বৃহস্পতিবার ২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ইং , ১২ বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ শাবান, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

‘সবাই মিলে একসাথে বড় হতে হয়’

মার্চ ২০, ২০১৯ | ৪:৫৫ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশেও নারীর ক্ষমতায়ন চোখে পড়ার মত। বিশেষ করে অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ- অন্য যেকোন উন্নয়নশীল দেশের চেয়ে এগিয়ে আছে। অনলাইন এখন যেকোন কাজের জন্য সবচেয়ে দ্রুতগামী ও কার্যকরী মাধ্যম। এদেশের অনেক নারী অনলাইনকে কেন্দ্র করে ব্যবসা করছেন, রীতিমত সফলতার সাথে। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে সারাবাংলা এরকম কয়েকজন নারীকে আড্ডা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল, যারা অনলাইন প্লাটফর্মে নিজেদের সৃষ্টিশীলতাকে কাজে লাগিয়ে রীতিমত সফল উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন। এদেরই একজন শাহনাজ সুলতানা।

শাহনাজ সুলতানা, প্রতিষ্ঠাতা, রংধনু ক্রিয়েশন

শাহনাজ সুলতানার জন্ম ও বেড়ে ওঠা খুলনায়। লন্ডন থেকে বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন এবং ইংলিশ ল্যাংগুয়েজের উপর ডিপ্লোমা করে দেশে এসে কাজ করেন বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। কিন্তু গর্ভধারণের পর চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। একমাত্র মেয়ের জন্মের পর শুরু করেন আঁকাআঁকি। না, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শেখা হয়নি কখনও। শখ এবং আগ্রহ থেকেই আঁকতেন।

কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ না থাকলে কি হবে, মানুষের ইচ্ছাশক্তির সামনে কোন বাঁধাই বাঁধা না। শাহনাজও তাই অনলাইন মাধ্যম ইউটিউবে ভিডিও টিউটোরিয়াল দেখে আঁকার প্রশিক্ষণ নেন ঘরে বসেই। শাহনাজ বলেন, ‘শেখার জায়গা আসলে সীমাবদ্ধ না। আজ যে অনলাইনে ব্যবসা করছি সেই অনলাইনই ছিল আমার জন্য শেখার মাধ্যম।’

বিজ্ঞাপন

ভালো কিছু করলে তা আড়ালে পড়ে থাকেনা। তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত শাহনাজ সুলতানা। তাঁর চমৎকার পেইন্টিং দেখে বন্ধুরা উৎসাহ দিতে থাকেন পেইন্টিং নিয়ে এগিয়ে যেতে। তাদেরই উৎসাহে শুরু করেন পোশাকে পেইন্টিংয়ের কাজ।

রংধনু ক্রিয়েশনের কিছু পণ্য

এভাবেই ২০১৪ সালে রঙধনু ক্রিয়েশনের মাধ্যমে অফিসিয়ালি কাজ শুরু করেন তিনি। শুরুর দিকে বন্ধুরাই পোশাক কিনে উৎসাহ দিতেন। এরপর ধীরে ধীরে অনুরাগী ও গ্রাহক দুইই বাড়তে থাকে। সাহায্য পান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনপ্রিয় সংগঠন মেয়ে নেটওয়ার্ক থেকেও। শাহনাজ বলেন, গ্রুপটিতে নিজ নিজ ক্ষেত্রে শক্তিশালী অনেক নারীদের দেখে অনুপ্রাণিত হন তিনি। খুলনার মত ছোট শহরে বেড়ে ওঠার সময় বা বিদেশে পড়াশোনা করার সময়েও যাদের দেখার সুযোগ হয়নি তার।
তিনি বলেন, তাদের দেখে বুঝেছি মানুষ নিত্য নতুন আইডিয়া পছন্দ করে। তাদের সামনে সুন্দর করে গুছিয়ে সেসব আইডিয়া তুলে ধরলে তারা লুফে নেয়।

এভাবেই হ্যান্ড পেইন্টের কাজ দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে নানারকম অলঙ্কার বানানো শুরু করেন তিনি। মূলত পুঁতি দিয়ে বানান এসব গয়না। নিজস্ব ডিজাইনে নিজের হাতেই বানান এসব গহনা। একেকটা মালা বানাতে তার বিশ থেকে বাইশ ঘন্টা সময় লাগে বলে জানান শাহনাজ।

শুরুর দিকে পোশাকের জন্য রং, গহনার জন্য পুঁতি, সুতা ইত্যাদি নানারকম কাঁচামাল কেনা থেকে শুরু করে সরবরাহ সব কাজ একাই করতেন তিনি। এখন তার প্রায় দশজনের টিম।

শাহনাজ সুলতানার হাতে প্রতিকৃতি তুলে দিচ্ছেন সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা ও মাহমুদ মেনন খান

এখানে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রেও তিনি সচেতনতার পরিচয় দিয়েছেন। বেছে নিয়েছেন মেয়ের সহপাঠির মায়েদের। মেয়েকে স্কুলে আনা-নেওয়া করতে করতেই তিনি দেখেন অনেক অভিভাবক বাচ্চাকে স্কুলে দিয়ে স্কুলের সামনে গল্পগুজব করে সময় কাটান। সবাই উচ্চ শিক্ষিত কিন্তু সন্তান বা সংসারের জন্য কেরিয়ার বিসর্জন দিতে বাধ্য হয়েছেন। শাহনাজ এমন অভিভাবকদেরকেই নিজের সহকর্মী হিসেবে বাছাই করেছেন।

তিনি বলেন, সেসব অভিভাবক এখন স্কুলের সামনে বসে গল্প করে না কাটিয়ে কাজ করে। অনেকে বাসাতেও নিয়ে যায় কাজ। সময়টা এভাবে কাজে লাগাতে পেরে সবাই যথেষ্ট খুশি।

শাহনাজ জানান, তাদের দেখলে ভেতরে আরও শক্তি পান তিনি। তিনি যে দশজনকে সাথে নিয়ে কিছু করতে পারছেন, এগিয়ে যেতে পারছেন, এই অনুভূতি তার ভেতর অন্যরকম একটা শক্তি জাগায়। খুব ভালো বোধ করেন তিনি। ব্যাবসা বাড়লে আরও অনেককে যুক্ত করার ইচ্ছার কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি একসাথে বড় হতে হয়, একা একা বড় হওয়া যায় না।’

শাহনাজ বলেন, ‘চেষ্টা করে যাচ্ছি কিছু করার। জানিনা কতটুকু করতে পারছি জানিনা। সবার সহযোগিতা এবং শুভকামনা থাকলে আরও এগিয়ে যেতে পারবো আশা রাখি।’

 

সারাবাংলা/আরএফ/এসএস/টিসি

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন