শনিবার ৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ৯ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

ফুরালো প্রাণের মেলা

মার্চ ২, ২০১৯ | ৯:৪৪ অপরাহ্ণ

।। হাসনাত শাহীন, বইমেলা থেকে ।।

বিজ্ঞাপন

ঢাকা: ‘শেষ ভালো যার, সব ভালো তার’-এই প্রবাদই যেন এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে যৌক্তিক। কেননা এবার বৃষ্টি বেশ ক্ষতি করেছিলো প্রকাশকদের। দাবি ছিলো মেলার সময় বাড়ানোরও। তাই ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দু’দিন বাড়িয়ে দেওয়া হয় গ্রন্থমেলা। এই বাড়তি ২ দিন ক্ষতি ভুলিয়ে মেলায় নিয়ে আসে প্রাণের জোয়ার।

শনিবার (২ মার্চ) শেষ দিন সকাল ১১টা থেকে শুরু হয় মেলা। শুরুতে তেমন ভিড় না দেখা গেলেও বিকেলের পর থেকে বাকি সময় ছিলো বইপ্রেমীদের। বর্ধিত দুই দিনের মেলার আনন্দকে সঙ্গী করে শুরু হলো আরও ১১ মাসের অপেক্ষা। ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ফের শুরু হবে এ বইয়ের মেলা।

বিজ্ঞাপন

তবে শেষ মুহূর্তের ভালোলাগা আর আনন্দের নির্যাস নিতে ভোলেননি কেউই। বইপ্রেমীরা কিনে নিয়েছেন বাকির খাতায় জমে থাকা শেষ বইগুলো। আর দর্শনার্থীরা অনান্য দিনের মতোই শেষ দিনেও আড্ডা আর ঘোরাঘুরি করে কাটিয়েছেন সময়। সব মিলিয়ে লেখক-পাঠক-প্রকাশক আর দর্শনার্থীর সরব উপস্থিতিতে মুখর ছিলো মেলার দুই পাশই।

প্রায় ৮০ কোটি টাকার বই বিক্রি

এবারের মেলা ২৮তম দিনে ছিলো সমাপনী আয়োজন। মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ জানান, গতবারের তুলনায় এবার ১০ শতাংশের বেশি টাকার বই বিক্রি হয়েছে। মেলায় ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্টল মালিকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং ২৮ ফেব্রুয়ারির সম্ভাব্য বিক্রি যুক্ত করে এ হিসাব পাওয়া গেছে।

তিনি জানান, এবার ৭৯ কোটি ৭০ লাখ টাকার বই বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি বিক্রি করেছে ২ কোটি ১৫ লাখ টাকার বই। প্রকাশকরা বিক্রি করেছে ৭৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকার বই। গতবার বাংলা একাডেমি বিক্রি করেছিল ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকার বই। গতবারের তুলনায় বাংলা একাডেমি ৫০ লাখ টাকার বই বেশি বিক্রি করেছে। অন্যদিকে, গতবারের তুলনায় এবারের মেলায় প্রকাশকরা ৭ কোটি ৫ লাখ টাকার বই বেশি বিক্রি করেছে।

নতুন বই ৪ হাজার ৮৩৪টি

এবারের গ্রন্থমেলায় নতুন বই এসেছে চার হাজার ৮৩৪টি। গতবারের মেলায় নতুন বই এসেছিলো চার হাজার ৫৯১টি। গত বছরের চাইতে এবার ২৪৩টি বই বেশি প্রকাশিত হয়েছে।

বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগ জানায়, প্রতিবছরের মতো এবারও প্রকাশের শীর্ষে কবিতার বই। এবার কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে এক হাজার ৬০৮টি।

এছাড়া গল্পগ্রন্থ ৭৫৭টি, উপন্যাস ৬৯৮টি, প্রবন্ধ ২৭৪টি, গবেষণা ৮০টি, ছড়া ১৪৮টি, শিশুতোষ ১৫০টি, জীবনী ১৬৭টি, রচনাবলী ১৫টি, মুক্তিযুদ্ধ ১১০টি, নাটক ৪৩টি, বিজ্ঞান ৭৭টি, ভ্রমণ ৮৫টি, ইতিহাস ৭৭টি, রাজনীতি ৩৩টি, স্বাস্থ্য ৩৭টি, কম্পিউটার ৫টি, রম্য ২৮টি, ধর্মীয় ২৫টি, অনুবাদ ৩৮টি, অভিধান ৬টি, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি ৪৫টি এবং বিবিধ বিষয়ে বই এসেছে ৩৩০টি। এরমধ্যে মেলার শেষ দিনে ৬৩টি নতুন বই এসেছে।

মেলার সার্বিক বিষয়ে মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ সারাবাংলাকে বলেন, ‘এবার মেলা পরিকল্পনামাফিক করতে পারায় আমরা সবচেয়ে খুশি। মেলার সময়সীমা দুই দিন বাড়ায় বইপ্রেমীরা আরও বেশি আসতে পেরেছেন মেলায়। সে সঙ্গে বিক্রিও ভালো হয়েছে।’ এবার যেসব ভুল-ত্রুটি ছিলো, সেগুলো কাটিয়ে আগামীবার মেলা আরও সুন্দর করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

সারাবাংলা/এমও

বিজ্ঞাপন
Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন