শনিবার ২৫ মে, ২০১৯ ইং , ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯ রমজান, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

‘নারী হিসেবে চ্যালেঞ্জ দেখি না, সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই’

মার্চ ৩১, ২০১৯ | ৬:৩৫ অপরাহ্ণ

সৈকত ভৌমিক, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তাকে দেখে আমরা অনুপ্রেরণা পাই, গর্ববোধ করি। বাংলাদেশের প্রথম নারী শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে আমি কোনো চ্যালেঞ্জ দেখি না। আমি দায়িত্ব নিতে ভালোবাসি এবং দেশের জন্য দায়িত্ব পালন করতে ভালোবাসি। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ, তিনি আমাকে এ সুযোগ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী আমার ওপর যে আস্থা রেখেছেন, সবাইকে নিয়ে কাজ করার মাধ্যমে তার মর্যাদা রক্ষা করার সর্বাত্মক চেষ্টা করব।

কথাগুলো বলছিলেন দেশের প্রথম নারী শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বপ্রাপ্ত ডা. দীপু মনি। এর আগে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর চমকে ঠাসা মন্ত্রিসভায় এবার দীপু মনি পান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। এর পরপরই এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ছিল তার সামনে। গত কয়েক বছর ধরে এই পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে আসছিল। তবে এবারে এমন কোনো ঘটনা না ঘটায় বিতর্কিত হতে হয়নি এসএসসি ও সমমান পরীক্ষাকে।  আগামীকাল এইচএসসি পরীক্ষাতেও সে ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ রয়েছে তার মন্ত্রণালয়ের সামনে। কেবল প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানো হয়, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় আরও যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেসব নিয়েই শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছে সারাবাংলা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পরই প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানোকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলেন ডা. দীপু মনি। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আগামী দিনগুলোতে কিভাবে এগিয়ে যেতে চান, জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করা অবশ্যই আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা বাদ দিলে সব ধরনের বাধা বিপত্তি এড়িয়েই আমরা এসএসসি পরীক্ষা সফলভাবে নিতে সক্ষম হয়েছি। আমি এর কৃতিত্ব দিতে চাই শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থাসমূহ ও মন্ত্রণালয়ের সবাইকে। আমরা ভবিষ্যতেও এভাবে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাব ইনশাল্লাহ।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ইশতেহারে ২১টি অঙ্গীকারের মধ্যে অন্যতম ছিল ‘সব স্তরে শিক্ষার মান বাড়ানো’। এই অঙ্গীকার কিভাবে বাস্তবায়ন করবেন—

জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী শিক্ষা খাত যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশকেও সেই ধারাতে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি এখন প্রায় ৮ শতাংশ। আমরা আশা করছি খুব দ্রুতই এটা ১০ শতাংশে উন্নীত হবে। এই গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য আমি কাজ করতে চাই। জীবনব্যাপী শিক্ষাই হতে যাচ্ছে একুশ শতকের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। এই শিক্ষা বৈশ্বিক অর্থনীতির সবচেয়ে বড় খাত, যা খুব দ্রুত বর্ধিত হচ্ছে। আমরা সেই ধারাতে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে একটি উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, শিশুদের ছোটবেলা থেকেই কঠোর প্রতিযোগিতার মাঠে ঠেলে দেওয়ার পক্ষে আমি নই। আমি সবসময় চাই, তাদের শৈশব যেন কোনোভাবেই পড়ালেখার অতিরিক্ত চাপে নষ্ট না হয়। তবে তারা যেন বয়স অনুযায়ী অতিরিক্ত কোনো চাপ না নিয়েও সঠিক শিক্ষাটি পেতে পারে। শিক্ষার অভিজ্ঞতা যেন আনন্দময় হয়। কারণ জাতির জনকের সোনার বাংলা গড়তে প্রয়োজন সোনার মানুষ। আর সেই মানুষ গড়তে প্রথমেই প্রয়োজন মানসম্মত শিক্ষা। শিশুদের সেই মানসম্মত শিক্ষার মাধ্যমে জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তবে আমাদের আরও অনেক দূর যেতে হবে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আমরা সেই পথ পাড়ি দিতে চাই।

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয় ডা. দীপু মনিকে। দেশের প্রথম নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর কোন বিষয়গুলোকে চ্যালেঞ্জ বলে মনে হয়েছিল— জানতে চাইলে দীপু মনি বলেন, ওই সময় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ছিলাম। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বহির্বিশ্বের সঙ্গে দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিল খুবই স্পর্শকাতর অবস্থায়। সংখ্যালঘু নির্যাতন, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা, দেশে ক্রমবর্ধমান জঙ্গি তৎপরতা ও জোট সরকারের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার মতো কারণে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছিল। নির্বাচনের আগেও দলের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপকমিটির সদস্য হিসেবে আমি চেষ্টা করেছি, অসাম্প্রদায়িকতা ও গনতন্ত্রের পক্ষে এবং জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যে আমাদের দলের অবস্থান, সেই বার্তাটি সবার কাছে পৌঁছে দিতে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর নৌকা প্রতীক নিয়ে আমি চাঁদপুর-৩ আসনে জয়লাভ করি। ওই সময় বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেন। আমি চেষ্টা করেছি, সরকারের নীতি অনুযায়ী সারাবিশ্বের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার।

দীপু মনি বলেন, ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’— এই নীতির আলোকে বহির্বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করেছি। আমাদের লক্ষ্য ছিল প্রতিবেশী সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে বহুমুখী সহযোগিতা জোরদার করা। পাশাপাশি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় জোরালো ভূমিকা রাখাসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা পুনরুদ্ধার। মন্ত্রী হয়েই আমি চেষ্টা করি, ইশতেহারের এই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশকে সামনে দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। সেই লক্ষ্যে বহুপাক্ষিক বিভিন্ন বৈঠক ও ফোরামে যেতে শুরু করি। এসব ফোরামে অনেক কম সময়ে একাধিক দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের সুযোগ ছিল এবং বাংলাদেশ সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরী করার সুযোগ ছিল। সেই সুযোগটিই আমি কাজে লাগিয়েছি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সময় বেশিরভাগ সময় বিদেশ সফরে কাটিয়েছেন— এমন একটি অভিযোগ ছিল ডা. দীপু মনির বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোর্শেদ খানও একবার বলেছিলেন, ‘বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী শুধু ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সগুলোতে যান কেন? পররাষ্ট্রমন্ত্রী যাবেন বাইল্যাটারাল (দ্বিপাক্ষিক) বৈঠকে। বহুজাতিক সম্মেলনে যান কেন?’

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে দীপু মনি বলেন, আমার দায়িত্ব ছিল সারাবিশ্বের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা। আমি যদি দ্বিপাক্ষিক সফরে সীমাবদ্ধ থাকি, পাঁচ বছরে কয়টি দেশের সাথে বৈঠক করতে পারতাম? আবার কোনো দেশে একবার গেলেই তো সেই দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে না। সেক্ষেত্রে তিনটি আন্তর্জাতিক বা আঞ্চলিক ফোরামে গিয়ে যদি এক দেশেরই প্রতিনিধির সঙ্গে তিনটি বৈঠক করতে পারি, তখন আসলে ওই সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগটা তৈরি হয়। সে কারণে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের দৃশ্যমানতা তৈরি এবং সক্রিয় ও অবদানক্ষম ভূমিকা তুলে ধরতে বহুপাক্ষিক সম্মেলনগুলোতে গেছি। ওই সময় দেখা যেত, তিন দিনের একটি সম্মেলনে সাইড লাইনে ১০ থেকে ১৫টি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করছি। এসবের মাধ্যমে দেখা গেল, মাস ছয়েকের মধ্যেই হয়তো অনেক দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথম দেখা থেকে শুরু করে ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠছে। তাদের সঙ্গে পরে কেবল ফোনালাপের মাধ্যমেই অনেক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা যেত। আমরা তার সুফলও পেয়েছি সকল ক্ষেত্রে।

সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওই পাঁচ বছরে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে আমি কোনো নির্বাচনে হারিনি। জাতিসংঘে কিছু ‘ফ্লোটিং’ ভোট আছে। সেগুলো পাওয়ার জন্য সেই ব্লকের প্রধান কাউকে কনভিন্স করে বাকি ভোটগুলো নেওয়ার চেষ্টা করেছি। একইভাবে অন্যান্য অঞ্চলেও একই পলিসিতে সম্পর্ক উন্নয়ন করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য অবিরাম কাজ করে গেছি। শুধু তাই নয়, কোনো কর্মঘণ্টাও ছিল না আমার। কোনোদিন সকালে অফিস করেছি, কাজ থাকলে বিকেলে পার্টি অফিসে গেছি। আবার সন্ধ্যায় হয়তো বাসায় এসে ১০ মিনিটে একটু স্যুটকেস প্যাক করে ফ্লাইট ধরেছি। পরদিন সকাল সাড়ে ৭টায় নিউইয়র্কে নেমে সাড়ে ৮টার মিটিং ধরেছি। এরপর সারাদিন তো মিটিং আছেই। তারপর আবার কমিউনিটি মিটিং! দেখা গেল, রাত দেড়টা-২টা পর্যন্ত মিটিং করে ঘুমিয়েছি, সকালে ৭টায় উঠে আবার ফ্লাইট। আবার ঢাকা পৌঁছে বাসায় স্যুটকেস রেখেই চলে গেছি অফিসে।

ডা. দীপু মনির বাবা প্রয়াত এম এ ওয়াদুদ ছিলেন ভাষাবীর ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীও ছিলেন। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হওয়ার সেই প্রভাব নিজের ওপর কতটুকু পড়েছে— জানতে চাইলে দীপু মনি বলেন, বাবা রাজনীতিবিদ হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই রাজনৈতিক সচেতনতা কাজ করত। ছোটবেলা থেকেই রাজনীতিক হতে চেয়েছি। আর আমি যে সময়ে বড় হয়েছি, সেই সময়টি দেশের জন্য ভালো সময় ছিল না। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসীদের নির্যাতন করা হচ্ছিল, কারাগারে নেওয়া হচ্ছিল। বাবাকেও নিয়মিত কারাগারে যেতে হচ্ছিল। অন্য ছেলেমেয়েদের কিন্তু সেই রাজনৈতিক সচেতনতা ছিল না। তাদের কাছে বাবা কারাগারে যাওয়া মানেই চোর-ডাকাত। সহপাঠীদের এইরকম ধারণা আমার কিশোরী মনে প্রচণ্ড চাপ তৈরি করত। আমি ছিলাম হলিক্রসে, সেখানে আমার স্কুলের সিস্টার জোসেফ মেরী ছিলেন, তিনি আমাকে অসম্ভব মানসিক সমর্থন দিতেন। আবার মায়ের সঙ্গে নাজিমুদ্দিন রোডের জেলখানাতে যেতাম, সেটাও একটা অভিজ্ঞতা।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার দিনটির কথাও স্মরণ করলেন দীপু মনি। তিনি বলেন, আমার এখনও মনে আছে, ভোরে প্রচুর গোলাগুলির শব্দ ছিল। আমাদের কলাবাগানের বাসা ৩২ নম্বর থেকে কাছেই। বাবা প্রতিদিন অনেক ভোরে উঠতেন ঘুম থেকে, সকালে রেডিও শুনতেন। ওই দিনও (১৫ আগস্ট) তিনি চুপচাপ রেডিও শুনছেন, মশারি খুলে ভাঁজ করছেন। পাশের বাড়ির একজনকে আমরা খালু ডাকতাম। উনি এসে সোজা আমাদের বেডরুমে মেঝের মধ্যে বসে পড়লেন। বললেন, ‘ভাইসাহেব, বঙ্গবন্ধুকে তো মেরে ফেলল!’ বাবা নিশ্চুপ। প্রতিদিনের মতো সুন্দর করে মশারি ভাঁজ করলেন। প্রতিদিনের মতো অফিসে যাওয়ার জন্য তৈরিও হলেন। অফিসে বের হবেন, এমন সময়ে শোনা গেল আমাদের ড্রাইভারকে কেউ একজন শাসিয়েছেন। বাবাও তখন বললেন, কে শাসিয়েছেন দেখি! বলে অফিসে চলে গেলেন। আমরা বেশ ভয় পেয়েছিলাম। কিন্তু বাবা হতবিহ্বল হননি নেতাকে হারিয়ে। কষ্ট কাউকে বুঝতে দেননি।

দীপু মনি বলেন, পরে বাবাকে জিয়ার মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। বাবা বলেছিলেন, আমি তো বুট পড়া এই সরকারে যোগ দিতে পারি না। জেলখানায় নিয়ে যেতে চাইলে পারেন, কিন্তু নীতির সঙ্গে আপস করব না। আসলে যারা বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ ছিলেন বা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে রাজনীতি করতেন, তারা সবাই জানতেন বিপদ যেকোনো মুহূর্তে আসতে পারে। সেভাবেই প্রস্তুত থাকতেন তারা। বঙ্গবন্ধু বাকশাল করার পর বাবা তাকে বলেছিলেন, খড়গটা একটু দূরে ছিল, এখন ঠিক আপনার মাথার ওপরে আছে। উনারা হয়তো বুঝতে পেরেছিলেন, বঙ্গবন্ধু যা করতে চাইছিলেন তা হয়তো করতে দেওয়া হবে না। বঙ্গবন্ধু দুর্নীতির বিরুদ্ধেও খুব জোরালো অবস্থান নিয়েছেন, দেশের স্বার্থে কারও সঙ্গে আপস না করার অবস্থান নিয়েছেন। তখন বাবারা হয়তো ধারণা করতে পেরেছিলেন, তার এসব পদক্ষেপগুলো যাদের বিরুদ্ধে যাবে, তারা হয়তো মরণ কামড় দেওয়ার চেষ্টা করবে।

দেশের প্রথম নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশের প্রথম নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন দেশের প্রথম নারী শিক্ষামন্ত্রী হিসেবেও কাজ করছেন। শীর্ষ পর্যায়ের নির্বাহী পদে নারী হিসেবে কাজ করাকে বাড়তি চ্যালেঞ্জ মনে করেন কি না— জানতে চাইলে দীপু মনি বলেন, বাংলাদেশের নারীরা আজ কোথাও পিছিয়ে নেই। তাই নারী হিসেবে আমি এই দায়িত্বকে কোনো চ্যালেঞ্জ মনে করি না। সব খাতেই এগিয়ে যাচ্ছে নারীরা। উদ্যোক্তা, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু করে দেশের সামরিক বাহিনীতেও আজ নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে। আর যে দেশের নারীরা এভাবে এগিয়ে যেতে পারে, সে দেশের অগ্রযাত্রা কেউ রুখতে পারে না।

সারাবাংলা/টিআর

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন