বৃহস্পতিবার ২১ মার্চ, ২০১৯ ইং , ৭ চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৩ রজব, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা উৎপাদনের অবৈধ কারখানা, জানে না প্রশাসন!

মার্চ ১৫, ২০১৯ | ৬:৩০ পূর্বাহ্ণ

।। শেখ শরিফ, লোকাল করেসপন্ডেন্ট ।।

আশুলিয়া: আশুলিয়ার দুর্গাপুরে অবৈধভাবে ব্যাটারি পুড়িয়ে চলছে সীসা উৎপাদনের কাজ চলছে একটি কারখানায়। আর এই কারখানা থেকে নির্গত হচ্ছে বিষাক্ত কালো ধোঁয়া। তাতে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন স্থানীয়রা। এমনকি আক্রান্ত হচ্ছে জমির ফসলও। ওই এলাকার মাঠের ঘাস খেয়ে গবাদি পশু মারা যাচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চারপাশে টিনের তৈরি ঘরে চলছে কারখানার কাজ। কোনো সাইনবোর্ড না থাকলেও কাছে গেলেই বোঝা যায়, ভেতরে রয়েছে একটি কারখানা। এখানে পুরনো ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা উৎপদনের কাজ চলছে রাতদিন। কারখানা থেকে বের হচ্ছে বিষাক্ত কালো ধোঁয়া। তা ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। এই ধোঁয়ার কারণে আশপাশের এলাকায় নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। বিভিন্ন রোগে আক্রান্তও হচ্ছে মানুষ। বিশেষ করে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

সারাবাংলার এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তির। তারা জানান, ব্যাটারির ধোঁয়া ঘাসের ওপর পড়ে। আর সেই ঘাস গরু খেলেই মারা যায়। এ পর্যন্ত তিনটি গরু মারা গেছে ওই এলাকায়। এছাড়া আম, কাঁঠাল ও বিভিন্ন ফলমূলেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। তারা কারখানাটি দ্রুত বন্ধ করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন

দেখা গেছে, এ কারখানায় যারা কাজ করছে, তাদের অনেকের বয়স ১৮ বছরের কম। এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করার সময় কোনো মাস্কও ব্যবহার করে না শ্রমিকরা। তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও কারখানা সংলগ্ন স্থানে। দুই ভাগে ভাগ হয়ে ২৪ ঘণ্টাই কাজ করেন শ্রমিকরা। দিনের শ্রমিকরা ব্যাটারি ভেঙে খুলে রাখেন, আর রাতে চলে ব্যাটারি পোড়ানোর কাজ।

কারখানাটির মালিকের নাম বুলবুল আহমেদ। তবে স্থানীয়দের দাবি, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন মাতবরের ভাইয়ের ছেলে ফয়সাল মাতবর এই কারখানার সঙ্গে জড়িত। এ কারণেই পুলিশ প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে কোনো কথা বলে না।

ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা গলানোর কারণে জনস্বাস্থ্য বা পরিবেশ বিপর্যয় নিয়ে চিন্তিত নন মালিক বুলবুল আহমেদও। সাংবাদিকদের কেন বিষয়টি নিয়ে এত মাথাব্যাথা, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

সারাবাংলাকে বুলবুল আহমেদ বলেন, ‘আমি চালাচ্ছি তাকে কী হয়েছে? আপনারা সাংবাদিক আপনারা কেন এসেছেন? পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন ও ফয়সাল সাহেব এসব দেখাশোনা করেন। দেশে তো কতই অবৈধ কারখানা আছে। পরিবেশ নষ্ট হলে পরিবেশ অধিদফতর আসবে। তাদেরকে ম্যানেজ করেই এই কারখানা চালাচ্ছি। চারটি গরু মারা গেলে কী হয়েছে? আপনারা যা পারেন, তা করেন।’

তবে ফয়সাল মাতবর এই কারখানার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল হাসান সারাবাংলাকে বলেন, ‘ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা তৈরি করা হচ্ছে। এটা আশপাশের মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং গাছপালার বিপর্যয় হচ্ছে। আমরা শিগগিরই এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেব। আমাদের পরিবেশ সম্পর্কিত যে বিভাগগুলো আছে, তাদের নির্দেশনা দেবো যেন এখানে তদারকি করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

স্থানীয় থানাও বিষয়টি সম্পর্কে জানে না বলে দাবি করেছে। আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ রিজাউল হক বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমরা জানি না। এখন জানতে পেরেছি। অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে আমরা দ্রুতই ব্যবস্থা নেবো।’

সারাবাংলা/এসএমএন/টিআর

ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা উৎপাদনের অবৈধ কারখানা, জানে না প্রশাসন!
বিজ্ঞাপন

Tags: ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন