বৃহস্পতিবার ২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ইং , ১২ বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ শাবান, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

নেইমারহীন ব্রাজিলকে রুখে দিল পানামা

মার্চ ২৪, ২০১৯ | ৩:০৬ পূর্বাহ্ণ

স্পোর্টস ডেস্ক

কোপা আমেরিকার প্রস্তুতি ভালোই চলছিল ব্রাজিলের। টানা ছয়টি জয় পেয়ে বেশ উৎফুল্লই ছিলেন কোচ তিতে। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের ৭৬তম দল পানামাকে দুর্বল প্রতিপক্ষ ভেবেই হয়তো কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে চেয়েছিলেন এই ম্যাচে। দলের সেরা তারকা নেইমারকে খেলাননি। ম্যাচে ৭৮ ভাগ বল নিয়ন্ত্রণে রেখেও স্কোরবোর্ডের দিকে তাকিয়ে হয়তো চিন্তার ভাঁজ পড়বে তিতের কপালে।

ম্যাচের শুরুতেই পানামাকে চাপে রাখার কৌশল নেয় ব্রাজিল। ৪-৩-৩ ফরমেশনে খেলা ব্রাজিল প্রবল চাপ সৃষ্টি করে ৫-৪-১ ফরমেশনে খেলা পানামার মাঝমাঠ ও রক্ষণভাগে। তবে প্রথমার্ধে ১-১ গোলের সমতা নিয়েই বিরতিতে যেতে হয় ব্রাজিলকে। এই স্কোরলাইন যে ম্যাচের চুড়ান্ত ফল হবে তা হয়তো খেলা দেখে কেউই ভাবেননি। কেননা গোল করার চেষ্টার কোনো কমতি দেখা যায়নি সেলসাওদের খেলায়।

ম্যাচের ১৮ মিনিটে ব্রাজিল প্রথম সুযোগ পায়। মিডফিল্ডার কৌতিনহোর ক্রসে ফিরমিনো দুর্দান্ত হেড করলেও অল্পের জন্য বল জালে জড়ায়নি। ম্যাচের ২৬ মিনিটে ফিরমিনোকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন পানামার কামিন্স। আর ৩২ মিনিটে লিড নেয় ব্রাজিল। ডি-বক্সের বাইরে থেকে লিভারপুল তারকা ফিরমিনো বল পাঠান পানামার গোলপোস্টের বাঁ পাশে। লাফিয়ে উঠে বাতাসেই বাম পা লাগিয়ে বলের গন্তব্য পানামার গোলপোস্টমুখী করেন লুকাস পাকুয়েতা। পানামার গোলকিপার মেইজা ডানে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলে হাত লাগিয়েছিলেন বটে, তবে কোনো ফল হয়নি। পাকুয়েতা পেলেন জাতীয় দলের হয়ে প্রথম গোল। এসি মিলানে খেলা মাত্র ২১ বছর বয়সী পাকুয়েতা যেনো মান রাখলেন ১০ নম্বর জার্সির। নেইমারের অবর্তমানে সম্মাজনক ১০ নম্বর জার্সি পরেছিলেন তিনিই। মাঠে খেলা দেখতে উপস্থিত ছিলেন নেইমার। গোলটি দেখে তিনিও মুগ্ধ হন। টিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে বেশ হাসছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

প্রথমার্ধে ব্রাজিলের দাপট এ পর্যন্তই। কারণ গোলের এক মিনিট পরই ফরয়োর্ড রিচার্লিসন ফাউল করে বসেন। দেখেন হলুদ কার্ড। কিন্ত এতটুকুতেই শেষ হয়নি ব্রাজিলের দুর্ভোগ। সেটপিসে ডেভিসের বুদ্ধিদিপ্ত শট। ডি-বক্সের ঠিক সামনে বল পাঠালেন তিনি। তাতে মাথা লাগিয়ে আদোলফো মাচাদো বল পাঠালেন ব্রাজিলের জালে। ব্রাজিলের ডিফেন্ডাররা হয়তো মাচাদোকে অফসাইডের ফাঁদে ফেলতেই একটু সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্ত সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন বুদ্ধিমান মাচাদো। ম্যানচেস্টার সিটির তারকা গোলকিপার এডারসনের মাথার উপর দিয়ে বল জড়ালেন জালে। এডারসন লাফিয়েও বলের নাগাল পাননি। গোলটি বাতিল করতে অফসাইডের আবেদন করেছিলেন এডারসনরা। তবে রেফারি বৈধ বলেই ঘোষণা দেন গোলটিকে।

দ্বিতীয়ার্ধে কোনো গোল না হলেও ম্যাচে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। দুদলই একাধিকবার ক্রসবার কাঁপালেও বল জালে পাঠাতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্রাজিল আক্রমণ করে পানামাকে। পানামাও ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে চাপে ফেলে কয়েকবার। ম্যাচের ৫১ মিনিটে রিচার্লিসনের দারুন শট শুধু চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করতে পারেনি পানামার রক্ষণভাগ। কিন্ত তাতে কোনো ক্ষতি হয়নি তাদের। বল ক্রসবার কাঁপালেও জালে জড়ায়নি। ম্যাচের ৬৪ মিনিটে পানামার কামিন্সেরও হেড ব্রাজিলের ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।

এর আগে ম্যাচের ৬০ মিনিটে দুইদফা পরিবর্তন আনেন ব্রাজিলের কোচ তিতে। এভারটন ও গেব্রিয়েল জেসুসকে মাঠে নামিয়ে তুলে নেন পাকুয়েতা ও ফিরমিনোকে। ব্রাজিল ধার বাড়ায় আক্রমণে। হলুদ জার্সিধারিদের পা থেকে বল কেড়ে নিতেই বেগ পেতে হয় পানামার খেলোয়াড়দের। এসময় ব্রাজিলের দুর্দান্ত কিছু আক্রমণ বিফলে যায় পানামা গোলরক্ষক মেজিয়ার চমৎকার নৈপুন্যে। ম্যাচের ৭১ মিনিটে আবারও ব্রাজিলের ক্যাসিমিরোর হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ৭৩ মিনিটে কিছুটা হতাশ দেখা যায় তিতেকে। আর্থারকে মাঠে নামিয়ে তুলে নেন এন্ডারসনকে। ৭৪ মিনিটে অযথা সময় নষ্ট করার দায়ে হলুদ কার্ড দেখেন পানামা গোলরক্ষক মেজিয়া। ঠিক সেসময় পানামার কোচ তার দলের প্রথম পরিবর্তন আনেন। ফাজারদোকে মাঠে নামিয়ে তুলে নেন তোরেসকে।

শেষ আধাঘণ্টা গোল পেতে মরিয়া ব্রাজিল একেরপর এক আক্রমণ চালায় পানামার রক্ষণভাগে। কিন্ত শেষ পর্যন্ত পানামার রক্ষণদুর্গে কোনো ফাটল ধরাতে পারেননি সেলসাওরা। ৭০ মিনিট পর পানামা একাধিক পরিবর্তন আনে মাঠে। তাতে রক্ষনভাগের শক্তি বাড়ানোর কৌশল স্পষ্ট। ফলও পেয়েছে পানামা। সেলসাওদের আক্রমণ নিষ্কৃয় হয়েছে পানামার প্রবল বাঁধায়। শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলে ড্র ফলাফলেই ম্যাচ শেষ হয়।

সারাবাংলা/আইই

নেইমারহীন ব্রাজিলকে রুখে দিল পানামা
বিজ্ঞাপন

Tags: ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন