বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই, ২০১৯ ইং , ৩ শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৪ জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যার কথা আন্তর্জাতিক ফোরামে তুলে ধরবে জাতিসংঘ

মার্চ ২৪, ২০১৯ | ১০:৫৯ অপরাহ্ণ

সারাবাংলা ডেস্ক

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানের চালানো গণহত্যার বিষয়টি আন্তর্জাতিক ফোরামে তুলে ধরবে জাতিসংঘ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ কথা জানিয়েছেন জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রিভেনশন অব জেনোসাইড বিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা অ্যাডামা ডিয়েং।

তিনি বলেন, ‘যদিও কিছু কিছু দেশ এর বিরোধিতা করবে, তবু আমরা মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশে চালানো পাকিস্তানের গণহত্যার বিষয়টি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে উত্থাপন করব।’

রোববার (২৪ মার্চ) সকালে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ডিয়েং। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ এ দেশে যে গণহত্যা শুরু করে তা স্মরণ করে বলেন, ‘পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী এবং তাদের এ দেশীয় দোসররা প্রায় ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করে। তারা দুই লাখ মা-বোনকে ধর্ষণ ও নির্যাতন করে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এসব নারীদের পুনর্বাসিত করেন।

বিজ্ঞাপন

প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়েও আলাপ করেন। এসময় অ্যাডামা ডিয়েং রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো মিয়ানমারের বর্বরতাকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করে এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রতি জাতিসংঘের দৃঢ় সহযোগিতার কথা পুনরুল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘গণহত্যা চালানো সেইসব নৃশসংতাকারীদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারের নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে নিতে দেশটির ওপর চাপ জোরদারের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান একা করতে পারবে না। তাই এই সমস্যার সমাধানে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে চাপ আরও বাড়াতে হবে।’

জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ১০ লাখেরও বেশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করেন। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আশ্রয় গ্রহণকারী রোহিঙ্গারা সংখ্যায় কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণকেও ছাড়িয়ে গেছে। যে কারণে স্থানীয় জনগণকে খুবই ভোগান্তির স্বীকার হতে হচ্ছে।’ রোহিঙ্গাদের কল্যাণে তার সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরে ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের পরিকল্পনার কথা জানান।

এছাড়া সাক্ষাতে ডিয়েং জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, নারীর ক্ষমতায়ন, জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে অগ্রগতি প্রভৃতি বিষয়েও বাংলাদেশের প্রশংসা করেন।

সেইভ অ্যান্ড সার্ভ ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা সৈয়দ নজিবুল বাশার মাইজভান্ডারী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান এবং সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন এ সময় উপস্থিত ছিলেন। বাসস।

সারাবাংলা/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন