বিজ্ঞাপন

রবি’র কাছে পাওনা ৯১ কোটি টাকা ভ্যাট পরিশোধে টালবাহানা

March 10, 2019 | 10:24 am

।। শেখ জাহিদুজ্জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট।।

বিজ্ঞাপন

ঢাকা: মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানি রবি ও এয়ারটেল একীভূতকরণের ভ্যাট বাবদ বিটিআরসির কাছে ৯১ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে এনবিআরের। টাকা পরিশোধে বারবার তাগিদ দেওয়া হলেও বিটিআরসির পক্ষ থেকে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অভিযোগ, বকেয়া পরিশোধে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) টালবাহানা করছে। বারবার চিঠি পাঠানো হলেও তারা কার্যকরী কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

এনবিআর বলছে, ২০১৬ সালের ৮ আগস্ট এয়ারটেলের অনূকূলে বরাদ্দ হওয়া ২জি স্পেকট্রামের তরঙ্গমূল্য সমন্বয় করা হয়। এটির সমন্বয়মূল্য ধরা হয় ৫০৭ কোটি টাকা। এছাড়া ১০০ কোটি টাকা পরিশোধের শর্তে রবি ও এয়ারটেলকে একীভূতকরণের অনুমতি মেলে। মোট ৬০৭ কোটি টাকার ওপর ১৫ শতাংশ হারে মূসক ৯১ কোটি ৫ লাখ টাকা উৎসে কর্তনকারী সংস্থা হিসেবে বিটিআরসির কাছ থেকে আদায়যোগ্য।

এ টাকা আদায়ের জন্য সম্প্রতি এনবিআর ১৯৯১ সালের ৫৫ ধারা অনুযায়ী দাবিনামা জারি করেছে। পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ করতে বিটিআরসিকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তা না হলে আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলছে এনবিআর।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৩১ আগস্ট রবি ও এয়ারটেল একীভূত বিষয়ে অনুমোদন দেয় আদালত। তরঙ্গ ফি ও একীভূতকরণের ফি হিসেবে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) মোট ৬০৭ কোটি টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়। এর মধ্যে তরঙ্গ ফি ৫০৭ কোটি টাকা ও একীভূতকরণ ফি ১০০ কোটি টাকা। এ অর্থ কীভাবে রবির কাছ থেকে নেবে সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভারও বিটিআরসির ওপর ছেড়ে দেন আদালত।

এদিকে বিটিআরসি বলছে রবির কাছ থেকে এখনও টাকা পাওয়া যায়নি। তবে এনবিআর বলছে, ফি না নিয়ে বিটিআরসি যদি রবি-এয়ারটেলকে একীভূতকরণের অনুমতি দেয় তাহলে সেটা বিটিআরসির বিষয়। আর কর্তৃনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এনবিআর বিটিআরসির কাছ থেকে ভ্যাট আদায় করবে।

বিজ্ঞাপন

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া সারাবাংলাকে বলেন, ‘সব প্রতিষ্ঠানই ভ্যাট পরিশোধ করে। রবি ও এয়ারটেল একীভূতবাবদ বিটিআরসির কাছে ৯১ কোটি ৫ লাখ টাকা পাওয়া যাবে। আশা করি বিটিআরসি খুব শিগগিরই বকেয়া পরিশোধ করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিটিআরসি যেভাবে সময়ক্ষেপণ করছে এটিকে একপ্রকার টালাবাহানা বলা যেতে পারে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিটিআরসি যদি বকেয়া পরিশোধ না করে তাহলে আমাদের আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় থাকবে না।’

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমরা তাদের কাছ থেকে হয়ত একীভূতকরণের ফি পাইনি। এ কারণে এনবিআরের বকেয়া পরিশোধ করা হচ্ছে না। রবি-এয়ারটেলের কাছ থেকে বকেয়া পাওয়া মাত্রই এনবিআরকে ভ্যাটের টাকা পরিশোধ করা হবে। বিষয়টি যতদ্রুত হয় আমরা সেই চেষ্টা করছি।

রবি-এয়ারটেলকে বকেয়া পরিশোধে কয়েকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান বিটিআরসি চেয়ারম্যান।

সারাবাংলা/এসজে/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন