শনিবার ২৩ মার্চ, ২০১৯ ইং , ৯ চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৪ রজব, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

কেউ মসজিদে যাবেন না: নিউজিল্যান্ডের পুলিশ কমিশনার

মার্চ ১৫, ২০১৯ | ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ

।। আন্তর্জাতিক ডেস্ক ।।

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ ও লিনউডের দুই মসজিদে বন্দুকধারীর হামলার পর নাগরিকদের মসজিদে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের কোথাও কেউ কোনো অবস্থাতেই মসজিদে যাবেন না। এদিকে, নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডন এই দিনটিকে ইতিহাসের অন্যতম কালো দিন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আরও পড়ুন- নিউজিল্যান্ড মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা, অল্পে রক্ষা মুশফিক-তামিমের

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১৫ মার্চ) স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে ক্রাইস্টচার্চের মসজিদ আল নূরে এক বন্দুকধারী হামলা চালায়। পরে জানা যায়, লিনউডের এক মসজিদেও আরেক বন্দুকধারী হামলা করেছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ হামলায় ৯ থেকে ২৭ জনের প্রাণহানি হয়েছে বলে প্রকাশিত হয়েছে।

পরে মাইক বুশ এক ব্রিফিংয়ে বলেন, এ ধরনের সহিংসতা নজিরবিহীন। আমরা একটি কঠিন সময় পার করছি। এ অবস্থায় হামলার এলাকাগুলোতে সবাইকে ঘরে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। কেউ ঘর থেকে বের হবেন না। সবাই যার যার মতো ঘরে নিরাপদে থাকবেন।

আরও পড়ুন- নিউজিল্যান্ডে ক্রিকেটাররা নিরাপদে আছেন: বিসিবি

লিনউডের মসজিদেও বন্দুকধারীর হামলা হয়েছে উল্লেখ করে পুলিশ কমিশনার বলেন, আমি দেশবাসীকে বলব, আপনারা কেউ মসজিদে যাবেন না। আমি আবারও বলছি, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের কোথাও কেউ কোনো অবস্থাতেই কোনো মসজিদে যাবেন না।

পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, আমরা আমাদের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছি। যে কেউ কোনো স্থানে কোনো ধরনের সন্দেহজনক গতিবিধি দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের অবহিত করুন।

আরও পড়ুন- লিনউডেও মসজিদে হামলা, বহু হতাহতের আশঙ্কা, সন্দেহভাজন আটক

এদিকে, নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডন বলেছেন, এখনও এ ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করে না বলতে পারলেও এটা স্পষ্ট যে এটি নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসের অন্যতম কালো একটি দিন। স্পষ্টতই, যা ঘটেছে সেটি নজিরবিহীন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ঘটনার শিকার যারা হয়েছে, তাদের মধ্যে হয়তো অনেক অভিবাসীও থাকতে পারেন, এমনকি শরণার্থীও থাকতে পারেন। তারা নিউজিল্যান্ডকে নিজেদের আবাসস্থল হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন এবং নিউজিল্যান্ডই এখন তাদের বাড়ি। তারা আমাদেরই অংশ। যারা সহিংসতার এই ঘৃণ্য অপরাধ করেছে, তারা আমাদের কেউ নয়। তাদের স্থান নিউজিল্যান্ডে হতে পারে না। এ ধরনের উগ্রপন্থা ও সহিংসতার স্থান নিউজিল্যান্ডে নেই।

আরও পড়ুন- বেঁচে গেছি, সবাই দোয়া করবেন: তামিম

জাসিন্ডা আরডন বলেন, আমি নিশ্চিত, আমার মতো নিউজিল্যান্ডের সবাইই এই হামলার শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে কাজ করছে। তারা জনগণকে ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। আমিও বলব, আমাদের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুসরণ করুন। তারা আপনাদের ভালোর জন্য কাজ করছে।

আরও পড়ুন- ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে গুলি, বেঁচে গেলেন তামিমরা

তিনি আরও বলেন, আমরা সম্ভবত একটি চলমান ঘটনার মধ্যে আছি। আমি আবারও বলব, একাধিক স্থানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ সবখানেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। ক্রাইস্টচার্চের হাসপাতালগুলোও সাধ্যমতো চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে।

সারাবাংলা/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন