শুক্রবার ১৯ জুলাই, ২০১৯ ইং , ৪ শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৫ জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

শঙ্কায় হকি নির্বাচনের ভবিষ্যৎ

এপ্রিল ৪, ২০১৯ | ৯:০৪ অপরাহ্ণ

জাহিদ-ই-হাসান, স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট।।

ঢাকা: বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে হকি নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই দুপুরে এই নির্বাচন স্থগিত করে দিয়েছে এনএসসি। এ নিয়ে হকি পাড়ায় বিরাজ করছে চরম অস্থিরতা। প্রার্থীরা বলছেন, নির্বাচন বানচাল করতে একটি চক্র উঠেপড়ে লেগেছে।

হকির নির্বাচন নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। একইসঙ্গে নির্বাচনের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কায় আছেন প্রার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন চূড়ান্ত ভোটার তালিকার ওপর স্থগিতাদেশ দেন। এর আগে বুধবার (৩ এপ্রিল) জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচন স্থগিতের বিষয়টি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরে বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন নির্বাচনে অংশ নিতে চাওয়া এক পক্ষের প্রার্থীরা।

এর পরপরই এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মোহামেডানের কাউন্সিলর মমিনুল হক সাঈদ ও ঊষা ক্রীড়া চক্রের কাউন্সিলর আব্দুর রশিদ শিকদার। এই দুই ক্লাবের প্রার্থী সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই নির্বাচন পেছানোসহ একটি স্বার্থান্বেষী মহল যেন উপকৃত হয়, সে জন্য চক্রান্ত করা হচ্ছে। গতকালের (বুধবার) সই করা বিজ্ঞপ্তি নিয়ে নির্বাচন স্থগিত করেছে এনএসসি। যেখানে বিকেলে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করার কথা ছিল। যদি একটি ভোটারের সমস্যা হয়, তাহলে তাকে স্থগিত করুক। কিন্তু পুরো নির্বাচন তো একজন ভোটারের জন্য স্থগিত করা উচিত নয়।’

বিজ্ঞাপন

হকির নির্বাচন নিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেন এই প্রার্থীরা। তারা বলেন, ‘আর চার দিন পর নির্বাচন। আমরা সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। একদিন আগে করা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে কিভাবে আজকে নির্বাচন স্থগিত করে, তার যৌক্তিকতা খুঁজে পাই না।’ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে কিভাবে প্রার্থী হয়, সে বিষয়েও প্রশ্ন তুলেন এই দুই প্রার্থী।

তবে প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আব্দুস সাদেক। তিনি বলেন, ‘অভিভাবক শূন্য হয়ে গেল হকি ফেডারেশন। ঠিক সময়ে নির্বাচন হওয়া দরকার।’

এদিকে, হকি নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটার তালিকা নিয়ে উদ্ভূত সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এ স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ আলম সরদার বলেন, ‘হাইকোর্টের একটি রুল আছে। পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত রাখা হবে।’

হকি ফেডারেশনের নির্বাচনকে সামনে রেখে এবার ২৮ পদের জন্য ৬৮টি মনোনয়ন আবেদনপত্র জমা পড়ে। সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য তিন জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। এই তিন জন হলেন— মোহামেডানের কাউন্সিলর মমিনুল হক সাঈদ, ঊষা ক্রীড়া চক্রের আবদুর রশিদ শিকদার ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের আবদুস সাদেক। সমঝোতার ঐতিহ্য ভেঙে এবার নির্বাচন করার বিষয়ে অনড় ছিল দুই পক্ষই। বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) ছিল নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের দিন।

উল্লেখ্য, সবশেষ ২০১৩ সালে নির্বাচন হয়েছিল হকিতে। তারপরে অনেক জল গড়িয়েছে নির্বাচন নিয়ে। অনেক বাক্য বিনিময় হলেও নির্বাচন করা আর সম্ভব হয়নি। মাঝে বন্যার কারণ দেখিয়েও নির্বাচন স্থগিত করেছে এনএসসি। আজ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের এই স্থগিতাদেশের ঘোষণার পরে দেখার বিষয় কোন দিকে গড়ায় নির্বাচনের জল।

সারাবাংলা/জেএইচ/এসবি

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন