শনিবার ২৩ মার্চ, ২০১৯ ইং , ৯ চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৪ রজব, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

‘দলে যোগ না দেওয়ায় ‘মৃত্যু পরোয়ানা’ জারির হুমকি দেয় তারেক’

মার্চ ৯, ২০১৯ | ৯:৫১ অপরাহ্ণ

।। স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট ।।

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামের মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, ‘ক্ষমতায় থাকতে সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান তাকে দলে যোগ দেওয়ার প্রলোভন দিয়েছিলেন। তারেক রহমান রীতিমতো সময় বেঁধে দিয়ে বলেছিলেন—দলে যোগ না দিলে মৃত্যু পরোয়ানা জারি হবে।

শনিবার (৯ মার্চ) দুপুরে নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক আড্ডা অনুষ্ঠানে মেয়র এই তথ্য দেন।

বিজ্ঞাপন

মেয়র বলেন, ‘জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় থাকার সময় প্রেসিডেন্ট এরশাদ একাধিকবার আমাকে তার দলে যাবার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। এরশাদ সাহেব নিজের দলকে শক্তিশালী করার জন্য অন্য দলের মেধাবী নেতা-কর্মীদের টার্গেট করেছিলেন। সেই টার্গেটে আমিও ছিলাম। জাতীয় পার্টিতে যোগ দিলে আমাকে যা চাই তা দেওয়া হবে বলেও তিনি প্রলোভন দিয়েছিলেন। আমি কিন্তু নিজের আদর্শে অবিচল ছিলাম। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কর্মী।’

তারেক রহমানের প্রসঙ্গ টেনে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘তারেক জিয়া তো রীতিমতো আলটিমেটাম দিয়েছিলেন। হয় দলে আসতে হবে, নয়তো মৃত্যু পরোয়ানা।’

২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পর যৌথবাহিনীর পরিচালিত ‘অপারেশন ক্লিনহার্টের’ সময় ক্রসফায়ারের তালিকায় নিজের নাম ছিল বলেও তথ্য দিয়েছেন আ জ ম নাছির উদ্দীন।

তিনি বলেন, ‘অপারেশন ক্লিনহার্টের সময় শুভাকাঙ্ক্ষীরা আমাকে বললেন দ্রুত সরে পড়ার জন্য। শুনতে পেলাম আমি নাকি তালিকায় রয়েছি। যেকোনো মুহূর্তে ক্রসফায়ারে যেতে পারি। এক রাতে সেনাবাহিনী আমাদের বাড়ি রেইড দেয়। সেদিন আমিও সতর্কবার্তা পাই সরে যাওয়ার।’

‘সামাজিক অনুষ্ঠান সেরে সেদিন আমি রাত ১২ টার দিকে বাসায় ফিরি। দুশ্চিন্তায় ঘুম হচ্ছিল না। রাত তিনটার দিকে ঘুম ভেঙে যায়। আমি সেদিন একটু আগেই মসজিদে চলে যাই নামাজ পড়তে। দেখি মসজিদের গেইট বন্ধ। পরে ডাকাডাকি করে গেইট খুলে আমি মসজিদে ঢুকি। নামাজ শেষে ফেরার পথে দেখি, আমার ছোট ভাই হাসান দৌড়ে এসে আমাকে বলে সেনাবাহিনী বাড়ি রেইড দিয়েছে। আমি অন্য গেইট দিয়ে নেমে ট্যাক্সি নিয়ে দ্রুত সরে যাই। সেদিন আমার বড় ভাইদের কাউকেই বের হতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু আমার ছোট ভাই বের হওয়ার সময় সেনাবাহিনী কিছু বলেনি। এজন্য আমি প্রাণে বেঁচে যাই।’ বলেন আ জ ম নাছির উদ্দীন

তবে এত ‘চাপের’ পরও আওয়ামী লীগ ত্যাগ করেননি জানিয়ে মেয়র বলেন, ‘আমি আমার নীতি, আদর্শ ও সিদ্ধান্তে অটল ছিলাম। এরশাদ সাহেবের আমন্ত্রণ ফিরিয়ে দেওয়ায় আমাকে নানামুখী সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। আমি দমে যাইনি।’

পঁচাত্তর পরবর্তী আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে চট্টগ্রামে ছাত্রলীগকে সংঘটিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল আ জ ম নাছির উদ্দীনের। আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে কখনো এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, আবার কখনো আক্তারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর সঙ্গে বিরোধে জড়ান নাছির। এর ফলে আওয়ামী লীগের মূলধারা থেকে ছিটকে পড়েছিলেন দীর্ঘদিন। তবে চট্টগ্রাম নগরীর কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ ছিল নাছিরের হাতে। এর ফলে আলাদা একটি বলয় নিয়ে সক্রিয় ছিলেন চট্টগ্রামের রাজনীতির মাঠে।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ফেরেন মূলধারায়। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ পান। চট্টগ্রামের মেয়রও নির্বাচিত হন ২০১৫ সালে।

নাছিরকে আওয়ামী লীগ ছাড়তে প্রলোভন দেওয়া এরশাদের জাতীয় পার্টি এখন নাছিরের দল আওয়ামী লীগের মহাজোটের শরিক। আর তারেক রহমান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেনেড হামলা করে হত্যাচেষ্টার দায়ে দণ্ডিত আসামি। ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী জরুরি অবস্থার সময় বিদেশে চলে যাওয়া তারেক একাধিক দুর্নীতির মামলায়ও দণ্ডিত।

‘দৃষ্টি’ আয়োজিত এই আড্ডায় আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ড. নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু ও শৈবাল দাশ সুমন, কবি ও সাংবাদিক ওমর কায়সার, থিয়েটার ইনস্টিটিউটের পরিচালক আহমেদ ইকবাল হায়দার এবং ছড়াকার জিন্নাহ চৌধুরী।

আড্ডায় বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা নগরীর নানা সমস্যা নিয়ে মেয়রের কাছে মতামত দেন। এসময় বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরও দেন মেয়র।

সারাবাংলা/আরডি/এমআই

‘দলে যোগ না দেওয়ায় ‘মৃত্যু পরোয়ানা’ জারির হুমকি দেয় তারেক’
বিজ্ঞাপন

Tags:

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন