বৃহস্পতিবার ২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ইং , ১২ বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ শাবান, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

উচ্ছেদ চলছে, হচ্ছে দখলও

মার্চ ২১, ২০১৯ | ৬:০২ অপরাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: গাবতলী সেতু থেকে নদীর তীর ধরে উত্তরে এগিয়ে গেলে বড়বাজার। নগর ঢাকার শেষ সীমানাও বলা যায় জায়গাটিকে। এখানেই বুড়িগঙ্গা এসে নাম বদলে হয়ে গেছে তুরাগ। এই এলাকায় জানুয়ারি মাস থেকে অবৈধ বসতি উচ্ছেদে অভিযান চালাচ্ছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

আরও পড়ুন- ‘নদীরক্ষায় আমাদের কিছুটা নির্দয় হতে হবে’

দু’দিন আগেই বড়বাজারের সবগুলো দোকান গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। ভেঙে দেওয়া হয়েছে ইটের দালানগুলোও। তবে বাজার ভেঙে দিলেও বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) সকাল থেকে আবারও সেখানে বাজার-সদাই নিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। আমিনবাজার, হেমায়েতপুর কিংবা আশুলিয়া থেকেও পণ্য কিনতে এ বাজারে এসে ভিড় করেছেন ক্রেতারা। ফলে বিধ্বস্ত হলেও এই বাজারে আগের মতোই চলছে বেচাকেনা।

বিজ্ঞাপন


এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএ’র যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন বলেন, ‘বড়বাজারে বেচাকেনার খবর আমরা শুনেছি। সেটা ওরা করছে ভেঙে দেওয়া দোকানপাটে বসে। নতুন করে কেউ আর কোনো স্থাপনা নির্মাণ করছে না নদীর ভেতর। এজন্য ব্যাপারটি নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু দেখছি না।’

এদিকে, সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নতুন করে কাপড়ের ছাউনি দিয়ে বড়বাজারে দোকান খুলেছেন অনেকেই। যেখানে বিক্রি হচ্ছে মাছ-ডালসহ নানা রকমের নিত্যপণ্য। দোকানি আরিফ জানান, মিরপুরের প্রান্তসীমার এই বাজারটির ওপর এই এলাকার সব মানুষ নির্ভর করে রয়েছে। ফলে উচ্ছেদের পরও দোকান খুলতে বাধ্য হয়েছেন তারা। একই কথা বলেছেন মাছ ব্যবসায়ী জালালও।

তবে এই বাজারের অনেক মানুষই বিআইডব্লিউটিএ’র এই উচ্ছেদ অভিযানকে স্বাগতও জানিয়েছেন।

তুরাগ ও বুড়িগঙ্গা নদীর দুই তীরকে দখলমুক্ত করতে জানুয়ারি মাসের ২৯ তারিখ থেকে শুরু হয়েছে উচ্ছেদ অভিযান। দ্বিতীয় ধাপের নবম দিনে পর্যন্ত মিরপুর গাবতলী সেতু থেকে দিয়াবাড়ি জোহরাবাদ পর্যন্ত নদী তীরের অবৈধ স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিআইডাব্লিউটিএ। নদী খরস্রোতা করে তুলতে মার্চের ২৮ তারিখ পর্যন্ত চলবে এই অভিযান।

এর আগে, গত ২৮ জানুয়ারি নদী দখল ও উচ্ছেদ নিয়ে ‘কানামাছি খেলা’ হচ্ছে মন্তব্য করে হাইকোর্ট এ খেলা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। নদী দখল নিয়ে একটি রিট মামলার রায় ঘোষণার মধ্যে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চ পর্যবেক্ষণটি দিয়েছিলেন। তুরাগ নদের অবৈধ স্থাপনা দখলমুক্ত করার নির্দেশনা চেয়ে করা ওই রিট মামলার রায় ঘোষণাও হয়েছিল সেদিন। ওই দিন আদালত অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে রক্ষা করতে তুরাগ নদকে ‘লিগ্যাল পারসন’ বা ‘জীবন্ত সত্তা’ ঘোষণা করেন।

সারাবাংলা/টিএস/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন