বৃহস্পতিবার ২১ মার্চ, ২০১৯ ইং , ৭ চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৩ রজব, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

লক্ষ্মীপুরে জেলেদের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

মার্চ ১৫, ২০১৯ | ৪:২১ পূর্বাহ্ণ

।। মো. আতোয়ার রহমান মনির, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট ।।

লক্ষ্মীপুর: মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শুরু হলেও বরাদ্দ সরকারি চাল না পাওয়ার অভিযোগ লক্ষ্মীপুরের জেলেদের। ‍বিগত বছরগুলোতে এই সময়ে জেলেরা অনুদান পাওয়া শুরু করলেও এ বছর এখনো পুনর্বাসনের চালের দেখা মেলেনি বলে অভিযোগ জেলেদের।

দেশে ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে মার্চ-এপ্রিল বন্ধ থাকে মাছ ধরা। এসময় জেলেরা মাছ ধরার পরিবর্তে ঘরে বসে জাল বুনে আর ট্রলার মেরাতম করে সময় কাটায়। যেহেতু নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা মাছ ধরতে পারে না, তাই এসময় তাদের সরকারি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে এ বছর বেশ কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও চাল না পাওয়ায় হতাশা দেখা দিয়েছে তাদের মঝে।

বিজ্ঞাপন

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে ও পছন্দের লোকজন, আত্মীয়-স্বজনদের সরকারি চাল বরাদ্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ কারণে চাল বরাদ্দে অনিয়মের পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থান ও সুদবিহীন ঋণ সহায়তারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

জেলা মৎস্য অফিস সুত্রে জানা গেছে, জেলায় প্রায় ৫২ হাজার জেলের মধ্যে নিবন্ধন রয়েছে ৪২ হাজারের। তারা মূলত মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে। ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাস নদীতে সব ধরনের জাল ফেলা ও মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষনাসহ সব রকমের ইলিশ সংরক্ষণ, আহরণ, পরিবহন, বাজারজাত করণ ও মজুদকরণ নিষিদ্ধ রয়েছে। এ সময়ে এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করার জন্য নদীতে মৎস্য বিভাগ, উপজেলা ও জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রেখেছেন তারা।

জেলেদের তালিকা তৈরিতে টাকা-পয়সা লেনদেনের ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে আব্দুর রহমান নামের এক জেলে বলেন, ‘চাল নেওয়ার জন্য তালিকায় নাম লেখাতে তার কাছ থেকে পাঁচশ টাকা চাওয়া হয়।’ টাকা দিতে না পারায় তালিকায় নাম নেই বলেও জানান তিনি।

অপরদিকে রামগতির আলেকজান্ডারের জেলে নিজাম বলেন, ‘এখন নিষিদ্ধ সময়। সরকারি বরাদ্দের চাল না পেলেও তিনি মেঘনায় মাছ ধরতে যাননি। চলতি নিষেধাজ্ঞার সময়ে মৎস্য অধিদফতর ও কোস্টগার্ড এক সময়ে নামমাত্র অভিযান চালিয়ে কিছু নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, জেলেসহ ইলিশ মাছ আটক করে। পরে জেল জারিমানা দিয়ে আবার ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু প্রকৃতই যারা নিষেধাজ্ঞা মানছে তারা ভিজিএফের চাল পাচ্ছে না।’

স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, এ সয়ম জাটকা আহরণ থেকে বিরত থাকার জন্য প্রত্যেক জেলেকে ৪০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা। কিন্তু মার্চ মাসের আগে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো জেলার অনেক জায়গায় সরকারি চাল হাতে পাননি জেলেরা। চাল নিয়ে এমন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে লক্ষ্মীপুর সদর, কমলনগর, রামগতি ও রায়পুর উপজেলার অনেক ইউনিয়নেও।

তবে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেন কমলনগর পাটারিরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম নুরুল আমিন রাজু। তিনি বলেন, ‘তার ইউনিয়নে ৩ হাজার ৬২৬ জন নিবন্ধিত জেলে থাকলেও ১ হাজার ৪৬২ জন জেলের জন্য চাল বরাদ্দ হয়েছে। বরাদ্দ কম পাওয়ায় সব জেলেকে ভিজিএফের তালিকাভুক্ত করা যায়নি।’

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম মহিব উল্যাহ জানান, ইলিশের উৎপাদন ও জাটকা সংরক্ষণের লক্ষ্য ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল দুই মাস নদীতে সকল ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ জন্য এখনো পর্যন্ত নদীতে কোনো জেলেকে নদীতে নামতে দেখা যায়নি। নিবন্ধিত সব জেলে যাতে খাদ্য সহায়তা পান সে ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে।’

সারাবাংলা/এমআই

লক্ষ্মীপুরে জেলেদের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন