদিকে, গ্রন্থকুটির প্রকাশন থেকে প্রকাশিত হয়েছে লেখক মোজাফ্ফর আহমদের ‘বাংলা সাহিত্যের নানাদিক’, উৎস প্রকাশন এনেছে হাসান শাহরিয়ারের ‘নিউজ উইকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, বিজয় এবং তারপর’ ও মোস্তফা সেলিমের ‘নাগরীলিপি: নবজীবনের জার্নাল’, নবযুগ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে সঙ্গীতজ্ঞ সন্জীদা খাতুনের ‘অগ্রজজনের সৃষ্টিবীসা’ ও ‘নজরুল মানস’ নামে দুটি প্রবন্ধগ্রন্থ এবং অধ্যাপক আব্দুল মান্নানের ‘এডুকেশন হিউম্যানেটি এবং হিরোইজম’, তৃণলতা প্রকাশ এনেছে অনুপম হায়াতের ‘গণমাধ্যমে নজরুল’, তরফদার প্রকাশনী এনেছে হায়দার আকবার খান রনোর ‘মুক্তিযুদ্ধে বামপন্থিরা’, পুঁথিনিলয় প্রকাশন এনেছে বিনয় দত্তের ‘এই শহর সুবোধদের’।

পাশাপাশি ভাষা প্রকাশ এনেছে যতীন সরকারের প্রবন্ধ ‘সংস্কৃতি ভাবনা’, চিত্রা প্রকাশনী এনেছে বেলাল চৌধুরীর ‘যাওয়ার আগে আরেক চুমুক’, সময় প্রকাশন এনেছে আবুল মাল আবদুল মুহিতের ‘নির্বাচন ও প্রশাসন’, সূচিপত্র এনেছে মাহমুদ শফিকের ‘ভাষার মূল্য’, অন্যপ্রকাশ এনেছে পিয়াস মজিদের প্রবন্ধ ‘ভরদুপুরে বিভূতিভূষণ’, শ্রাবণ প্রকাশনী এনেছে আবুল কাসেম ফজলুল হকের প্রবন্ধ ‘মার্কসবাদ ও আজকের বাস্তবতা’, প্রকাশনা সংস্থা অনন্যা থেকে প্রকাশিত হয়েছে মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরের ‘সমাজ ও নানা চিন্তা’ ও ড. নাসরীন জেবিনের ‘মানিক বন্দ্যেপাধ্যায়ের জীবন ও উপন্যাস’, শ্রাবণ প্রকাশনী সজীব সরকারের ‘সাংবাদিকতার সহজ পাঠ’, বিভাস প্রকাশনী এনেছে সতীন্দ্র সরকারের ‘কালান্তরে শিক্ষা’, বিদ্যাপ্রকাশ এনেছে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর প্রবন্ধগ্রন্থ ‘প্রবন্ধ সমগ্র-৮’।

পুঁথিনিলয় এনেছে জাকির তালুকদারের প্রবন্ধ ‘গল্পপাঠ’, কবি প্রকাশনী এনেছে চলচ্চিত্রবিষয়ক প্রবন্ধগ্রন্থ ‘মহারাজা তোমারে সেলাম’, বিজয় প্রকাশ এনেছে কানাইলাল রায়ের ‘বেদ রহস্য’, সাজ্জাদ আলম খানের ‘রাজনীতির আয়নায় অর্থনীতি, প্রথমা থেকে এসেছে আকবর আলী খানের ‘দুর্ভাবনা ও ভাবনা; রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে’, বাতিঘর থেকে প্রকাশিত হয়েছে মহিউদ্দিন আহমদের ‘ইতিহাসের যাত্রী’, সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদের ‘পলাশীর এক ইংরেজ সেনিকের কালপঞ্জি’ ও এমএম আকাশের ‘বিশ্ব পুঁজিবাদ ও বাংলাদেশে রাজনৈতিক অর্থনীতি’ এবং বাঙালি এনেছে আরিফ নজরুলের ‘ঢাকার বাইজি উপাখ্যান’ ইত্যাদি।

এছাড়াও কথাপ্রকাশ থেকেও প্রকাশিত হয়েছে বেশ কিছু মননশীল বই। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু বই হলো-শামসুজ্জামান খানের দু’টি বই ‘শেখ মুজিব থেকে বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা’ ও ‘বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রচিন্তা ও বর্তমান বাংলাদেশ’, ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিকের ‘ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি ও কিছুকথা’, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ৪টি প্রবন্ধগ্রন্থ-‘হস্তান্তর নয় রূপান্তর চাই’, ‘দীক্ষাগুরুর তৎপরতা’, ‘সময় বহিয়া যায়’ ও ‘গণতন্ত্রের অভিমুখে’, যতীন সরকারের ‘প্রত্যয় প্রতিজ্ঞা প্রতিভা’, রামেন্দু মজুমদারের প্রবন্ধগ্রন্থ ‘বুদ্ধিজীবীর দায় ও অন্যান্য’, শেখ সাদীর ‘শ্মশানের নায়কেরা’ প্রভৃতি মননশীল বই।

এদিকে, শনিবার মেলার দুয়ার খোলে সকাল ১১টায়। দুই ঘণ্টা শিশুপ্রহরে শিশুরা আনন্দ করে। এদিন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এসেছিল দল বেঁধে। সন্ধ্যায় মেলায় বেশভিড় লক্ষ্য করা যায়। আগামীকাল রোববার এবারের মেলার ২৪তম দিনে মেলার প্রবেশ পথ খুলবে বেলা ৩টায় এবং বন্ধ হবে রাত ৯টায়।

মেলার নতুন বই
শনিবার মেলায় গল্পগ্রন্থ ৩৩টি, উপন্যাস ৩০টি, প্রবন্ধের বই ৭টি, কবিতার বই ৭২টি, গবেষণা গ্রন্থ ১টি, ছড়া ৫টি, শিশুসাহিত্য ৩টি, জীবনী গ্রন্থ ৬টি, মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক বই ২টি, নাটক ১টি, ভ্রমণ বিষয়ক বই ১টি, ইতিহাস ভিত্তিক বই ২টি, রাজনীতি বিষয়ক বই ১টি, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক বই ১টি, রম্য ও ধাঁধা বিষয়ক বই ১টি, ধর্ম বিষয়ক গ্রন্থ ২টি, অনুবাদ বই ২টি এবং অন্যান্য বিষয়ে বই এসেছে ১৬টি।

গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চের আয়োজন
শনিবার গ্রন্থমেলার ২৩তম দিনের বিকেলে মেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘বাংলাদেশের প্রকাশনা : অতীত ও বর্তমান’ শীর্ষক আলোচনা। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মাহ্‌রুখ মহিউদ্দীন। আলোচনায় অংশ নেন ফরিদ আহমেদ এবং এ এফ এম হায়াতুল্লাহ। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান।

এরপর একই মঞ্চে সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ করেন কবি মাহবুব সাদিক, জরিনা আখতার, মুনীর সিরাজ, ঝর্না রহমান, আলতাফ শাহনেওয়াজ, স্নিগ্ধা বাউল। আবৃত্তি পরিবেশন করেন মাহমুদা সিদ্দিকা সুমি।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয় সাংস্কৃতিক সংগঠন কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর এবং আরশিনগর বাউল সংঘ। এতে একক সংগীত পরিবেশন করেন সাইদুর রহমান বয়াতি, আরজ আলী বয়াতি, আমজাদ দেওয়ান, বিমল বাউল, কাঙ্গালিনি সুফিয়া, মো. গঞ্জের আলী, রাতুল শাহ, মো. দেলোয়ার হোসেন বয়াতি এবং জামাল দেওয়ান।

‘লেখক বলছি...’ মঞ্চের আয়োজন
এদিন মেলার ‘লেখক বলছি...’ মঞ্চে নিজেদের সাম্প্রতিক বই নিয়ে কথা বলেন পাঁচ কবি-সাহিত্যিক। তারা হলেন- ইমদাদুল হক মিলন, মঈনুল আহসান সাবের, হাসান আল আবদুল্লাহ, মেহেদী উল্লাহ এবং মিল্টন রহমান।

সারাবাংলা/এমও

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন