বৃহস্পতিবার ২১ মার্চ, ২০১৯ ইং , ৭ চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৩ রজব, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

হঠাৎ চড়া দ্রব্যমূল্য

মার্চ ১৫, ২০১৯ | ১২:২০ অপরাহ্ণ

।। স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ।।

ঢাকা: হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে নিত্যপণ্যের দাম। বেড়েছে সবজি, পেঁয়াজ, রসুন, মাছ ও মাংসের দাম। ক্রেতারা বলছেন, দাম বেড়ে চললেও বাজার নিয়ন্ত্রণে কেউ নেই। শুক্রবার (১৫ মার্চ) সকালে রাজধানীর বসুন্ধরা, বাড্ডা ও গুলশান মাকের্ট ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মানভেদে বরবটি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি। গত সপ্তাহে যা ছিলো ১০০-১২০ টাকা। পটল ও করলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি। গত সপ্তাহে ছিলো কেজি ৬০-৭০ টাকা।

বিজ্ঞাপন

ঢেঁড়স, কচুর লতি, লাউ, শসা, শিম, ধুন্দুলের দামও বেড়েছে। ঢেঁড়স কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। গত সপ্তাহে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। কচুর লতি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকা। শসার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। শিম কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা যা গত সপ্তাহে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে পেঁপে, বেগুন, পাকা টমেটো ও গাজর আগের মতোই ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে আলুর দাম। কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা।

এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা। বাজারভেদে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। তবে আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ আগের মতোই ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় রসুন কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা, দেশি রসুন ৮০ টাকা। যা গত সপ্তাহে ছিলো ভারতীয় রসুন ১১০ টাকা ও দেশি রসুন ৭০ টাকা।

গুলশান মাকের্টে কথা হয় চাকরিজীবী শহিদুলের সঙ্গে। তিনি সারাবাংলাকে বলেন, ‘হুটহাট করেই জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়। এভাবে যদি দাম বাড়তে থাকে আমরা যাব কই? মাছ, মাংস, পেঁয়াজ, সবজি সব কিছুর দাম বাড়তি। আমাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। কিন্তু দিন শেষে আমাদের বেতন কিন্তু বাড়ছে না। সরকারের উচিত বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা।’

সবজির দাম বাড়ার বিষয়ে গুলশান মাকের্টের সবজি ব্যবসায়ী রতন বলেন, ‘পাইকারি বাজারে হঠাৎ মাল কম। জেলাগুলো থেকে মাল কম আসছে। পাইকারিরা বেশি দাম হাঁকাচ্ছে। আমাদেরও ব্যবসা করতে হয়, তাই বেশি দাম দিয়ে হলেও কিনতে হয়। ক্রেতাদের সঙ্গে বেশি দাম নিয়ে ঝগড়াও হয়। ব্যবসা করি তাই কেউ কিছু বললেও কিছু মনি করি না। তবে দাম বাড়লে কেনাবেচা কম হয়। তাই আমাদেরও ক্ষতি হয়।’

এদিকে মাছ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাছের বাজারও গরম। তেলাপিয়া মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। যা গত সপ্তাহে ছিলো ১২০-১৫০ টাকা। ৩০-৫০ টাকা বেড়ে পাঙ্গাস বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, রুই আকার ভেদে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা যা গত সপ্তাহে ছিলো ২৫০-৪০০ টাকা। এছাড়া কেজি ১০০ টাকার বেশি বেড়েছে পাবদা, টেংরা, শিং, বোয়াল ও চিতল মাছে। পাবদা ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, টেংরা কেজি ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, শিং ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা, বোয়াল ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, চিতল ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

বাড্ডা মাছ বাজারে কথা হয় ক্রেতা মফিদুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি সারাবাংলাকে বলেন, ‘মাছ কিনতে এসেছি, কিন্তু সব মাছের দাম বেশি। গত সপ্তাহে টেংরা মাছ কিনেছি ৬০০ টাকায়, এখন সেটা ৭০০ টাকা। এতো দাম বাড়লে আমরা কি করে কিনব? অন্য মাছের দামও বাড়ছে। তাই মাছ আর কেনা হলো না।’

বাড্ডার মাছ ব্যবসায়ী হুমায়ুন বলেন, ‘কাওরানবাজারে যে মাছ গত সপ্তাহে কিনেছি কেজি ৫০০ টাকা। আজ সেই একই মাছ কিনেছি ৭০০ টাকা। আমরা কি করব বলেন? এরপরও অন্যান্য খরচও আছে। সব মিলিয়ে আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আমরা কম দামে কিনলে তখন তো আর বেশি দামে বিক্রি করি না।’

মাংসের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৭০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৪৫ থেকে ১৭০ টাকা। লাল লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২১০ থেকে ২২০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৯৫ থেকে ২০৫ টাকা।

অন্যদিকে, গরুর মাংসের কেজি ৫০০-৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহে ছিলো ৫০০-৫২০ টাকা। তবে অপরির্তিত আছে খাসির মাংসের দাম। তা আগের সপ্তাহের মতই বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজিতে।’

সারাবাংলা/এসজে/এমও

হঠাৎ চড়া দ্রব্যমূল্য
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন