শনিবার ২৩ মার্চ, ২০১৯ ইং , ৯ চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৪ রজব, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

রূপগঞ্জবাসীর স্বপ্নের উড়ালসেতু উদ্বোধন আজ

মার্চ ১৬, ২০১৯ | ৫:২২ পূর্বাহ্ণ

।। ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট ।।

নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে  এশিয়ান হাইওয়ের ভুলতা অংশে নির্মিত ফ্লাইওভারটি শনিবার (১৬ মার্চ) উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর (বীর প্রতীক) আন্তরিক প্রচেষ্টায় নির্মিত হয়েছে রূপগঞ্জের এই ভুলতা উড়ালসেতু।

৩৫৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে এই ফ্লাইওভার। চার লেনের তিনি তলার এই ভুলতা ফ্লাইওভার ছিল সরকারের একটি মেগাপ্রকল্প। স্থানীয়রা বলছেন, ‘এটি চালু হলে এলাকার যানজট দূর হবে। কমবে সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও।’

আরও পড়ুন: রূপগঞ্জবাসীর স্বপ্নপূরণ, কাল উদ্বোধন হচ্ছে ভুলতা ফ্লাইওভার

রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা এলাকায় রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম পাইকারি কাপড়ের বাজার ‘গাউছিয়া মার্কেট’। এছাড়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ের সংযোগস্থল হওয়ায় এখানে যানজট ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। ভুলতা ফ্লাইওভারের একপাশ খুলে দেওয়া হলে এখানে যানজট কমে যাবে। এতে সারা দেশের সঙ্গে এ উপজেলার যাতায়াতে গতি বাড়বে, এমনটাই মনে করছেন এলাকাবাসী।

পরিবহন শ্রমিকরা জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতা এলাকায় এক ঘণ্টার পথ যেতে সময় লাগে তিন ঘণ্টা। ভুলতা ফ্লাইওভারের কাঞ্চন-মদনপুর লেনের উদ্বোধন হলে যানজট অনেকাংশে কমে যাবে। পাশাপাশি বন্দর নগরী চট্টগ্রামসহ দেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চল থেকে ঢাকা হয়ে ময়মনসিংহসহ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে যাতায়াত-পণ্য পরিবহন দ্রুত, সহজ ও নিরাপদ হবে।

যানজট নিরসনে, ও ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আনতে স্থানীয় সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজীর উদ্যোগে ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে ভুলতা ফ্লাইওভারটি নির্মাণে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। প্রথমে ২৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪ লেনের এই ফ্লাইওভারে কাজ শুরু হয়। বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে এর নির্মাণের কাজ পেয়েছিল চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ২৪ ব্যুরো গ্রুপ কোং, স্পেক্ট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড ও এএম বিল্ডার্স।

চার লেন বিশিষ্ট ফ্লাইওভারের দৈর্ঘ্য ১.২৩৮ কিলোমিটার। মূল ফ্লাইওভারের নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১২০ কোটি টাকা, সড়ক নির্মাণ ব্যয় ১১২ কোটি টাকা এবং অন্যান্য ব্যয় ধরা হয় সাড়ে ৭ কোটি টাকা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারায় প্রকল্পটির মেয়াদ ১ বছর বাড়ানো হয়। একই সঙ্গে গত বছরের ৮ আগস্ট ফ্লাইওভারটি নির্মাণে আরও ৫৮ কোটি ৫১ লাখ ২০ হাজার ৪৮৬ টাকা বাড়ায় মন্ত্রিসভা কমিটি।

চুক্তি স্বাক্ষরের চার বছরের মধ্যেই ভুলতা ফ্লাইওভার বাস্তব রূপ পায়। এখন এটি পুরোপুরি প্রস্তুত। শনিবার  ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই ফ্লাইওভারের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একইসঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর নব নির্মিত দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতুও উদ্বোধন করবেন তিনি। উদ্বোধনের পরই ভুলতা ফ্লাইওভার ও দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

জাপান উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে কাঁচপুর দ্বিতীয় সেতু, মেঘনা দ্বিতীয় সেতু ও গোমতী দ্বিতীয় সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতর। বিদ্যমান সেতুগুলোকে সংস্কারের জন্য তিন সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসা হয়।

কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতী দ্বিতীয় সেতু নির্মাণ এবং বিদ্যমান সেতু পুনর্বাসন প্রকল্পের পরিচালক আবু সালেহ মো. নুরুজ্জামান জানান, চার লেনের কাঁচপুর দ্বিতীয় সেতুটির ভিত্তি কংক্রিটের ঢালাইয়ের। পাঁচটি পিলারের ওপর ছয়টি স্প্যানে নির্মিত সেতুটি স্টিল গার্ডারের। ১০০ বছরের স্থায়িত্বে নির্মিত সেতুটির প্রধান ঠিকাদার যৌথভাবে জাপানি চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওবায়শি, শিমিজু, জেএফআই ও আইএইচআই।

তিনি আরও জানান, সেতুর উপ-ঠিকাদার বাংলাদেশের মীর আকতার হোসেন গ্রুপ। মূল সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণে ব্যয় হয় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। ব্যয়ের ৭৫ ভাগের যোগান দেয় জাইকা। ২৫ ভাগ অর্থ ব্যয় করে বাংলাদেশ সরকার। এ সেতু চালু হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর অংশ যানজটমুক্ত হবে।

এছাড়া আগামী জুনের আগেই দ্বিতীয় মেঘনা ও গোমতী সেতু দু’টি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। দ্বিতীয় মেঘনা সেতুর ৮৫ ভাগ, দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতী সেতুর কাজ ৮৪ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।

রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি, গবেষক মীর আব্দুল আলীম বলেন, ‘ভুলতা ফ্লাইওভারটি রূপগঞ্জবাসীর স্বপ্নের ফ্লাইওভার। এটি চালুর অপেক্ষায় রয়েছে সবাই। আশা করি এরপর থেকে যানজট মুক্ত থাকবে ভুলতা এলাকা।’

রূপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী বলেন, ‘স্থানীয় সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজীর প্রচেষ্টায় মানুষের ভোগান্তি লাঘবে ভুলতা ফ্লাইওভারটি হয়েছে। এটি উন্মুক্ত হলে আশেপাশের মানুষসহ কয়েকটি জেলার মানুষের ভোগান্তি কমে আসবে।’

রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌসী আলম নীলা বলেন, ‘রূপগঞ্জের উন্নয়নে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর অবদান মানুষ ভুলবে না। ভুলতা ফ্লাইওভারটি উদ্বোধন হলে গাউছিয়াতে যে যানজট হয় সেটাও নিরসন হবে। গুরুত্বপূর্ণ এই ফ্লাইওভারটির উদ্বোধন হলে মহাসড়কে যানবাহন নিরবচ্ছিন্নভাবে চলাচল করতে পারবে। তখন সারা দেশের মানুষ তার সুফল ভোগ করবে।’

সারাবাংলা/এমও/এমএইচ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন