বৃহস্পতিবার ২১ মার্চ, ২০১৯ ইং , ৭ চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৩ রজব, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

৪ ধাপে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ১১০ উপজেলা চেয়ারম্যান

মার্চ ১৪, ২০১৯ | ১০:৪১ অপরাহ্ণ

।। স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট ।।

ঢাকা: পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চার ধাপ মিলিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন রেকর্ড ১১০ জন চেয়ারম্যান। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৪০ জন চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন চতুর্থ ধাপের উপজেলা নির্বাচনে। এছাড়া প্রথম ধাপে ১৫ জন, দ্বিতীয় ধাপে ২৫ জন, তৃতীয় ধাপে ৩০ জন চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

প্রথম চার ধাপে নির্বাচন হবে ৪৬০ উপজেলায়। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্র সারাবাংলাকে জানিয়েছে, এর মধ্য ২৪ শতাংশ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী না থাকায় এই পদগুলোতে নির্বাচন হচ্ছে না। এছাড়াও ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদেও চার ধাপে দেড় শতাধিক প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

চতুর্থ ধাপে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা

চতুর্থ ধাপের উপজেলা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৩১ মার্চ। গতকাল বুধবার (১৩ মার্চ) ছিল এই ধাপের নির্বাচনের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। এই প্রক্রিয়া শেষে দেখা গেছে, ৪০ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে থাকছেন একক প্রার্থী। তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত এসব চেয়ারম্যানের মধ্যে রয়েছেন— বাগেরহাট জেলার বাগেরহাট সদর উপজেলায় সরদার নাসির উদ্দিন, মোংলায় আবু তাহের হাওলাদার, চিতলমারিতে অশোক কুমার বড়াল, কচুয়ায় এস এম মাহফুজুর রহমান, রামপালে মোয়াজ্জেম হোসেন ও শরণখোলায় কামাল উদ্দিন। এই ছয় উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন হচ্ছে না।

ফেনী জেলায় রয়েছেন— পরশুরামে কামাল উদ্দিন, মজুমদার, দাগনভূঁইয়ায় দিদারুল কবির, সোনাগাজীতে জহির উদ্দিন মাহমুদ, ছাগলনাইয়ায় মেজবাউল হায়দার চৌধুরী ও ফুলগাজী উপজেলায় আবদুল আলিম।

কুমিল্লা জেলার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতরা হলেন— লাকসামে মো. ইউনুস ভূঁইয়া, মনোহরগঞ্জে জাকির হোসেন, নাঙ্গলকোটে সামসুউদ্দিন, দেবীদ্ধার উপজেলায় জয়নুল আবেদিন এবং চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় মো. আবদুস সোবহান ভূঁইয়া।

ময়মনসিংহ জেলার সদর উপজেলায় আশরাফ হোসাইন, গফরগাঁও আশরাফ উদ্দিন ও ফুলবাড়িয়ায় আবদুল মালেক সরদার; যশোর সদরে শাহীন চাকলাদার ও শার্শায় সিরাজুল হক;  ভোলা সদরে মোশারফ হোসেন, মনপুরায় শেলিনা আক্তার চৌধুরী ও দৌলতখানে মনজুরুল আলম খানও নির্বাচিত হয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।

এছাড়া পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় সিরাজুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় মো. রাশেদুল কাউসার ভূঁইয়া ও আখাউড়ায় আবুল কাসেম ভূঁইয়া; রাজধানী ঢাকার সাভারে মনজুরুল আলম, দোহারে আলমগীর হোসেন ও কেরানিগঞ্জে শাহীন আহমেদ; খুলনায় বটিয়াঘাটায় মো. আশরাফুল আলম ও ফুলতলীতে শেখ আকরাম হোসেন এবং টাঙ্গাইলের ধনবাড়িতে হারুন আর রশীদ, মধুপুরে সারোয়ার আলম খান ও গোপালপুরে ইউনুস ইসলাম তালুকদার এই ধাপে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন চেয়ারম্যান পদে।

ইসি সূত্র জানায়, গত ১০ মার্চ প্রথম ধাপে ৭৮ উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে এই ধাপের ৮৭ উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে জামালপুর জেলার মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ এবং নাটোর জেলার নাটের সদর উপজেলায় সব প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় এই তিন উপজেলা নির্বাচনের প্রয়োজন হয়নি। বাকি ছয়টি উপজেলার নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।

এছাড়াও আগামী ১৮ মার্চ দ্বিতীয় ধাপে ১২৪ উপজেলায়, ২৪ মার্চ তৃতীয় ধাপে ১২৭ উপজেলায় এবং ৩১ মার্চ চতুর্থ ধাপের ১২২ উপজেলা এবং আগামী ১৮ জুন পঞ্চম ধাপে ২১ উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে ঘোষিত তফসিল অনুয়াযী চার ধাপের উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোট ৫ হাজার ৫৭৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ১ হাজার ২৮৮ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ হাজার ৩০৩ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১ হাজার ৬০৪ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এত বেশিসংখ্যক প্রার্থীর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সারাবাংলাকে বলেন, এ বিষয়ে কিছু বলার নেই। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। কেউ নির্বাচনে না এলে নির্বাচন কমিশনের কী করার আছে।

ইসি সূত্র জানায়, বর্তমান দেশে ৪৯২টি উপজেলা পরিষদ রয়েছে। এর মধ্যে ১০ মার্চ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত পাঁচ ধাপে ৪৮০ উপজেলায় নির্বাচন হচ্ছে। চার ধাপের ৪৬০টি উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়ন প্রত্যাহার পর্যন্ত সব কার্যক্রমই শেষ হয়েছে। পঞ্চম ধাপের ২০টি উপজেলায় নির্বাচন হবে ১৮ জুন। এই ধাপের তফসিল এখনও ঘোষণা করা হয়নি। বাকি ১২টি উপজেলায় মেয়াদ শেষ না হওয়া এবং আইনি জটিলতা থাকায় এ বছর নির্বাচন করা যাচ্ছে না।

দেশে উপজেলা পরিষদের সংখ্যা

১৯৮৫ সালে দেশে প্রথমবারের মতো উপজেলা পরিষদ গঠিত হয়। উপজেলা পরিষদ গঠিত হওয়ার সময় দেশে উপজেলার সংখ্যা ছিল ৪৬০টি। ১৯৮৫ ও ১৯৯০ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে উপজেলা নির্বাচন হয় ৪৬০টি উপজেলায়। পরবর্তী সময়ে দেশে উপজেলার সংখ্যা বাড়তে থাকায় ২০০৯ সালে ৪৮১টি এবং ২০১৪ সালে ৪৮২টি উপজেলায় নির্বাচন হয়।

সারাবাংলা/জিএস/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন