বৃহস্পতিবার ২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ইং , ১২ বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ শাবান, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

মেয়রের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত

মার্চ ২০, ২০১৯ | ৬:১৯ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠকের পর বাসের চাপায় সহপাঠীর মৃত্যুর ঘটনার জের ধরে নিরাপদ সড়কের আন্দোলনে নামা শিক্ষার্থীরা ২৮ মার্চ পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করেছেন। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) এই শিক্ষার্থীরা বলছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়া হবে— মেয়রের এমন আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতেই তারা আন্দোলন স্থগিত করেন।

বুধবার (২০ মার্চ) দুপুর ২টা থেকে বিকেল প্রায় ৫টা পর্যন্ত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নগর ভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের পর প্রতিনিধি দলে থাকা বিইউপি শিক্ষার্থী ফয়সাল এনায়েত সাংবাদিকদের বলেন, আমরা শিক্ষার্থী, উপাচার্যসহ ডিএমপি কমিশনার ও মেয়রের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেছি। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আটটি দাবির মধ্যে তিনটি দাবির কথা পুনরায় তুলে ধরছি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন- মেয়রের সঙ্গে বৈঠক, ২৮ মার্চ পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত

ফয়সাল বলেন, এর মধ্যে যে মামলা হয়েছে, সেই মামলার চার্জশিট যত দ্রুতসম্ভব দিতে হবে, সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে এ চার্জশিট দিতে হবে। জবাবে কমিশনার বলেছেন, তার আগেই যদি সম্ভব হয়, তাহলে আগেই দেওয়া হবে। চালকের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে হবে।

বিইউপি’র এই শিক্ষার্থী প্রতিনিধি আরও বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনের সড়কগুলোতে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্টরা কী পরিকল্পনা নিলেন, তা আগামী সাত দিনের মধ্যে ঠিক করতে হবে। সুপ্রভাত পরিবহনের যে বাসটির রুট পারমিট বাতিল করা হয়েছে, তা স্থায়ী কার্যকর করতে হবে।

বৈঠকে এক সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষার্থদের দাবি-দাওয়া মানার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে জানিয়ে ফয়সাল এনায়েত বলেন, আগামী বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) সকাল ১১টায় আমরা সবাই আবারও মেয়রের সঙ্গে বৈঠকে বসব। গৃহীত দাবিগুলো কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে, সেটা নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হবে। সেখানে গৃহীত পদক্ষেপগুলো শুনে আমরা সন্তুষ্ট (স্যাটিসফায়েড) না হলে সারাদেশের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা আবারও রাজপথে নামব। এর মধ্যে আন্দোলনে না নেমে ২৮ মার্চের বৈঠকের পর করণীয় ঠিক করা হবে বলে জানান তিনি।

বিউইপির শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবে বৈঠকে উপস্থিত ফয়সাল আরও বলেন, একটি স্টুডেন্ট কাউন্সিল গঠন করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এই কাউন্সিলের সদস্য সংখ্যা কত হবে, সেটা শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হলো, স্টুডেন্ট কাউন্সিল তা পর্যবেক্ষণ করবে।

বৈঠকের পর ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, একজন চালকের হাতে একজন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হবে— এটা কারও কাম্য নয়। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী সেখানে (বসুন্ধরা গেট) একটি ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা সেই অনুযায়ী এরই মধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছি। সুপ্রভাত ও জাবালে নূর বাস যেন ঢাকায় চলতে না পারে, সেজন্য ডিএমপি, বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

মেয়র বলেন, শিক্ষার্থীদের সবগুলো দাবিই যৌক্তিক। সেই দাবি অনুযায়ী, উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত এলাকায় যেসব জায়গায় জেব্রা ক্রসিং ও ফুটওভারব্রিজ নেই, আগামী সাত দিনের মধ্যে সেগুলো চিহ্নিত করে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করা হবে। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এসব জেব্রা ক্রসিং ও ফুটওভারব্রিজ বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা হবে।

আতিকুল ইসলাম আরও বলেন, ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সারাবাংলা/ইউজে/এসজে/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন