বৃহস্পতিবার ২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ইং , ১২ বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ শাবান, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

বিএসএমএমইউ চিকিৎসকের মৃত্যু, হত্যার অভিযোগ স্বজন-সহকর্মীদের

মার্চ ১৭, ২০১৯ | ৪:৩২ অপরাহ্ণ

।। স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট ।।

ঢাকা: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রাজন কর্মকারের রহস্যময় মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ডা. রাজনের। তবে তার স্বজন ও সহকর্মীরা অভিযোগ করছেন, তার মৃত্যু স্বাভাবিক নয়।

শনিবার (১৬ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে স্কয়ার হাসপাতালে ডা. রাজনের মৃত্যু হয়। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল ইউনিটের অষ্টম ব্যাচের (৩৯তম এমবিবিএস) শিক্ষার্থী ছিলেন। ডা. রাজন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের বড় মেয়ে ডা. কৃষ্ণা কাবেরীর স্বামী। ডা. কৃষ্ণা নিজেও বিএসএমএমইউয়ের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।

বিজ্ঞাপন

স্ত্রী ডা. কৃষ্ণা কাবেরীর সঙ্গে ডা. রাজন (ছবি: ফেসবুক থেকে)

ডা. রাজনের মৃত্যুর খবরে রোববার (১৭ মার্চ) সকাল থেকেই স্কয়ার হাসপাতালে ভিড় করতে থাকেন তার সহকর্মী ও স্বজনরা। দুপুরে রাজন কর্মকারের মামা সুজন কর্মকার সেখানে বলেন, গতকাল (শনিবার) রাত আড়াইটার দিকে রাজনের স্ত্রী কৃষ্ণা আমার বোনকে (রাজনের মা) ফোন দিয়ে জানায়, রাজন মারা গেছে। এসময় কৃষ্ণা অস্বাভাবিক কথাবার্তা বলে। সে বলে, আপনার ছেলে মারা গেছে। উল্টাপাল্টা কিছু করলে সেও আত্মহত্যা করবে। ডা. রাজনকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন সুজন কর্মকার।

সুজন কর্মকার আরও বলেন, আমাকে আমার বোন (রাজনের মা) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ফোন করে কাঁদতে কাঁদতে বলে, রাজন মারা গেছে। আমি তখনই হাসপাতালে ছুটে আসি।

স্কয়ার হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন ডা. রাজনের মামা সুজন কর্মকার

ডা. রাজনের একাধিক সহকর্মী সারাবাংলাকে বলেন, তার এই মৃত্যু কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। কারণ, এর আগেও রাজনের স্ত্রীর পরিবারের লোকজন তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। ওই সময় তাকে আইসিইউতেও ভর্তি করাতে হয়েছিল।

এদিকে, রাজনের সহকর্মী বিএসএমএমইউ নিউরোলোজি বিভাগের চিকিৎসক শাহ নেওয়াজ বারী জানান, আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। কারণ এর আগেও রাজনকে নির্যাতন করা হয়েছে।

বিএসএমএমইউয়ে রাজনের বিভাগেরই চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. কাজী বিল্লুর রহমান বলেন, নিহত রাজনের পরিবারের লোকজন তার মরদেহের ময়নাতদন্ত চায়। সেক্ষেত্র কারও কোনো আপত্তি নেই। আমি মন্ত্রী মহোদয়ের (খাদ্যমন্ত্রী) সঙ্গে কথা বলেছি, ময়নাতদন্তে তাদের কোনো আপত্তি নেই।

তিনি আরও বলেন, বিএসএমএমইউয়ের চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা এখানে এসেছে। সবার দাবি, ঘটনার একটি সুষ্ঠু তদন্ত হোক।

ডেন্টাল সোসাইটির মহাসচিব ও ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবির বুলবুল বলেন, আমরা রাজনের মৃত্যুর ঘটনাকে স্বাভাবিক মনে করছি না। খবর পেয়ে আমরা রাতেই স্কয়ার হাসপাতালে আসি। এসে পেছনের ঘটনাপ্রবাহ জানার পর বুঝেছি, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। আমরা মামলা করব। ময়নাতদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করছি।

রাজনকে হত্যা করা হয়েছে বলে কেন মনে করছেন— জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বুলবুল বলেন, নামকরা ছাত্র ছিল সে। তার কোনো অসুস্থতা ছিল না। মৃত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। পারিবারিক কলহও ছিল। এর আগেও নির্যাতনের শিকার হয়ে পপুলার, সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বঙ্গবন্ধু হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিল রাজন। তাই তার মৃত্যুকে স্বাভাবিক মনে করার কারণ নেই।

ডা. রাজনের মরদেহের ময়নাতদন্তে স্বাভাবিক মৃত্যু পেলে কিছু বলার থাকবে না বরেও জানান হুমায়ুন কবির বুলবুল। তিনি বলেন, তবে কেউ তদন্ত প্রভাবিত করলে চাইলে আমরা ছাড় দেবো না। আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব।

এদিকে, ডা. রাজনের মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। তবে রাজনের সহকর্মীরা জানিয়েছেন, মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে। তারা এ ঘটনায় মামলা দায়ের করবেন। রাজনের মামা সুজন কর্মকারসহ সহকর্মী চিকিৎসকরা শেরে বাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করতে যাচ্ছেন বলে জানান।

স্কয়ার হাসপাতালে ডা. রাজনের সহকর্মীদের ক্ষোভ

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শেরে বাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানে আলম দুপুরে সারাবাংলাকে বলেন, এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেনি। রোববার দুপুরে মন্ত্রীর (খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার) লোকজন হাসপাতালে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটি হয়। এক পর্যায়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থানায় ফোন করলে বিষয়টি জানতে পারি। পুলিশের একটি টিম হাসপাতালে সুরতহাল রিপোর্ট করছে। হত্যার কোনো আলামত পেলে আমরা সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।

ওসি জানান, মৃতের পরিবার যদি তার মরদেহের ময়নাতদন্ত করতে চায়, তাহলে অবশ্যেই ময়নাতদন্ত করা হবে। মামলা করতে চাইলে মামলাও নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে বাদী বা বিবাদীর পরিচয় দেখার বিষয় নয়।

সারাবাংলা/জেএ/ইউজে/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন