বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই, ২০১৯ ইং , ৩ শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৪ জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

ভিওআইপি: ৫ কোম্পানিকে জরিমানা ৮৬০ কোটি টাকা, শীর্ষে জিপি

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৯ | ১০:১৫ অপরাহ্ণ

।। স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট ।।

ঢাকা: ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল (ভিওআইপি) বা অবৈধভাবে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিদেশে ফোন কলের কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচ কোম্পানির কাছ থেকে ৮৬০ কোটি ৬০ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছে সরকার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জরিমানা করা হয়েছে গ্রামীণফোনকে (জিপি)। তাদের কাছ থেকে আদায় করা জরিমানার পরিমাণ ৪১৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

বৃহস্পতিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদে টেবিলে উত্থাপিত এক প্রশ্নের উত্তরে এ তথ্য জানান ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

আরও পড়ুন- ‘৬ রাষ্ট্রীয় ব্যাংকে খেলাপি ঋণ ৪৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা’

বিজ্ঞাপন

নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলমের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জানান, ভিওআইপি কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত টেলিকম কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে জরিমানা বাবদ রাজস্ব আদায় করা হয়েছে ৮৬০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে গ্রামীণফোনের কাছ থেকে— ৪১৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এছাড়া, রবি আজিয়াটার কাছ থেকে ১৪৫ কোটি, বাংলালিংকের কাছ থেকে ১২৫ কোটি, র‌্যাংকস টেলিকমের কাছ থেকে ১৬৪ ও পিপলস টেলিকমের কাছ থেকে ৮ কোটি ২০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়েছে।

ভোলা-৩ আসনের এমপি নুরুন্নবী চৌধুরীর এক প্রশ্নের উত্তরে তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী জানান, বিদেশি ফোন কল থেকে গত ৯ অর্থবছরে সরকার রাজস্ব আয় করেছে ১২ হাজার ৭৪৪ কোটি ২১ লাখ ১২ হাজার ১০২ টাকা। ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত সময়ে এই আয় হয়েছে। তবে এ খাতে রাজস্ব আয় কমেছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এই খাত থেকে রাজস্ব আয় যেখানে ছিল ২ হাজার ৭৫ কোটি টাকা, সেখানে সর্বশেষ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আয় ছিল ৯০৮ কোটি টাকা।

মন্ত্রী বলেন, বৈদেশিক কর বাবদ রাজস্ব আয় বাড়াতে সরকার তিনটি পদক্ষেপ নিয়েছে। এগুলো হচ্ছে— আন্তর্জাতিক ইনকামিং কল টার্মিনেশন রেট এক দশমিক ৭৫ থেকে দুই দশমিক ৫০ সেন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মোট ২৪টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে এবং ১৫ হাজার ৪৭৬টি সিম জব্দ করা হয়েছে ও একই অর্থবছরে সিম বক্স ডিটেকশন সিস্টেমের মাধ্যমে মোট ২০ লাখ ৫৮ হাজার ৩১৮টি সিম বন্ধ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম-১১ আসনের এম আবদুল লতিফের প্রশ্নে মন্ত্রী জানান, দেশে বিশ্বমানের আইটি পেশাজীবী তৈরির লক্ষ্যে হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ আইটি/আইটিএস সেক্টরে ৬ হাজার ৮৬০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মিড লেভেল ট্রেনিং প্রোগ্রামের এক হাজার ৭২ জনকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষিত করা হয়। অন্যদিকে, স্কিল এনহ্যান্সমেন্ট প্রোগ্রামের মাধ্যমে চার হাজার ৭৩৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান করা হয়। এছাড়াও বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আইটি পেশাজীবীদের জন্য বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ লিন সিক্স সিগমা, ওরাকল ই সুইট পিএমপি বিষয়ে প্রশিক্ষিত করা হয়েছে।

মোস্তাফা জব্বার জানান, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় থেকে আইটি বিষয়ে দক্ষ জনবল তৈরির জন্য হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষায়িত ল্যাব স্থাপন করেছে। পাশাপাশি কিছু ল্যাব স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।

একই সংসদ সদস্যের অন্য এক প্রশ্নে মন্ত্রী জানান, থ্রিজি সার্ভিসে ইন্টারনেটের গতিসহ মোবাইল অপারেটরদের সামগ্রিক সেবার মান সন্তোষজনক পর্যায়ে রাখতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

সারাবাংলা/এএইচএইচ/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন