শনিবার ২৩ মার্চ, ২০১৯ ইং , ৯ চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৪ রজব, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

বিচারিক আদালতের বেশিরভাগ লিফট ত্রুটিপূর্ণ, ফের দুর্ঘটনার আশঙ্কা

মার্চ ১৪, ২০১৯ | ১০:১০ পূর্বাহ্ণ

।। আরিফুল ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ।।

ঢাকা: ঢাকা জেলা জজ আদালতের একটি ভবনে লিফট ছিঁড়ে ১২ জন গুরুতর আহত হওয়ার পরও মেরামত করা হচ্ছে না এখানকার বেশ কয়েকটি ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ লিফট। আর এসব লিফটে যে কোন সময় আবারও বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা করছেন ওইসব ভবনের লিফট ব্যবহারকারীরা।

আইনজীবী ও কর্মচারিরা জানান, ঢাকার বিচারিক আদালতে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ব্যবহারের জন্যে মোট আটটি লিফট রয়েছে। এগুলোর বেশিরভাগই যান্ত্রিক ত্রুটিপূর্ণ । এসব লিফট চালু অবস্থায় যেকোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

বিজ্ঞাপন

তারা জানান, ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ভবন নির্মাণের কিছুদিন পরই সাধারণ মানুষ ও আইনজীবীদের ওঠা-নামার জন্য সংযোগ করা হয় দুটি লিফট। বর্তমানে লিফট দুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এতে সেন্সর থাকলেও ভেতর থেকে গ্রাউন্ড ফ্লোরে নামার জন্য কোনো বাটনের ব্যবস্থা নেই।

আইনজীবীরা অভিযোগ করে বলেন,লিফটগুলোতে কেউ বাইরে থেকে কল দিলেই শুধু নিচে নামে। দুটি লিফটের মধ্যে একটি দরজা বন্ধ করলেও বারবার খুলে যায়। ভেতর থেকে টেনে লিফটের দরজা বন্ধ করলে তারপরই ওপরে ওঠে। ওই ভবনের পাশের লিফটি আরও ঝুকিপূর্ণ। ওপরের দিকে ওঠলে আর নিচের নামতে চায় না। বাইরে থেকেও বাটনগুলো কাজ করে না ঠিকমতো। ভেতর থেকে নিচের নামার জন্য গ্রাউন্ডফ্লোরের কোনো বাটনও নেই। লিফেটে ওঠে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় কখন নিচে থেকে কল দেবে।

মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতের আট তলায় লিফটের  সামনে সারাবাংলার এই প্রতিবেদকের সঙ্গে দেখা হয়  অ্যাডভোকেট আবু তাহের রনির। তিনি এসেছিলেন সিআর মামলায় হাজিরা দেওয়ার জন্য। রনি সারাবাংলাকে বলেন, ‘গত ৭ তারিখের দুর্ঘটনার পর থেকে মনে হচ্ছে প্রাণটা হাতে নিয়ে লিফটে ওঠা-নামা করছি। কখন বুঝি আরেকটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সিএমএম আদালতের এ দুটি লিফটটের অবস্থা খুবই খারাপ। অতি শিগগিরই যদি এগুলো ঠিক না করা হয় তাহলে যেকোন সময় আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। অনেক বয়স্ক আইনজীবীরা আছেন তাদেরও বাধ্য হয়ে এসব ত্রুটিপূর্ণ লিফট ব্যবহার করতে হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব এটি তদারকি করা কিন্তু তারা কী সেটা করছে? তাদের অবহেলার কারণে বিপদকে সঙ্গে নিয়ে চলতে হচ্ছে।’

নিম্ন আদালতের আরেক অ্যাডভোকেট আজাদ রহমান সারাবাংলাকে বলেন, ‘জজ কোর্টের কয়েকটি লিফট ত্রুটির কারণে মাসে ১০ দিনও বন্ধ থাকে। নতুন ভবনের দুটি লিফটটের মধ্য একটির সেন্সরও ঠিকমত কাজ করে না। এ লিফটে ওঠার সময় হঠাৎ করে দরজা বন্ধ হয়ে যায়। লিফটের ভিতরে একজন প্রবেশ করে এক্সিট বাটন চেপে ধরে রাখতে হয়। এরপর বাকিরা উঠতে পারেন।’
ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি গাজী শাহ আলম সারাবাংলাকে বলেন, ‘ঢাকা নিম্ন আদালতের যেসব লিফট ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে সেগুলো ঠিক করার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। যারা এসব লিফট-এর কাজে জড়িত তারা যেন দ্রুত এসব ঠিক করেন।’

বুধবার (১৩ মার্চ) লিফট মেরামতের দায়িত্বে থাকা ঢাকা সিএমএম আদালতে নিচ তলায় গণপূর্ত উপবিভাগ-৩-এর উপসহকারী কার্যলয়ে  গিয়ে সারাবাংলার   এই প্রতিবেদক তা বন্ধ দেখতে পান। এসময় সেখানকার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, অনেকদিন ধরে অফিসটি বন্ধ দেখছি।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের ৭ তারিখে ঢাকা জেলা জজ আদালতের পুরান ভবনের একটি লিফট ছিঁড়ে লিফটম্যানসহ ১২ জন আহত হন। এ দুর্ঘটনার বেশ কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের মধ্যে অনেকে এখনো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বিচারিক আদালতে স্ট্যাম্প বিক্রেতা আসাদুজ্জামান সারাবাংলাকে বলেন, ‘ গত ৭ মার্চ আমি প্রতিদিনের মতো কাজ করছিলাম। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দ শুনতে পাই। এরপর চারদিকে আমার সামনে ধুলোয় অন্ধকার হয়ে যায়। মনে হচ্ছিল বোমা বিস্ফোরণ ঘটেছে। এর কিছুক্ষণ পরই সামনে তাকিয়ে দেখি লিফটের ভেতর থেকে কা ন্নার আওয়াজ আসছে। ওই সময় তৌহিদ নামের এক ব্যক্তি দ্রুত লিফটের দরজা খোলেন। লিফটের ভেতরের সবাই অনেকটা অজ্ঞান অবস্থায় ছিল।’

এ বিষয়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটি, না অতিরিক্ত আরোহীর কারণে লিফট ছিড়ে পড়ে, তা তদন্ত শেষে জানা যাবে। এর আগে কিছুই বলা যাবে না।’

সারাবাংলা/এআই/জেডএফ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন