বৃহস্পতিবার ২১ মার্চ, ২০১৯ ইং , ৭ চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৩ রজব, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

শেকৃবি উপাচার্যের বিরুদ্ধে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

মার্চ ১৫, ২০১৯ | ৭:৪৯ পূর্বাহ্ণ

।। শেকৃবি করেসপন্ডেন্ট ।।

শেকৃবি: শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) উপাচার্য ড. কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জনবল নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নিয়মও মানছেন না ভিসি।

উপাচার্যের বিরুদ্ধে নিয়োগে আইন বহির্ভূতভাবে ২১ জনকে অপেক্ষমান তালিকায় রাখা, বিজ্ঞাপনে উল্লেখ না থাকার পরও একটি ইনস্টিটিউটে ৫ জনের নিয়োগ, বিজ্ঞাপিত চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও নিয়োগপ্রত্যাশী।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ২৪ ডিসেম্বর শেকৃবির চারটি অনুষদে সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক পদে ৭৫ জন শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এরমধ্যে কৃষি অনুষদে ৩০ জন, এনিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদে ২০ জন, ফিসারিজ অনুষদে ১৮ জন এবং এগ্রিবিজনেস ম্যানেজমেন্ট অনুষদে ৭ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

বিভিন্ন বিভাগের মৌখিক পরীক্ষা শেষে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর ১০১ জনকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। যা চাহিদার চেয়ে ২৬ জন বেশি। এর মধ্যে ২১ জনকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদনের অপেক্ষায় রাখা হয়। যা ইউজিসি আইনের পরিপন্থী।

এ বিষয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘ইউজিসির আইনে কোনো কন্ডিশনাল (শর্ত সাপেক্ষে) নিয়োগ দেওয়া যায় না। যাদের অপেক্ষমান রাখা হয়েছে তাদের নিয়োগ দিতে হলে আমাদের অনুমতি নিতে হবে। কিন্তু এটা ইউজিসির আইনে না থাকায় আমরা অনুমতি দেবো না।’

এদিকে, বিজ্ঞাপনে ‘ইনস্টিটিউট অব সিড টেকনোলজি’তে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে কোনো উল্লেখ না থাকলেও ৪ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী যত সংখ্যক পদে নিয়োগ দেওয়ার কথা তত সংখ্যক পদেই নিয়োগ দিতে হবে।’

কৃষি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক অভিযোগ করে বলেন, ‘অ্যাপিয়ার্ড সনদ দিয়ে আবেদন করা অনেককে ভাইভা কার্ড দেওয়া হয়নি। কিন্তু পোল্ট্রি সায়েন্স বিভাগে সহকারী অধ্যাপক পদে মাকসুদা বেগমকে অ্যাপির্য়াড সনদ দিয়ে আবেদন করার পরও তাকে ভাইবা কার্ড দেওয়া হয়েছে।’

সূত্র জানায়, কৃষিতত্ত্ব বিভাগে নিয়োগ বোর্ডে এক্সপার্ট হিসেবে উপাচার্যের জামাতা ওই বিভাগের অধ্যাপক ড. মির্জা হাসানুজ্জামানকে দায়িত্ব দেওয়া করা হয়। অভিযোগ আছে উপাচার্য তার আপন ভাগ্নে মো. মাহবুব আলমকে সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য জামাতাকে এক্সপার্ট হিসেবে নিয়োগ দেন।

একইভাবে এগ্রিবিজনেস ম্যানেজমেন্ট অনুষদের ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ফাইন্যান্স বিভাগে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা যোগ্য প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ড. আনোয়ারুল হক বেগের মেয়ে তাহরিমা হক বেগকে প্রভাষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাহরিমা হক আশা ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন বলে জানা যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও শিক্ষক সমিতিরি সভাপতি উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, শেকৃবির নিয়োগ বিধিমালায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) নিয়োগ বিধি অনুসরণ করার কথা রয়েছে। ওই বিধির আলোকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি অটোমেটিকভাবে বাদ হয়ে যাওয়ার কথা।

এসব অভিযোগের বিষয়ে উপাচার্য ড. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘এসব নিয়ে আমার কথা বলার সময় নেই। নিয়োগ নিয়েও কোনো কথা বলার দরকার নেই। আই ডোন্ট ফিল অ্যানি নিড টু টক উইথ ইউ। এই হলো কথা। আমার কোনো প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না’।

এ বিষয়ে আরও প্রশ্ন করলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘তোমরা কি এখানে বিতর্ক করার জন্য আসছো?’ এরপর তিনি রুম থেকে সাংবাদিকদের বের করে দেন।

সারাবাংলা/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন